২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রাজাকাররা আমার বাবাকে নির্যাতন করেছিল ॥ রাষ্ট্রপতি


বিডিনিউজ ॥ ছেলে মুজিববাহিনীর সাব-সেক্টর কমান্ডার, তাই একাত্তরে কিশোরগঞ্জের হাজী মোঃ তায়েব উদ্দিনকে রাজাকারবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল; স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেয়ার সুযোগ তার হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীর বিজয়ের ৪৪তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে আগুনঝরা সেই সব দিনের কথা স্মরণ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।

ছেলে যুদ্ধে যাওয়ার পর আরও অনেকের মতো ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তায়েব উদ্দিনকে। তিনি দেশে ফেরেন বিজয়ের আগের মাসে, ১৯৭১ সালের নবেম্বরে। ‘হি ওয়াজ টর্চার্ড বাই রাজাকারস। নবেম্বরেই বাড়িতে ফিরে মারা গেছেন’ বলেন হামিদ।

বিডিনিউজের সঙ্গে এক একান্ত আলাপচারিতায় রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেছেন তার ছাত্র রাজনীতি থেকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার দিনগুলোর কথা। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে সংযুক্ত অন্য তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এ সময়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে প্রথম পরিচয় এবং ভারতে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের অনেক ঘটনা যেমন এই আলোচনায় এসেছে, তেমনি এসেছে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে কষ্টের কথা, তরুণ প্রজন্মের কাছে একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যাশার কথা।

১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাধীন বাংলাদেশে যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছেন আবদুল হামিদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দু’বার জাতীয় সংসদের স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল আবদুল হামিদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তারপর থেকে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলেও ভাটি অঞ্চল তাঁকে এখনও টানে।

১৯৬২ সালের ৩১ ডিসেম্বর তখনকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা) কিশোরগঞ্জে গেলে তার সভা ভ-ুল করতে গিয়ে গ্রেফতার হন আবদুল হামিদ।

৭২ বছর বয়সী হামিদ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আগরতলায় রিক্রুটিং ক্যাম্পে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। তখনকার সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলা নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) বা মুজিববাহিনীর সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে আবদুল হামিদকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে সরকার।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: