২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, চুয়েট বন্ধ ঘোষণা


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্যে চুয়েটে পরীক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। সোমবার বিকেলে জরুরী বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে ছাত্রদের এবং মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে আবাসিক ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে সোমবার সকালে চুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ও যুগ্ম আহ্বায়ক মুসলেম উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়।

চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় পরীক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সকল শিক্ষা কার্যক্রম যথারীতি চলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর একটার দিকে চুয়েট ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান গ্রুপের তিন জনকে কুপিয়ে জখম করে যুগ্ম আহ্বায়ক মুসলেম উদ্দিনের গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে দু’গ্রুপের অন্তত আটজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে চারজনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রাফিদ, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফখরুল, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তানিম এবং কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নিশাত। এরা সবাই মেহেদী হাসানের অনুসারী বলে জানা গেছে। আহত অপর চারজনের নাম জানা যায়নি।

এ সম্পর্কে সৈয়দ মোহাম্মদ শাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও মেহেদী হাসানের অনুসারী সাম্য বলেন, মুসলেম উদ্দিনের অনুসারীরা কোন কারণ ছাড়াই শনিবার তাদের এক কর্মীকে মারধর করে। এর প্রতিবাদ করায় আজ তারা আমাদের তিন কর্মীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ড্রেনে ফেলে দেয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপর পক্ষের নেতা শাহ নেওয়াজ তানভীর বলেন, আমাদের জুনিয়রদের সঙ্গে মারামারি হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

উল্লেখ্য, শনিবার রাত ১টার দিকে চুয়েট ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান গ্রুপের কর্মী আকিবুল ইসলাম হৃদয়কে মারধর করে মুসলেম উদ্দিন গ্রুপের কর্মী হাবিব ও রুদ্র। এরপর উভয় গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে হামলা পাল্টাহামলা চলে। রবিবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে মিটমাট করে দেন।

চবিতে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ৩০, আতঙ্কে ভর্তিচ্ছুরা ॥ চবি সংবাদদাতা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার চবি ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিচার্জে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ, হাটহাজারী থানার ওসি ইসমাইল, ইসমাইলের সহকারী এনামুল হকসহ ছাত্রলীগের উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শাহজালাল ও শাহ আমানত হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বেলা পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত চলে তল্লাশি। এ সময় উভয় হল থেকে শতাধিক দা, ছুরি, কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শাহজালাল হল থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি পাইপ গান। ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

এদিকে সোমবার সকালে চবিতে ‘জি’ ইউনিট (ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ) এবং বিকেলে ‘আই’ ইউনিটের (ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স এ্যান্ড ফিশারিজ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে ‘জি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ফলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এছাড়া ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু শাহজালাল ও শাহ আমানত হলেও আটকা পড়ে অনেক ভর্তিচ্ছু।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সাড়ে এগারোটার দিকে চবি জিরো পয়েন্ট এলাকায় ভর্তিচ্ছুদের স্বাগত জানাতে অবস্থান নেয় চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনুসারীরা। এ সময় সভাপতির অনুসারীরা এসে লাইনে দাঁড়ানোর জায়গা না পেলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় সাধারণ সম্পাদক অনুসারীদের কিছু অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের বাইরে এবং কিছু অংশ শাহ আমানত হলে অবস্থান নেয়। পরে সভাপতির অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের সহায়তায় খোলা একটি হেল্প ডেস্ক ভাংচুর করেন। এ সময় তারা হেল্প ডেস্কের দায়িত্বে থাকা তিথি ও মুহি নামের দুই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করে। তিথি ও মুহি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী বলে জানা যায়।

এদিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শাহজালাল ও শাহ আমানত হলে অবস্থান নিয়ে উভয় গ্রুপ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। শাহজালাল হলে সভাপতির অনুসারী এবং আমানত হলে সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা অবস্থান নেয়। উভয় পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার শব্দও শোনা যায়। এ সময় শাহজালাল হল থেকে ছোড়া ইটের আঘাতে হাটহাজারী থানার ওসি মোঃ ইসমাইল আহত হন। পাশাপাশি স্পিøন্টারের আঘাতে আহত হন ইসমাইলের সহকারী এনামুল হক। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ এসে প্রথমে শাহজালাল ও পরে শাহ আমানত হলে লাঠিচার্জ শুরু করে।

পুলিশের এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর মাথা ফেটে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আহত হন। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীদের ছোড়া পাথরের আঘাতে আহত হন পুলিশের এএসপি শহিদুল্লাহ। তিনি পাথরের আঘাতে ডান হাতে গুরুতর আঘাত পান। এছাড়া লাঠিচার্জের সময় পুলিশ হলের অনেক কক্ষ ভাংচুর করে বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। হলের একটি সূত্র জানায়, হলের ডাইনিংয়ে অনেক শিক্ষার্থীসহ ভর্তিচ্ছুরা খাবার খাচ্ছিল। পুলিশ সেখানেই উপস্থিত হয়ে খাবার খাওয়া অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মারধর করে। হলের অভ্যন্তরে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীদের রক্ত।

এ বিষয়ে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এতে যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে দেয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবেন।’

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: