২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৯ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

লি পেনের ভরাডুবি ॥ ফ্রান্সে আঞ্চলিক নির্বাচন


ফ্রান্সের চরমডানপন্থী ফ্রন্ট ন্যাশনাল (এফএন) রেকর্ড সংখ্যক ভোট পাওয়া সত্ত্বেও রবিবারের নির্বাচনে একটি অঞ্চলেও জয়ী হতে পারেনি। কারণ প্রথম দফার ভোট এফএনের জয়লাভের পর দলটিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে ভোটাররা পুরনো দলগুলোকেই সমর্থন করে। ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসনবিরোধী এফএন ঐ আঞ্চলিক নির্বাচন দলের নেত্রী ম্যারিন লি পেনের জন্য এক সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করেছিল। খবর এএফপি ও টেলিগ্রাফের।

এফএন ফ্রান্সের ১৩টি অঞ্চলের কোনটিতেই ক্ষমতায় যেতে না পারায় এক ঐতিহাসিক নির্বাচনী জয়লাভের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্টরা প্রত্যাশার চেয়েও ভাল ফল করেছেন বলে মনে হয়। তারা পাঁচটি অঞ্চলে জয়ী হয়েছেন।

আর বিরোধী মধ্য ডানপন্থীরা ১৯৯৭ সালের পর প্রথমবারের মতো প্যারিস অঞ্চলসহ সাতটিতে জয় পেয়েছেন। এফএন জাতীয় ভোটের সংখ্যার ভিত্তিতে সর্বোত্তম ফল করলেও উত্তরাঞ্চলীয় নর্দ পাস দ্য ক্যালাইস পিক দি অঞ্চলে দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণের আগে ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্টরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার পর নেত্রী ম্যারিন ডানপন্থী বিরোধী দলের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। তার বিরুদ্ধে জয়ী হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিকোলাস সারকোজির রিপাবলিকান পার্টির জেভিয়ার বার্ত্রান্দ। জয়ী প্রার্থী পান শতকরা প্রায় ৫৮ ভাগ এবং ম্যারিন শতকরা ৪২ ভাগ ভোট পান। লি পেনের ভাগিনী ম্যারিও মারেশাল লা পেন ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রভেন্স আল্পস কোত দ্য আডুর অঞ্চলে ডানপন্থী প্রার্থী ক্রিস্তিয়ান এস্ত্রোসির কাছে পরাজয় স্বীকার করেন। এফএন ৬ ডিসেম্বর প্রথম দফা ভোটে ছয়টি অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়ার পর অন্তত তিনটি অঞ্চলে ক্ষমতায় যাওয়ার উচ্চাশা পোষণ করেছিল। দেশের কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিজনিত উদ্বেগ এবং প্যারিসে গত মাসের জিহাদীয় হামলায় ১৩০ ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর সৃষ্ট আশঙ্কা প্রথম দফায় জয়ী হতে এফএনের পক্ষে সহায়ক হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভোটারের উপস্থিতি এবং সোশ্যালিস্ট সমর্থকদের কৌশলপূর্ণ ভোটদানের কারণে এফএনের আশাভঙ্গ হয়। সোশ্যালিস্টরা এফএনকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে দলে দলে মূলধারার ডানপন্থী দলকে ভোট দেন। ওলাঁদের সোশ্যালিস্টরা পাঁচটি অঞ্চলে তার পূর্বসূরী সারকোজির মধ্য ডান জোট সাতটি অঞ্চলে এবং ন্যাশনালিস্টরা কর্সিকায় জয়ী হন। সোশ্যালিস্ট প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভ্যালস সতর্ক করে দেন যে, নির্বাচনের এরূপ ফলাফল সত্ত্বেও চরম ডানপন্থীদের হুমকি এখনও দূর হয়নি।

রিপাবলিকান পার্টির নেতা সারকোজি ভোটারদের প্রশংসা করেন, কিন্তু তিনি বলেন, প্রথম দফা নির্বাচনের ‘সতর্ক সঙ্কেত’ অবশ্যই ভোলা যাবে না। এফএন গত দু’বছর ধরে ইউরোপীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে এসেছে। এতে এটি ‘ফ্রান্সের প্রথম দল’ বলে লি পেনের দাবিই শক্তিশালী হয়েছে। এফএন রবিবার জাতীয় ভিত্তিতে ৬৮ লাখ ভোট পেয়ে এর সর্বোত্তম ফল করেছে। দলটি প্রথম দফায় ৬০ লাখ ভোট পায় এবং ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লি পেন ৬৪ লাখ ভোট পান। কিন্তু ফলাফল থেকে আবারও দেখা গেল যে, যখন মূল ধারার ডান ও বামপন্থী ভোটাররা দলটিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে একতাবদ্ধ হয়, তখন দলটি চূড়ান্ত দফায় কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। ২০০২ সালে তেমনই ঘটেছিল। তখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে ভোটাররা ম্যারিনের পিতা জাঁ-ম্যারি লি পেনের বিরুদ্ধে জ্যাঁক শিরাককে সমর্থন করেন। নির্বাচনের ফলাফল সারকোজির জন্য অপেক্ষাকৃত হতাশাব্যঞ্জকই ছিল। তার দল বামপন্থী ভোটারদের সমর্থন ছাড়া মাত্র চারটি অঞ্চলে জয়ী হয়।