১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে ॥ প্রধানমন্ত্রী


বিডিনিউজ ॥ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের কাজ শেষ করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক এস ভি কিরিয়েঙ্কো মঙ্গলবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

শেখ হাসিনা বৈঠকে বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য পূরণে মানসম্পন্ন বিদ্যুত সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের কাজ শেষ করতে হবে। ২০১৩ সালের মার্চে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ ২০১৭ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২০১০ সালে সংসদে প্রস্তাব পাস করা হয়, গঠন করা হয় একটি জাতীয় কমিটি। ওই বছরই রাশিয়ার সঙ্গে একটি কাঠামো চুক্তি করে সরকার এবং ২০১১ সালের নবেম্বরে পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে দুই দেশ চুক্তি করে।

২০১৩ সালের অক্টোবরে পাবনার রূপপুরে এই বিদ্যুতকেন্দ্রের ভিত্তিস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুই হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি ২০২১ সালের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪ হাজার কোটি টাকা রুশ ফেডারেশন দেবে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে। ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের কাজ নির্ধারিতসূচী অনুযায়ী এগোচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন রোসাটমের মহাপরিচালক।

ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপও করেন।

এই বিদ্যুতকেন্দ্রের নিরাপত্তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে এস ভি কিরিয়েঙ্কো প্রধানমন্ত্রীকে জানান, এটি স্থাপনের পাশাপাশি রাশিয়া পারমাণবিক বর্জ্যও নিয়ে যাবে।

বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন অনুস্বাক্ষর,

স্টাফ রিপোর্টার ॥ টাকার অঙ্কে দেশের সব থেকে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন অনুস্বাক্ষর হয়েছে। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কেন্দ্র স্থাপন করতে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বিলিয়ন ৬৫ মিলিয়ন ডলার। টাকার অঙ্কে প্রকল্পের ব্যয় এক লাখ এক হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১১ বিলিয়ন ডলার বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণে খরচ হবে। আর এক দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার সুদ হিসেবে রাখা হয়েছে। স্বল্প সুদে এই অর্থ ঋণ দেবে রাশিয়া। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ২০২১ সালে বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু করা হবে। এখনও পর্যন্ত দেশে একক কোন প্রকল্পে এর থেকে বেশি বিনিয়োগ হয়নি।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও আনবিক শক্তি কমিশন কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে এই অনুস্বাক্ষর হয়। এ সময় রুশ পরমাণু সংস্থার কর্মকর্তা এসভি কিরিয়েনকো ও বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুস্বাক্ষরের মাধ্যমে উভয় দেশ বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের সকল শর্ত বা নিয়মে একমত হল। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ত্রিক্রংকিয়ানো সাক্ষাত করেন। নিজস্ব বিমানে মঙ্গলবার ত্রিক্রংকিয়ানো বাংলাদেশ আসেন। অনুস্বাক্ষর শেষে দুপুর দেড়টায় আবার রাশিয়া চলে যান।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: