১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিপজ্জনক


দশ বছর আগে নিষিদ্ধ হওয়া জঙ্গী সংগঠনটি পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। নানা সময়ে নিজের অস্তিত্ব স্বীকার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে। এদের পুন:আত্মপ্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। যখন মহাসড়কে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে তিনজন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গীকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের আজও আটক করা যায়নি। এরা ভারতে পালিয়ে গেছে বলে বাংলাদেশের কাছে তথ্য রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও তারা তৎপর। সেখানে তারা অস্ত্র, গ্রেনেড ও বোমা কারখানা গড়ে তুলেছিল, যা বাংলাদেশের জেএমবিকে সরবরাহ করা হতো। জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি নামক সংগঠনটি দেশে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরা ইতোমধ্যে আত্মঘাতী স্কোয়াডও গঠন করেছে বলে ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা ফাটিয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল জেএমবির। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রশ্রয়ে শায়খ রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান বাংলাভাইয়ের নেতৃত্বে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে জঙ্গী রাজত্ব কায়েম করে। বেশ কিছু সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানোর পর ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গণবিক্ষোভের মুখে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করা হয়। বিচারে এদের ৬ জনের ফাঁসি হয় দলনেতাসহ। এরপর ধারণা করা হয়েছিল, জেএমবি দুর্বল হয়ে গেছে। কিন্তু ১০ বছরের মধ্যে আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলে। দেশের অন্যত্রও এদের জঙ্গী সদস্য রয়েছে। এখন সংগঠনটিতে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আরও সক্রিয় হচ্ছে। জেএমবির ব্যানারে দেশজুড়ে নাশকতা তৈরি করার নেপথ্যে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা ও সরকার পরিবর্তন। দেশকে অস্থিতিশীল করতে তাই জামায়াতী ক্যাডাররা জেএমবিকে সংগঠিত করেছে। এদের পেছনে যেমন রাজনৈতিক মদদ রয়েছে, তেমনি রয়েছে অর্থের যোগান। এরা বাংলাদেশে অপারেশন চালিয়ে সীমান্তের ওপারে চলে যায়। সেখানে তাদের ঘাঁটি রয়েছে। এদের অস্ত্র কারখানা পাওয়া গেলেও অনুসারীরা থেমে নেই। দেশের উত্তরাঞ্চলে এদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে চলতি বছরের গোড়ার সময়ের মতো নাশকতা চালাতে পারে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এরা দেশের উত্তরাঞ্চলে অতীতের মতো ঘাঁটি গেড়েছে। অঞ্চলটি তাদের বিচরণ ক্ষেত্রের জন্য সেরা। এখানকার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা ঘিরে প্রশিক্ষণ চলছে। সদস্য সংগ্রহের জন্যও এরা এই অঞ্চলকে গুরুত্ব দেয়। এরা বয়সে তরুণ। তাই এদের শনাক্ত করা দুরূহ পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের। এরা অবলীলায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যায়। দেখা গেছে, গাজীপুরে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গীদের অধিকাংশই ওই এলাকার হোসেনী দালান ও দারুস সালাম থানা পুলিশের ওপর হামলাকারীরাও। সর্বশেষ, বগুড়ার মসজিদে হামলার ঘটনার পর উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলায় অভিযান চালিয়েও কাক্সিক্ষত সাফল্য আসেনি। জেএমবির উর্বর চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে দিনাজপুরকে। গত ১ মাসে ৫টি জঙ্গী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগই টার্গেট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। গত ৭ দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি উপাসনালয়ে হামলা হয়েছে। সর্বশেষ ইসকন মন্দিরে হামলার ঘটনায় জনগণ এগিয়ে এসে হামলাকারীকে ধরিয়ে দিয়েছে। হিন্দু, খ্রীস্টান ও শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মাধ্যমে জেএমবি নিজেরা যেমন আন্তর্জাতির পরিচিতি পেতে চায়, তার চেয়েও বেশি চায় বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের দেশে পরিণত করতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদের তকমা দিতে প্রস্তুত প্রায়। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থাও এদের পুরনো পৃষ্ঠপোষক। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের বৈঠকে জেএমবি আবারও আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়গুলো বিপজ্জনক। জেএমবির নেতাকর্মীরা জামিনে ছাড়া পায় কিভাবে সে নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠবেই। জনগণ চায় সকল জঙ্গীবাদের উৎসমূল নিমূর্ল করতে। সরকারকে এ ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।