২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাকা ও মুজাহিদের রিভিউর শুনানি ১৭ নবেম্বর


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নিজস্ব বাহিনীর স্বঘোষিত ব্রিগেডিয়ার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের ওপর শুনানি ১৭ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে আদালত আসামিপক্ষের একজন আইনজীবীকে পুলিশি হয়রানির বিষয় উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে এবং সাকা চৌধুরীর পক্ষে রিভিউ শুনানিতে দেশী-বিদেশী আট সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণে সমন চেয়ে আনা আবেদন শুনানি শেষে তা খারিজ করে দিয়েছেন। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এদিকে মানবতাবিরোধী মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপীল শুনানি আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। সুপ্রীমকোর্টের ওয়েবসাইটের কার্যতালিকায় দুই নম্বরে রাখা হয়েছে।

আসামিদের আবেদনগুলো খারিজ করে দেয়ার পর সাকা মুজাহিদের রিভিউর প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়ে শুনানি পেছাতে আসামিপক্ষের প্রার্থনা মঞ্জুর করে ১৭ নবেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন তাদের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সাকা চৌধুরীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাক্ষী সমনের জন্য আনা আবেদন সোমবার আদালতে উত্থাপন করেন। সাকা চৌধুরীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের পর গত ১৯ অক্টোবর তার পক্ষে ৫ পাকিস্তানিসহ আটজন সাফাই সাক্ষীর সমন চেয়ে আবেদনটি করা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরীর পক্ষে সাক্ষী সমনের শুনানিতে তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের কাছে আসামির সার্টিফিকেটের কথা জানতে চেয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। শুনানিকালে তিনি খন্দকার মাহবুব হোসেনকে বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যে পাঞ্জাব-লন্ডনে পড়েছেন সার্টিফিকেট কই? আইনজীবীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনিতো পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন, পড়েছেন বলছেন। কিন্তু এটার সার্টিফিকেট কই? পাবলিক বিশ্বাবিদ্যালয়ে পড়েছেন, কিন্তু সার্টিফিকেট নেই। একজন ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপকের সনদ দিয়েছেন। এটা কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে? এটা হতে পারে না। আপনাদের এফিডেভিট ট্রাইব্যুনালে দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল তো গ্রহণ করেনি।

খন্দকার মাহবুব বলেন, ঘটনাস্থলে ছিলাম না এটা কনসিডার করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনিতো পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন, পড়েছেন বলছেন। কিন্তু এটার সার্টিফিকেট কই। বেসরকারি নয় পাবলিক বিশ্বাবিদ্যালয়ে পড়েছেন কিন্তু সার্টিফিকেট নেই। একজন ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপকের সনদ দিয়েছেন। এটা কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে? এটা হতে পারে না। আপনি লন্ডনে গেছেন। লিংকন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির কথা বলেছেন সাটিফিকের্ট কই। এত কাগজ দিলেন পাকিস্তান থেকে সাটির্ফিকেট আনতে পারলেন না। আপনি লন্ডন, পাকিস্তান, ওয়াশিংটনে গেছেন। হাউ ফানি, সার্টিফিকেট কোথায়? তিনি আরও বলেন, ফজলুল কাদের চৌধুরীর তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলের বিরুদ্ধে তো মামলা হয়নি। আপনার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। রায়ে সব কিছু বিবেচনা করা হয়েছে।

জবাবে খন্দকার মাহবুব বলেন, সাক্ষী সরাসরি না হওয়ায় এফিডেভিট খারিজ করেছিলেন। এটাই শেষ সুযোগ। আমার এফিডেভিট পরীক্ষা করে দেখুন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এখন রিভিউ পর্যায়ে এসে এসব তথ্য-উপাত্ত বা আবেদন নেয়ার স্কোপ কম। সুযোগ নেই। স্যরি।’ তখন সাকার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তাহলে তাদের (বিদেশী সাক্ষী) ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড গ্রহণ করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘স্যরি’।

এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপনি (সাকা চৌধুরী) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওই সময়ের (মুক্তিযুদ্ধের সময়) সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। প্রসিকিউশনের দেয়া তথ্য-উপাত্ত, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দ্বারাও সমর্থিত হয়েছে। এখন এ পর্যায়ে এসে আপনি বলছেন, আপনি পাকিস্তানে ছিলেন। এটা কিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপনি লন্ডন, পাকিস্তান ও ওয়াশিংটনে গেছেন। হাউ ফানি, সার্টিফিকেট কোথায়? এখন রিভিউ পর্যায়ে এসে এসব তথ্য-উপাত্ত বা আবেদন নেয়ার স্কোপ কম। এ সময় খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে বলেন, তাহলে সাক্ষীদের ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড নেন। প্রধান বিচারপতি তাও নাকচ করে দেন।

আদেশের পর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আসামিপক্ষ বলতে চাইছে সাকা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে ছিলেন না। সেই সময় সাকা চৌধুরী আহত হয়েছিলেন। সেই সময়ের পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদও হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পরপর সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৪টি ফৌজদারি মামলাও হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাক্ষী সমন বিষয়ে আসামিপক্ষের আনা আবেদন আদালত খারিজ করে দেন। এছাড়া আইনজীবীকে হয়রানির বিষয়ে আনা আসামিপক্ষের অপর একটি আবেদনও আপীল বিভাগ গ্রহণ করেননি।

এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সাকার বিদেশী সাক্ষী আনার আবেদন নাকচ করেছেন আপীল বিভাগ। সেই সঙ্গে সাক্ষীর জবানবন্দী সংবলিত ভিডিও রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করার জন্য করা আবেদনও খারিজ করেছেন। কারণ একই ধরনের সাক্ষী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এবং আপীলে দেয়া হয়েছিল আদালত তা গ্রহণ করেননি। সাকা যদি ৭১ সালে বিদেশে থাকত তাহলে পত্রিকায় সংবাদ হলো কেন। ৭২ সালে মামলা হলো কেন? তিনি বলেন, ঘটনার পর সাকা বিদেশে চলে যায় ৭৪ সালে দেশে ফিরে আসেন। তিনি আরও বলেন, আপনি (সাকা চৌধুরী) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওই সময়ের (মুক্তিযুদ্ধের সময়) সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। প্রসিকিউশনের দেয়া তথ্য-উপাত্ত, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দ্বারাও সমর্থিত হয়েছে। এখন এ পর্যায়ে এসে আপনি বলছেন, আপনি পাকিস্তানে ছিলেন। এটা কিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? আপনি লন্ডন, পাকিস্তান ও ওয়াশিংটনে গেছেন। হাউ ফানি, সার্টিফিকেট কোথায়? এখন রিভিউ পর্যায়ে এসে এসব তথ্য-উপাত্ত বা আবেদন নেয়ার স্কোপ কম।

মতিউর রহমান নিজামী ॥ মতিউর রহমান নিজামীর আপীল শুনানির জন্য আজ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় চট্টগ্রামের একটি আদালত মতিউর রহমান নিমাজীকে মৃত্যুদ- প্রদান করেছেন। ২০১৪ সালের ২৩ নবেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদ- থেকে খালাস চেয়ে মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এ আপীলের এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হচ্ছেন জয়নুল আবেদিন তুহিন। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপীলে মোট ১৬৮টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনক্সা বাস্তাবায়ন, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন সম্পত্তি ধ্বংস দেশত্যাগে বাধ্য করায় আলবদর বাহিনীর প্রধান বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি জামায়াতের ইসলামীর বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে হওয়ায় নিজামীকে মৃত্যুদ- প্রদান করেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: