২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বেশি বয়সে বিয়ে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা


ক্যান্সার হওয়ার ভয়ে নিজের দুটো স্তনই অস্ত্রোপচার করিয়ে বাদ দিয়েছে হলিউডের নায়িকা এ্যাঞ্জেলিনা জোলি, গোটা বিশ্বকে সদর্পে জানিয়েও দিয়েছেন সেই কথা।

এই সাহস কজন অল্প বয়সী মহিলা দেখাতে পারে! হোক কলরব, এর সঙ্গী থাকা বিশ্বের মহিলারা কতটা ক্যান্সারের সঙ্গে লড়বে। কতটা সাবালক সচেতনতায়! চিন্তিত বিশ্বের মহিলারা। এখনও ক্যান্সার নিয়ে কুসংস্কারের চাষ হচ্ছে গ্রামগঞ্জে এমনকি শহরেও। অজ্ঞতার জন্যই স্তনক্যান্সার বাড়ছে, বাড়ছে মৃত্যু। আগে ধারণা ছিল, মেনোপঞ্জের পর এই রোগ থাবা বসায় মহিলাদের শরীরে। অর্থাৎ স্তনক্যান্সার মানে বেশি বয়সের রোগ। কিন্তু এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অল্প বয়সীদের স্তনক্যান্সার বাড়ছে। স্তনক্যান্সারের শিকার হওয়া ৩৫ শতাংশের বয়স পঁয়ত্রিশের নিচে। বদলে যাওয়া এই ট্রেন্ড নিয়ে শুরু হয়েছে দুশ্চিন্তা। সেলিব্রিটিরাও সচেতনতা বাড়াতে প্রচার করছেন। শুধু এ্যাঞ্জেলিনা জোলিই নন, সিন্থিয়া নিক্সন, রবিন রবার্টস, ক্রিস্টিনা এ্যাপলিগেট, ক্যাথে বেটস, একঝাঁক সেলিব্রোট স্তনক্যানসার প্রতিরোধের ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসাডর হয়ে উঠেছিলেন। যদিও জোলির দেখানো পথে ম্যাসটেকটমি করে স্তন বাদ দেয়ার বিরোধী বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, স্তনক্যান্সারের ক্ষেত্রে জিনগত গঠন ১০ শতাংশ দায়ী। শুধু আশঙ্কার বশে ম্যাসটেকটমি ঠিক নয়। আবার দেখা যায় বিশ্বজুড়ে স্তনক্যান্সারের সচেতনতায় অক্টোবরকেই বেছে নেয়া হয়। বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পথযাত্রা ও নানা রকম সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়। কিন্তু বিশ্ববাসী মহিলাদের কি ঘুম ভাঙবে? নিয়মিত পরীক্ষা করাবেন? চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিন্তু কিছু দেশ এখন অনেকটাই সাবালিকা ম্যামোগ্রাফির মাধ্যমে সহজেই স্তনক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তনক্যান্সার সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯২-৯৫ শতাংশ। তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৫০-৫৬ শতাংশ। মাত্র ছ’মাসের চিকিৎসাতেই শাপমুক্তির সম্ভাবনা। তাছাড়া সব সময় স্তন বাদ দিতে হয় এ কথাও ঠিক নয়। মার্কিন গবেষকরা জানিয়েছেন, ২৩-২৭ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করে ত্রিরিশের মধ্যে দুটি সন্তানের মা হতে হবে এবং সন্তানদের অন্তত ছ’মাস স্তন্য পান করাতে হবে। তবেই স্তনক্যান্সারের সম্ভবনা ৬০ শতাংশ কমিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ক’জন মহিলা জানেন এই তথ্য? জানলেও মানছেন ক’জন? ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে এখন তো পঁয়ত্রিশের আগে ছাদের তলায় যেতেই পারছে না ওয়ার্কিং লেডিরা। অনেকে আবার ত্রিশের মধ্যে বিয়ে করলেও ফ্যামিলি প্ল্যানিং শুরু করেছেন দেরিতে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, সন্তান ধারণের সঙ্গে মহিলাদের শরীরে প্রোল্যাকটিন প্রোজেস্টরণ হরমোন নির্গত হয় যা ক্যান্সারের সম্ভবনা কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। সূত্র : ক্যান্সার প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন