২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আওয়ামী লীগ হটাতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন


বিডিনিউজ ॥ শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ‘রাজতন্ত্র’ কায়েম করেছেন দাবি করে আওয়ামী লীগকে হটাতে ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

ছেলে তারেক রহমানকে পাশে রেখে রবিবার লন্ডনে রিভারব্যাংক পার্ক হোটেল প্লাজায় যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

দেড় মাস ধরে লন্ডনে অবস্থানের মধ্যে খালেদার প্রথম এই প্রকাশ্য সভায় পুত্রবধূ জোবাইদা রহমানও ছিলেন। সমাবেশ চলাকালে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হোটেলের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। খালেদা জিয়া বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য দল গোছাতে তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন আইনশৃঙ্খলার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বাংলাদেশের মানুষ আজ মোটেও ভাল নেই, মোটেও শান্তিতে নেই। প্রতিনিয়ত জুলুম-অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজতন্ত্র কায়েম হয়েছে এখন। রাজতন্ত্রের জন্য আছেন একজন লেডি হিটলার। কারণ তিনি যা হুকুম দিচ্ছেন, নির্দেশ দিচ্ছেন; তার সৈন্য-সামন্তরা যারা আছে, অর্থাৎ প্রশাসন, তারা সেভাবে কাজ করছেন। সবকিছু তার কথামতো চলে।

দেশে এখন গণতন্ত্র নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘সেজন্য একের পর এসব ঘটনা ঘটছে। আর সবকিছুতে বিএনপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বিবিসিকে দেয়া শেখ হাসিনার এক সাক্ষাতকারের বক্তব্য তুলে ধরে খালেদা বলেন, তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাব রাজনীতি করার জন্য নয়, প্রতিশোধ নিতে।’ তিনি দেশ গড়তে আসেননি। তিনি এসেছেন দেশ ধ্বংস করতে।’

আওয়ামী লীগ ‘প্রতিশোধ প্রতিহিংসার রাজনীতি’ করে দাবি করে তিনি বলেন, এই প্রতিশোধ প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিতে হবে।

জঙ্গীবাদের উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারকেই দায়ী করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা।

তিনি বলেন, বিদেশীদের ভয় দেখানোর জন্য শেখ হাসিনাই জঙ্গী জঙ্গী করছেন। বোঝাতে চান আমরা যদি চলে যাই, বিএনপি এলে জঙ্গীদের উত্থান হবে। ... কিন্তু দেখেন, জঙ্গীদের উত্থান কিন্তু আওয়ামী লীগের সময় হয়েছে। তারা কোন জঙ্গী ধরেনি। আমরা সব জঙ্গীকে ধরেছি।’

বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিকে চাইছে দাবি করে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার কথা উল্লেখ করেন খালেদা।

বিএনপি নেত্রী স্বীকার করেন যে সরকারকে হটাতে ব্যর্থতার জন্য ঢাকা শহরে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি।

আন্দোলন দমাতে পুলিশ গাড়ি পুড়িয়ে সেই দায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চাপিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত সাত বছরে বিএনপির তিন হাজার নেতাকর্মীকে খুন, এক হাজার ২০০ জনকে গুম, এক হাজার ১২ জনকে ক্রসফায়ার দেয়া হয়েছে।’

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কত মানুষকে বেনজীর মেরেছে তার হিসাব নেই।’

বিএনপি ভাঙ্গার জন্যও সরকার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন খালেদা।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংসদে কোন কাজ হয় না, শুধু খালেদা, তারেক আর জিয়াউর রহমানকে গালিগালাজ করা হয়।’

বর্তমানে বাংলাদেশে বেসামরিক প্রশাসনকে পুরোপুরি দলীয়করণ করে অনেক যোগ্য, মেধাবী কর্মকর্তাকে দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খালেদা বলেন, স্থায়ী কমিটির নেতাদের তিনি অনেক কিছু দেখিয়ে এসেছেন। ‘কিন্তু কিছু হলে ওরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সেজন্য আমার যাওয়াটা প্রয়োজন। তাই আমাকে যেতেই হবে।’

খালেদা জিয়া প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় করবেন।

মঞ্চে বিএনপি জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেকের পাশাপাশি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: