২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ভেস্তে যাচ্ছে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্প


এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের বাধায় দেশের সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বাধার মুখে স্থানীয় প্রশাসনও কাজ এগিয়ে নিতে পারছে না। পাঁচ হাজার টন খাদ্যশস্যের কাজ গত জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়সীমার চার মাস পার হয়ে গেছে, অথচ এ পর্যন্ত দেড় হাজার টন গমের কাজই শেষ করা যায়নি। সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দফতর দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে ফ্যাক্সবার্তা পাঠিয়েছে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। ফ্যাক্সবার্তায় প্রতি সপ্তাহে কাজের অগ্রগতি জানাতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এতে ভেস্তে যেতে বসেছে ৪ হাজার ৪০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা প্রকল্প। বিষয়টি নিয়ে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা খোঁজখবর নিয়ে ঘটনাটি তারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়, খুরুশকুল মৌজার ১নং খতিয়ানের ২৫৩.৩৫ একর জমিতে বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পে ৪ হাজার ৪০৯ জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে পুনর্বাসনের কথা রয়েছে। ওসব পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্থানান্তর করা গেলেই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীতকরণের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪১.২৫ একর জমিতে মাটি ভরাটকাজের জন্য পাঁচ হাজার টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম ও খুরুশকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট প্রকল্প কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বাধার কারণে শুরু থেকেই প্রকল্পটির কাজ চলে ধীরগতিতে। এ কারণে গত ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের কাজে ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ওই সময় গেল জুন মাসের মধ্যে বরাদ্দ হওয়া পাঁচ হাজার টন গম নিয়ে ৪১.২৫ একর জমির মাটির উন্নয়নকাজ শেষ করার নির্দেশ দেয় কমিটি। কিন্তু বেঁধে দেয়া সময়ের পর আরও চার মাস অতিবাহিত হলেও অর্ধেক কাজই শেষ করা যায়নি। প্রথম বরাদ্দের ১ হাজার ৫শ’ টন গমের পর আরও সাড়ে তিন হাজার টন গমের ছাড়পত্র এসেছে। কিন্তু কাজের বিপরীতে ওসব গমের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ছাড় করছে না স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারী দলের একজন জনপ্রতিনিধির চাপেই ডিও ছাড় করা যাচ্ছে না, যে কারণে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন, প্রকল্পটির কাজ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে একটু এদিক-ওদিক হলেই বিপদে পড়তে হবে আমাদের, যে কারণে প্রকল্পটিতে কাউকে লুটপাটের সুযোগ দিতে পারছি না। এ কারণে এক প্রভাবশালী আমার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলাও করেছে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজের জন্য গমও ছাড় করতে দিচ্ছে না। এ অবস্থায় কাজ চালিয়ে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রকল্প কমিটির সদস্য সচিব ও খুরুশকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প হওয়ায় আমরা দ্রুত এবং খুবই সর্তকতার সঙ্গে কাজ করছি। এ কারণে অনেকের অন্যায় আবদার পূরণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, যে কারণে একটি প্রভাবশালী চক্র স্থানীয় প্রশাসনকে কাজের বিপরীতে ডিও ছাড় করতে বাধা দিচ্ছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে কাজের গতি বাড়াতে একটি ফ্যাক্স এসেছে। কিন্তু সরকারী দলের এক জনপ্রতিনিধির বাধার কারণে ডিও দিতে পারছি না। তাতে একটু জটিলতা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসক আলী হোসেন বলেন, নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরা কাজ বাস্তবায়ন চাই। আমি ইতোমধ্যে বলে দিয়েছি কমিটিকে কাজ করার জন্য ডিও ছাড় দিতে। কিন্তু এরপরও কেউ ডিও না দিলে তার জন্য তারাই দায়ী থাকবে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ জহিরুল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ইতোমধ্যেই বর্তমান কমিটিকে দ্রুত কাজ চালিয়ে নিতে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইউএনও এবং জেলা প্রশাসককে কাজ চালিয়ে নিতে খাদ্যশস্যের ডিও ছাড় করতেও বলা হয়েছে।