২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের নামে ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠন অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবি


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে গজিয়ে ওঠা শতাধিক ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠন অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের সংখ্যা কত এবং তাদের কাজই বা কী তাও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন তারা। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা এসব ভুঁইফোড় সংগঠন আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণœœ করছে। এদের এখনই নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

মঙ্গলবার ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভায় দলের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব দাবি জানান। বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত হলেও কোন ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। মূলত আজ বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় শোভাযাত্রা কর্মসূচী সফল করতেই এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, যৌথ সভায় যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার প্রশ্ন রেখে বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ৮শ’ থেকে ৯শ’। এদের মধ্যে কিছু সিনিয়র নেতা আছেন তাঁরা দলের জন্য কাজ করেন। আর বেশিরভাগ সহ-সম্পাদক আছেন যারা শুধু ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে আর বিশাল বিশাল বিলবোর্ড বানিয়ে নিজেদের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতার পরিচয়ে তাদের তদ্বির করতেও দেখা যায়। কেন্দ্রীয় অফিসেও অনেক সময় দলের সিনিয়র নেতারা চেয়ার পান না, দখল করে রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয়দানকারী কিছু সহ-সম্পাদকরা। তারা কী শুধু অনুষ্ঠানে আসেন চেয়ার দখলে রেখে টিভিতে নিজেদের চেহারা দেখানোর জন্য? এসব করার জন্যই কী তাদের সহ-সম্পাদক করা হয়েছে? তারা কী কাজ করছে দলের জন্য?

হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, দলের দুর্দিনে কেউ মাঠে ছিল না। জাতির পিতার নামও কেউ মুখে নেয়নি। দল ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু, শেখ পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে শত শত ভুঁইফোড় সংগঠন গজিয়ে উঠেছে। তারা কাজের কাজ কিছুই করে না। শুধু দলের দুর্নাম ও নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সুনাম নষ্ট করতে যা যা করার দরকার তাই করে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সূত্র জানায়, ভুঁইফোড় সংগঠন এবং এসব সংগঠনের নেতাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং নজরদারিতে রাখার দাবি জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোঃ আবু কাওছার, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সনালসহ আরও ক’জন সহযোগী সংগঠনের নেতা।

যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সলান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর, মহিলা লীগের সভাপতি আশরাফুন্নেছা মোশাররফ, কৃষকলীগের সভাপতি মোতাহের হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মোল্লা মোঃ আবু কাওছার, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আহমদ হোসেন, আবদুল মান্নান খান, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ডাঃ বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে মাহবুবউল আলম হানিফ বিজয় দিবসের র‌্যালি সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হচ্ছে। ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ছিন্ন করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এ জন্য এই বিজয় দিবস বিজয়ের নতুনমাত্রা যোগ করবে। ভিন্ন আঙ্গিকে আড়ম্বরপূর্ণ বিজয় দিবস পালন ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি করার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের সব ষড়যন্ত্র চক্রান্ত প্রতিহতের শপথ নিতে হবে।