২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

তিন মাসে কৃষিঋণ বিতরণ সাড়ে ১৬ শতাংশ


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষিখাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৩ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। যা গেল অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ১৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আমন মৌসুমে কৃষক থেকে ঋণের চাহিদা বেশি হওয়ার জন্যই সার্বিক কৃষিখাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষিঋণ বিতরণ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যা গেল অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ বা ৮৫০ কোটি টাকা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে ব্যাংকগুলো মোট কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ৩ হাজার ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যা গেল অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৫৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বেশি। গেল অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছিল মাত্র ৮৬১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। যা গেল অর্থবছরে জুলাই মাসের চেয়ে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ কম ছিল। কিন্তু আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কৃষিঋণ বিতরণে গতি ফিরেছে। আগস্ট মাসে কৃষিঋণ বিতরণ হয় ৯৫২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আর সেপ্টেম্বর মাসে তা আরও বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। গেল অর্থবছরের আগস্টে কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৮০২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আর সেপ্টেম্বর মাসে হয়েছিল ১ হাজার ৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

এবার মোট ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য ৯ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, বেসকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৬ হাজার ৭১৭ হাজার কোটি ও বিদেশী ব্যাংকগুলোর ২৯৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরেও ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের ন্যূনতম আড়াই শতাংশ কৃষি ও পল্লী খাতে বিতরণ করতে হবে। নতুন ব্যাংকগুলোর জন্য এ হার ৫ শতাংশ। যারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে না তাদের অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক জমা করতে হবে। ব্যাংক এই জমার ওপর কোন সুদ পাবে না। গেল অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায় টার্গেট পূরণে ব্যর্থ ব্যাংকের অনর্জিত অংশের ওপর ৩ শতাংশ হারে অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক জমা রাখার বিধান ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গেল অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩ শতাংশ বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয় ব্যাংকগুলো। এছাড়া গেল অর্থবছরে আদায়যোগ্য ঋণের ৭০ শতাংশ আদায় হয়। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে, গেল অর্থবছরে আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদহারে সাড়ে ৯৫ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮২ শতাংশ অর্জিত হয়।