২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রঙের ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত শিল্পী নীপার ক্যানভাস


রঙের ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত শিল্পী নীপার ক্যানভাস

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবয়বের পরিবর্তে রঙের আশ্রয়ে চিত্রপট রাঙিয়ে তোলেন মাকসুদা ইকবাল নীপা। তুলির আঁচড়ে বর্ণের বুননে পরিস্ফুটিত হয় এই চিত্রকরের বিষয়। সেই সূত্রে রঙের ছোঁয়ায় শিল্পানুরাগীর কাছে প্রাণবন্ত হয়ে ধরা দেয় নীপার ক্যানভাস। বর্ণের বৈভবে ঘটে শিল্পীর অবারিত ভাবনার নান্দনিক প্রকাশ। গুলশান এ্যাভিনিউয়ের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে চলছে এই চিত্রশিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। শিরোনাম ক্রোমাটিক ডিলিউশান্স।

চিত্রকর্মে রঙের ব্যবহার প্রসঙ্গে মাকসুদা ইকবাল নীপা বলেন, রঙের বিন্যাসের মাধ্যমেই আমি বিশালতাকে অনুধাবনের চেষ্টা করি। স্তরে স্তরে বর্ণের বিন্যাসে সাজিয়েছি ক্যানভাস। সরাসরি কোন অবয়ব না এঁকে রঙের ওপর সওয়ার হয়ে প্রকাশ করেছি আপন ভাবনাকে। একটির সঙ্গে অপরটির মিল আছে এমন কাছাকাছি মনোক্রম রঙের সাহায্যে মেলে ধরেছি বিষয়কে। এর মাধ্যমে ছবিতে সহজেই সৃষ্টি হয়েছে মোহাচ্ছন্নতা বা ঘোর লাগানো ভাবের ব্যঞ্জনা।

রঙের ওপর রঙ চাপিয়ে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের মাঠের গল্প কবিতার চিত্রভাষ্য মেলে ধরেছেন নীপা। সবুজের সমারোহে দীপ্যমান বিশাল ক্যানভাসটি। আর ওই সবুজের ভেতর থেকে যেন ধানের গন্ধ নিয়ে উঠে এসেছে হলদে রং। দু’টি বর্ণের চমৎকার বিন্যাসে চিত্রিত ছবিটি বলে যায় আবহমান বাংলার সমৃদ্ধি আর সৌন্দর্যের কথা। একই সিরিজের আরেকটি চিত্রকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে হলুদ রং। এভাবেই রঙের মিছিলে বিমূর্ত কম্পোজিশনে চিত্রপটে স্বতন্ত্রশৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন শিল্পী। অবয়বের বদলে বর্ণে বর্ণে উপস্থাপিত হয়েছে নন-ফিগারেটিভ চিত্রকর্ম। আলো, দূরত্ব কিংবা দেখার ভঙ্গিমার সামান্য পরিবর্তন কি করে ছবিকে পুনর্বিন্যস্ত করে-বর্ণচর্চার মাধ্যমে সেটাই দেখিয়েছেন শিল্পী। দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেছেন আধুনিক ও সমকালীন শিল্পের অনবদ্য এক কথোপকথন।

নীপার চিত্রকর্ম প্রসঙ্গে শিল্প-সমালোচক জাভেদ জলিলের ভাষ্য, রঞ্জক আর ক্যানভাস পৃষ্ঠ তাঁর শিল্পযাত্রার প্রারম্ভ বিন্দু। সে তাঁর অনুভূতি আর বাস্তবতার মিশ্রণে রংকে অনুভব করে এঁকে যান অন্ধভাবে। সকল পদার্থ মিশে গিয়ে একীভূত হয়ে সৃষ্টি করে পবিত্র মেলবন্ধনের; যেখানে দেহ, মন ও আত্মা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে একই গানে। প্রকৃতভাবে শিল্পী নীপার কম্পোজিশান শুধু চোখের দেখাতেই দেখে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তার শিল্পকে উপলব্ধি করতে হলে নয়নের সঙ্গে খুলে দিতে মনের দুয়ারটি।

২৬টি চিত্রকর্মে সজ্জিত প্রদর্শনীর অধিকাংশ ছবিই আঁকা হয়েছে তেলরংয়ে। ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ২১ নবেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সংকেতের নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ ‘কবর’ ॥ ২১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে তিন দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছে টাঙ্গাইলের সংকেত নাট্যদল। রবিবার একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে শুরু হওয়া উৎসবের দ্বিতীয় দিন ছিল সোমবার। এ দিন সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় আরণ্যক নাট্যদলের প্রথম প্রযোজনা ‘কবর’ ।

শহীদ মুনীর চৌধুরী রচিত কবর নাটকের মাধ্যমেই ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করেছিল আরণ্যক নাট্যদল। সেসময় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছিলেন মামুনুর রশীদ। সম্প্রতি নব নাট্যনির্মাণে নির্দেশনা দিয়েছেন আবু হাশিম মাসুদুজ্জামান।