২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চৌকস সদস্যদের নিয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট হচ্ছে


শংকর কুমার দে ॥ দেশের জঙ্গীবাদ দমনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চৌকস সদস্যদের সমন্বয়ে ‘কাউন্টার টেররিজম ইউনিট’ গঠন করা হচ্ছে। জঙ্গী গোষ্ঠীর একের পর এক প্রগতিশীল প্রকাশক, লেখক, ব্লগার খুনের পর তাদের ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধরনের বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে এই বিশেষায়িত ইউনিটটি গঠনের প্রস্তাব করা হলেও বর্তমানে চোরাগোপ্তা হত্যাকা- ঘটতে থাকায় তা বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। জঙ্গী গুপ্ত হত্যাকা- ঘটিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আবার বিভিন্ন এ্যাকাউন্ট থেকে টুইট বার্তায় যে বিবৃতি দিচ্ছে তা উদ্ঘাটন করবে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের নীতি নির্ধারক মহল সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

রাজধানীর লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে নিহত অভিজিত রায়ের প্রকাশক শুদ্ধস্বর কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল, ব্লগার তারেক রহিম ও লেখক রণদীপম বসুকে কুপিয়ে জখম এবং এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় অভিজিত রায়ের বইয়ের আরেক প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল। এর আগে দুই বিদেশী হত্যাকা-, হোসেনী দালানের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় ও কর্তব্যরত পুলিশের এক এএসআইকে হত্যাকা-ের ঘটনার প্রকৃত খুনীদের গ্রেফতার করে তদন্তের আশানুরূপ অগ্রগতি করতে ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার। এসব ঘটনার প্রকৃত খুনী, খুনীদের নির্দেশদাতা, পরিকল্পনকারী, খুন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চৌকস সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিশেষায়িত কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠনের প্রস্তাবটি লালফিতায় বন্দী হয়ে আছে।

২০০৯ সালের শেষের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চৌকস সদস্যদের সমন্বয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন করার প্রস্তাবটি দেয় পুলিশ সদর দফতর। পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রস্তাবটি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই শেষে পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি আটকে দেয়ার পর থেকে গত ছয় বছর ধরে লালফিতায় বন্দী হয়ে আছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের গঠন প্রক্রিয়াটি। প্রগতিশীল প্রকাশক, লেখক ও ব্লগার হত্যাকা-, হুমকি, সন্ত্রাসবাদের থাবা থেকে রক্ষার জন্য আবার নতুন করে এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অপরাধ দমনের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় শুধু জঙ্গীবাদ দমনে এককভাবে কোন কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। যখনই জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দেয় তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব সদস্যরা তৎপর হয়। তারপর আবার এক সময়ে অদৃশ্য হয়ে যায় ক্ষিপ্রগতির সেই তৎপরতা। এই সুযোগে জঙ্গীরা সংগঠিত হয়ে নব উদ্যোগে খুন ও নাশকতার ঘটনা ঘটায়। একের পর এক খুন ও নাশকতা ঘটিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী সদস্যরা। শুধু তাই নয়, কোন জঙ্গী বা সন্ত্রাসী সদস্য ধরা পড়লেও তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা যাচ্ছে না। এমনকি গ্রেফতারের পর মনিটারিং না থাকায় জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে জঙ্গী সদস্যরা। জঙ্গীবাদ দমনে বিশেষায়িত বাহিনী না থাকায় আবারও জঙ্গী গোষ্ঠীর মাত্রাতিরিক্ত তৎপরতায় দিনেদুপুরে হত্যাকা- ঘটিয়ে অদৃশ্যে চলে গিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে, ধরা পড়ছে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গীবাদ দমনে বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেররিজম গঠন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের কেবল জঙ্গী দমনে, কোন জঙ্গী গ্রুপের সদস্য কারা, কোন জঙ্গী গোষ্ঠী টার্গেট কিলিং করছে, খুনীদের চিহ্নিতকরণ, গ্রেফতার, মামলা পরিচালনা, জামিনের বিষয়সহ জঙ্গী মনিটরিং করানো হবে। এই বিশেষায়িত ইউনিটটি শুধু জঙ্গীবাদ দমনে ব্যস্ত থাকলে জঙ্গী সদস্যরা কার নির্দেশে কোথা থেকে একে হত্যাকা- ঘটিয়ে যাচ্ছে, কারা মদদ দিচ্ছে, অর্থায়ন করছে কারা তা উদ্ঘাটন করতে সমর্থ হলে প্রগতিশীল প্রকাশক, লেখক, ব্লগার, বিদেশী নাগরিক, ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর আঘাত ও হামলা বন্ধ ও বিভিন্ন এ্যাকাউন্ট থেকে টুইট বার্তা প্রেরণকারীদের চিহ্নিতকরণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: