মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন ॥ সুচি

প্রকাশিত : ৩ নভেম্বর ২০১৫
  • ফের সেনা শাসন আসার আশঙ্কা সংখ্যালঘুদের

মিয়ানমারের বিরোধীদলীয় নেত্রী আউং সান সুচি রবিবার ইয়াঙ্গুনে তার হাজার হাজার সমর্থককে নির্বাচনে জালিয়াতির বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে করা সবচেয়ে বড় এই সমাবেশের মাধ্যমে সুচি তার বিশাল শক্তি প্রদর্শন করলেন। পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, আগামী রবিবার অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন হবে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিরপেক্ষ। তবে সাত দশকের বেশি সময় ধরে নির্যাতনের শিকার কারেন সম্প্রদায় আশঙ্কা করছে, নির্বাচনে যদি সেনারা ক্ষমতায় আসে তাহলে কারেন রাজ্যে পুনরায় ব্যাপক দমন পীড়ন চলবে এবং এর ১৫ লাখ লোক চরম দুর্দশার মধ্যে পতিত হবে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ইয়াহু নিউজের।

সুচির গণতন্ত্রপন্থী দল গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ইয়াঙ্গুনের মাই য়ো মঠের কাছে এক সমুদ্র সমর্থকদের উদ্দেশে ৭০ বছর বয়সী সুচি বলেন, নির্বাচনে আমাদের নোংরা পন্থা অবলম্বনের প্রয়োজেন নেই। আমরা সঠিকভাবে জয় না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কাজ করে যাব। তবে এজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। মিয়ানমারের পরবর্তী সরকার গঠনে তার দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি উদ্যম তৈরি করেছেন। রবিবার বিকেলে এই জনসভায় ভাষণ দেয়ার আগে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে সুচি বলেছেন, সরকার গঠন করতে আমি ১০০ শতাংশ জয় চাই।

আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইনি তখন আমরা কি করবো, এমন প্রশ্ন আমরা শুনতে চাই না। তাই আমাদের সব আসনই প্রয়োজন।

এটি ছিল বানিজ্যিক এলাকায় তার প্রধান এবং সবচেয়ে বড় সমাবেশ। ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেশটিতে ৮ নবেম্বরের নির্বাচনে সুচির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বেশির ভাগ আসন পাবে এবং তা সত্ত্বেও তাদের সামনে ব্যাপক বাধা রয়েছে। তা হলো সেনা সমর্থিত ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এনএলডির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। উপরন্তু সংবিধান অনুযায়ী সুচি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না আর রবিবারের সমাবেশ নির্দেশ করছে, তার দলের জনপ্রিয়তা তার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডে তৈরি। যদিও রবিবারের সমাবেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংকেতিক মূল্য রয়েছে। মিয়ানমারে নিযুক্ত সাবেক অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূত ট্রেভর উইলসন বলছিলেন, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, সুচির ব্যক্তিত্ব অসাধারণ। দেশজুড়ে তার দলেরই প্রচার চোখে পড়ে। তবে সেই প্রচারকেই জয়ের একমাত্র বিচার্য, তা বলা যাবে না। তবে এটাও ঠিক, সুচি ব্যাপক জনপ্রিয়। এবারের নির্বাচনে ৯৩টি রাজনৈতিক দলের ৬ হাজার ২০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিন কোটি ভোটার নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদিকে মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের সঙ্গে জাতিগত সংখ্যালঘু কারেনদের লড়াই বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম চলমান বিদ্রোহ। তাদের মাতৃভূমিকে বলা হয় ‘ গোপন দারফুর’। কোনে প্রায় তিন লাখ ৫০‘ হাজার লোক বাড়িঘর ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে এবং প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাই এবারের নির্বাচন তাদের কাছে মিযানমারের গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া অমসৃণ পথের চেয়েও বেশি কিছু।

এর মাধ্যমে তাদের দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাচ্ছে। তবে কারেন রাজ্যের রাজধানী হাপা-আনের আশপাশের কয়েক গ্রামের এক বয়োজেষ্ঠ্য হকান কাই মাইয়ান্ত বলেন, যদি সেনা সমর্থিত ইউনাইটেড সলিডারিটি এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) পুনরায় ক্ষমতায় আসে তাহলে আমাদের অবস্থা একই থাকবে। আমরা ভিক্ষুকই থাকবো। যদি তারা হেরে যায় তাহলে দেশে পরিবর্তন আসবে। এটিই শেষ ও চূড়ান্ত পরীক্ষা। কারেনরাসহ মিয়ানমারের পাঁচ কোটি ২০ লাখ লোকের মধ্যে ৪০ শতাংশই জাতিগত সংখ্যালঘুরা। ইউএসডিপি ও এনএলডি উভয় দলই জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলেছে, যদি তারা নির্বাচনে জয়ী হয় তাহলে তারা তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হবে। সুচি সংখ্যালঘুদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। এমনকি কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু রাজনৈতিক নেতা আশা করছেন যে, তাদের দল এনএলডির সঙ্গে জোট সরকারে থাকতে পারবে।

প্রকাশিত : ৩ নভেম্বর ২০১৫

০৩/১১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: