১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

উখিয়ায় চাল সংগ্রহ ॥ আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত


স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজারে বোরো আতপ চাল সংগ্রহের নামে উখিয়া উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত কথিত চালের মিল মালিক সিন্ডিকেট সরকারের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা খাদ্য বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রান্তিক চাষীদের উৎপাদিত বোরো ফসলের নায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য মাঠ পর্যায় থেকে বোরো আতপ চাল সংগ্রহের কর্মসূচী গ্রহণ করে। ওই কর্মসূচীর আওতায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ৩০ জুলাই ইস্যুকৃত এক পত্রে উখিয়া খাদ্যগুদামে মোট ৩ হাজার ৪৭২ টন চাল সংগ্রহ করার জন্য উখিয়া সরকারী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কর্মসূচীর নিয়মমতে প্রান্তিক চাষীরা তাদের পছন্দমতো চালমিলের মালিককে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান সরবরাহ করবেন। মিল মালিকদের কাছ থেকে খাদ্য বিভাগের সরকারী নির্ধারিত মূল্যে প্রান্তিক চাষীদের উৎপাদিত চাল সংগ্রহ করে তা সরকারী খাদ্যগুদামে মজুদ করার নিয়ম রয়েছে। প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে প্রতিকেজি উন্নতমানের বোরো আতপ চাল ৩১ টাকা দরে সংগ্রহ করার ঘোষণা রয়েছে সরকারের কাছ থেকে। পত্র পেয়ে উপজেলার খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুনীল দত্ত কথিত মিল মালিকদের সঙ্গে আঁতাত এবং প্রান্তিক চাষীদের উৎপাদিত চাল সংগ্রহ না করে নিম্নমানের কমমূল্যের চাল কিনে গুদাম ভর্তি করে। উখিয়া খাদ্যগুদামে মোট ২ হাজার ৫৮৭ মেট্রিক টন অর্থাৎ ২৫ লাখ ৮৭ হাজার কেজি চাল সংগ্রহ করা হয় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে। খাদ্যগুদামে স্থান সংকুলান না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৮৫ টন চাল কম সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, উখিয়া সরকারী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুনীল দত্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তানভীর হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশ করে উখিয়া উপজেলার বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত কথিত ১২ জন চাল মিল মালিকের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে নানান অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারী তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকা নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স গোল্ডেন, বায়জীদ, শাহ জব্বারিয়া, সৈয়দ, ডায়মন্ড, সাদিয়া, এসকে, বিসমিল্লাহ ও কামাল অটো রাইস মিল এবং মেসার্স তমিজ, ছয়তারা ও মদিনা রাইস মিল মালিকগণ সরকারী অর্থ নয়-ছয় করে আত্মসাতের সকল প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছে। উখিয়ার অনেক প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুনীল দত্ত প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ না করে তার সিন্ডিকেটভুক্ত কথিত চাল মিল মালিকদের কাছ থেকে নিম্নমানের তুলনামূলক কম দামের চাল ক্রয় করে তড়িঘড়ি করে গুদামজাত করেছেন। সিন্ডিকেটভুক্ত চাল মিল মালিকরা দেশের বড় বড় চালের মোকাম নাটোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝালাকাঠি, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিম্নমানের কমমূল্যের চাল কিনে ওইসব চাল সরকারী সিলযুক্ত চটের বস্তায় ভর্তি করে তা উখিয়া খাদ্য গুদামে নিয়ে আসে। ওসব মোকাম থেকে যে সব চাল ক্রয় করা হয়েছে, সে সব জাতের চাল প্রতিকেজি ২২Ñ২৩ টাকায় খোলা বাজারে পাওয়া যায়। সে হিসেবে সরকারী নির্ধারিত (প্রতিকেজি ৩১ টাকা) মূল্য থেকে প্রতিকেজি বাবদ গড়ে ৮ টাকা করে আত্মসাত করা হয়েছে। এভাবে ২৫ লাখ ৮৭ হাজার কেজি চাল ক্রয় বাবদ সিন্ডিকেট সদস্যরা সরকারী অর্থ আত্মসাত করেছে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। উখিয়া খাদ্যগুদামে চাল ক্রয়ে দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন তৎকালীন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাসকে। কিন্তু হিল্লোল বিশ্বাস খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুনীল দত্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে যেনতেনভাবে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন জেলা প্রশাসক বরাবরে। এখানে উল্লেখ্য যে, অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগৃহীত নীতিমালা মতে, উপজেলা পর্যায়ে খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলা পর্যায়ে চাল সংগ্রহের কর্মসূচীতে অনিয়ম-দুর্নীতি সংগঠিত হলে তার দায়-দায়িত্ব সভাপতির ওপর এসে যায় স্বাভাবিকভাবে। তাই হিল্লোল বিশ্বাসের দেয়া প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এদিকে উখিয়ার বেশ কয়েকজন রাজনীতিক ও সচেতন নাগরিক জানান, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সুনীল দত্ত তার সরকারী অর্থ লুটপাট বাণিজ্য জায়েজ করার জন্য বিভিন্ন স্থানে বলে বেড়াচ্ছেন সবকিছু করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি জনকণ্ঠকে জানান, আতপ চাল সংগ্রহের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।

আতপ চাল সংগ্রহ কর্মসূচীতে বিন্দুমাত্রও অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি দাবি করে উখিয়া উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুনীল দত্ত জানান, সরকারী বিধিমতে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের সুস্পষ্ট হয়েছে। সাংসদের বিষয়ে যে প্রশ্নের অবতারণা করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেও জানান তিনি।