২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

চরলতার একমাত্র স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে?


স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা ॥ যে কোন দিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে চরলতার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও সরকারীকরণ না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে এলাকাবাসী সবাই হতাশ হয়ে পড়েছেন। আর এ বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য তৃতীয় ধাপে বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের আশ্বাস দিয়েছেন।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় দ্বীপ জনপদ চরলতা। মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপটিতে প্রায় হাজার খানেক পরিবারের বাস। স্বাধীনতা পরবর্তী চার দশকেও এ জনবসতিপূর্ণ দ্বীপটিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনে কেউ এগিয়ে আসেনি। ফলে এখানকার বাসিন্দারা বরাবরই শিক্ষা বঞ্চিত রয়ে গেছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তী সময়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে এসে স্যাপ-বাংলাদেশ নামক একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রথমবারের মতো একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে। সংস্থাটি পাঁচ কক্ষের একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে। চারজনকে শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ দেয়। সংস্থাটি দু’ বছর নিজেদের অর্থায়নে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে। পরে এটি পরিচালনার দায়িত্ব এলাকাবাসীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর কাছে হস্তান্তর করার পর থেকে শিক্ষিকারা বেতন ভাতা বঞ্চিত রয়েছে। শিক্ষিকাদের বেতন-ভাতা দেয়ার সামর্থ্য নেই গরিব চরবাসীর। তারপরেও সরকারীকরণের আশ্বাসে শিক্ষিকারা বছরের পর বছর স্বেচ্ছাশ্রমে বিদ্যালয়টির পাঠক্রম চালিয়ে আসছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় তিন শ’ শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষিকারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া বেগম জানান, সরকারীকরণের আশায় আট বছর ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার খরচও তাদের নিজেদের বহন করতে হচ্ছে। শিক্ষিকা আকলিমা বেগম জানান, বিদ্যালয়টি সরকারী হবে, এ আশায় অন্য কোথাও চাকরির চেষ্টা করেননি। এখন সরকারী চাকরি নেয়ার বয়সও প্রায় শেষ হয়ে আসছে।