২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দেশে শরণার্থী চাপ কমাতে চান মের্কেলও


অনলাইন ডেস্ক ॥ শরণার্থী-নীতি বদলের ইঙ্গিত এ বার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের মুখেও। ‘মুক্তদ্বার নীতি’ থেকে কয়েক কদম পিছিয়ে এ বার তিনি চাইছেন, জার্মানির উপর শরণার্থীদের চাপ কমুক।

যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে আসা শরণার্থীদের ঢল সামলাতে এই মুহূর্তে নাজেহাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটা বড় অংশ। দলের বার্ষিক সমাবেশ অনুষ্ঠানে আজ সেই সমস্যার কথা মানলেন মের্কেলও। তাঁর কথায়, ‘‘এই মুহূর্তে ঐতিহাসিক একটা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে চলছে গোটা ইউরোপ। জার্মানিরও এক অবস্থা। তাই শরণার্থী স্রোতে বাঁধন দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।’’

দেশে আশ্রয় নিতে চাওয়া শরণার্থীর সংখ্যা চলতি বছরেই ১০ লক্ষ ছাড়াবে বলে দাবি প্রশাসনের। অর্থনীতিতে যার প্রভাব নিয়ে এরই মধ্যে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বার্লিন। মের্কেল ঠিক সেই কারণেই শরণার্থী-নীতি বদলের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন বলে মনে করছেন জার্মান কূটনীতিকদের একাংশ। অথচ মাস দুয়েক তিনিই শরণার্থীদের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া নিয়ে চরম আপত্তি জানিয়েছিলেন। মানবিকতার খাতিরেই যত বেশি সম্ভব শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে সওয়াল করেছিলেন মের্কেল। আজ সেই ‘মুক্তদ্বার নীতি’ প্রসঙ্গে ফের সেই মানবিকতার কথা বললেও, জার্মানি যে আর শরণার্থীদের জন্য দরজা খুলে রাখবে না, তা স্পষ্ট চ্যান্সেলরের বার্তায়।

কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দলীয় সমাবেশে কেন? কূটনীতিকদের মতে, ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়েই পিছু হটতে বাধ্য হলেন চ্যান্সেলর। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া এবং ইরাক থেকে শরণার্থীদের বেশে জঙ্গি ঢুকে পড়তে পারে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক সদস্য দেশ। প্যারিস হামলায় জড়িত এক জঙ্গি সিরীয় শরণার্থীদের পথ দিয়েই এসেছিল বলে মনে করেন গোয়েন্দারা।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া জার্মানির পাশে দাঁড়াতে চাইলেও হাঙ্গেরির মতো কিছু দেশ শরণার্থী নীতি নিয়ে প্রথম থেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে জার্মানিকে। নিজের দলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাননি মের্কেল। গত সপ্তাহেও এ নিয়ে জার্মান পার্লামেন্টের অধিবেশনে বিস্তর জলঘোলা হয়। ফলে, সুর বদলাতে বাধ্য হয়েছেন মের্কেল।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: