২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

তুরস্কে নির্বাচনে একেপির জয়


তুরস্কে রবিবার অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে রিসেপ তাইপ এরদোগানের নেতৃত্বাধীন জাস্টিস এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে। কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হানাহানির পর পুনরায় তুরস্কের রাজনীতিতে বিস্ময়করভাবে কর্তৃত্ব নিয়ে ফিরলেন ইসলামপন্থী এই নেতা। -খবর নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।

নির্বাচনের এই ফল নিঃসন্দেহে এরদোগানের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। গত কয়েকমাসের টালমাটাল অবস্থা এরদোগানকে রাজনীতিতে প্রায় কোণঠাসা করেছিল। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী তুরস্কে প্রেসিডেন্টের পদটি স্রেফ আনুষ্ঠানিক। এখন পার্লামেন্টে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এরদোগানের সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়বে। ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে, একেপি পেয়েছে ৪৯.৩ শতাংশ। ৫৫০ বিশিষ্ট পার্লামেন্টে ৩১৬টি আসনে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

তার এ জয়ের ফলে রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত তুর্কি সমাজে বিভক্তি আরও তীব্র হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন। সমালোচকরা বলছেন, এরদোগান বিরোধীদের সন্ত্রাসী ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে যেভাবে চিহ্নিত করেছেন সেটি সামগ্রিকভাবে ভোটের রাজনীতিতে তীব্র মেরুকরণ ঘটিয়েছে। তাছাড়া ভয়ভীতি দেখিয়ে বিরোধী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা যেভাবে হয়েছে, যেভাবে বিরোধী সমর্থক গণমাধ্যমে দমনাভিযান চালানো হয়েছে তাতে গণতন্ত্রেও প্রতি শাসকদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত পাঁচ মাসের মধ্যে এ নিয়ে তুরস্কে দ্বিতীয়বারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচন হলো। আগের নির্বাচনে শাসক দল যেভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল রবিবারের নির্বাচনে তারা ঠিক সেভাবেই ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। এরদোগানের কট্টর জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও কুর্দিদের প্রতি কঠোর মানসিকতা তার এবারের নির্বাচনে জয়ের নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে।

কুর্দি বিদ্রোহীদের দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে অনেকদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে সেখানে যুদ্ধ চলছে। আইএস বিরোধী বহুজাতিক বাহিনীর যুদ্ধে কুর্দিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। যুদ্ধ ক্রমেই দীর্ঘায়িত হওয়ায় জনগণের মধ্যে জাতীয়বাদী চেতনা জোরদার হয়েছে তারা সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এরদোগানের দলকে ভোট দিয়েছে। এরদোগানের বাজি কাজে লেগেছে বলে মনে করেন আঙ্কারাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনের নির্বাহী পরিচালক সুয়াত কিনিকিওগ্লু। দেশকে রাজনৈতিক অরাজকতা ও কুর্দিদের তৈরি করা সঙ্ঘাত থেকে বাঁচাতে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে সামনে নিয়ে আসেন এরদোগান। সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য কিনিকিওগ্লু এরদোগানের রাজনীতির একজন কট্টর সমালোচক। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের তুরস্ক বিষয়ক বিশ্লেষক নিগার গকসেল বলছেন, ‘এই নির্বাচনের জুনের আগের নির্বাচনের পাল্টা জবাব। কয়েক সপ্তাহ আলোচনা চালিয়েও কোন কোয়ালিশন শরীক হিসেবে কাউকে না পাওয়ায় শাসক দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল। এবার টানা কয়েক মাসের অরাজকতা ও সীমান্তে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চলায় জনগণ স্থিতিশীলতার পক্ষে ভোট দিয়েছে। জনগণ চেয়েছে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটুক। নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার আঙ্কারায় একেপির সদর দফতরের ব্যালকনি থেকে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দেয়া ভাষণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগ্লু সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জাানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সবাইকে নিয়ে একটি নতুন সংবিধান তৈরির জন্য আমি এবারে নির্বাচিত সব পার্লামেন্ট সদস্যের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।