২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জেলহত্যা দিবস


আজ শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। এই দিনে কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকরা ভেবেছিল, যদি এই চার নেতা বেঁচে থাকেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালী জাতীয়তাবাদের চেতনা দৃঢ় হবে। তাই ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকরা ৩ নবেম্বর নির্মমভাবে হত্যা করে এই চার জাতীয় নেতাকে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এই চার নেতা যেভাবে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তির অন্বেষায় যে কাজ করেছেন তা জাতি ভুলতে পারবে না।

স্বাধীনতার শত্রু দেশদ্রোহী প্রতিবিপ্লবীরা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই তৎপর। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পরে কিছুদিন সময় খুঁজেছে; তারপর আঘাত হেনেছে সুযোগ মতো। সর্বপ্রথম তারা আঘাত হেনেছে জাতির পিতার ওপর। তারপর আঘাত হানে জাতির পিতার যোগ্য চার সহযোগীর ওপর। তাদের বন্দী করে রাখা হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানেই আটক অবস্থায় তাঁদের হত্যা করা হয়। এই হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে প্রতিবিপ্লবীরা আমাদের অর্জিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতি পরিবর্তন করে। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে এই চার নেতা জাতি গঠনে নিঃস্বার্থ অবদান রেখেছেন।

মুক্তিযুদ্ধেই নয়, মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের সংগ্রাম সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধুর এই চার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ভূমিকা ছিল খুবই উজ্জ্বল। তাঁরা দৃঢ়তার সঙ্গে নিরলসভাবে এসব ক্ষেত্রে কাজ করে গেছেন। দেশের মানুষের প্রতি ছিল তাঁদের ভালবাসা। দেশপ্রেমের সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই চার নেতাই হয়ে উঠেছিলেন আদর্শবাদী দেশপ্রেমিকের প্রতিচ্ছবি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আস্থা ছিল তাঁদের আমৃত্যু। তাই কখনও কোন দমনপীড়ন বা ভয়ভীতির কাছে তাঁরা নতিস্বীকার করেননি। সে কারণেই ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির জনককে হত্যার পর ঘাতকরা স্বস্তিতে থাকতে পারেনি, নিশ্চিত থাকতে পারেনি। তাই তারা জাতীয় এই চার নেতাকে আটক করে কারাগারে বন্দী করে রাখে। জেলখানায় বন্দীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সভ্য বিশ্বে এটাই নিয়ম। অথচ সেদিন জেলখানায় ঢুকেছিল ঘাতকরা এবং তারা নিরাপদে সেখানে ঢুকে এই চার নেতাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে নিরাপদেই বেরিয়ে যায়। ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে রচিত হয়েছে এক কলঙ্কিত অধ্যায়, ৩ নবেম্বর জেল হত্যার দিবসটিও কলঙ্কিত দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে ইতিহাসে।

১৫ আগস্ট এবং ৩ নবেম্বর হত্যাকা-ের বিচার দীর্ঘকাল হতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। সরকার গঠিত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং জেলহত্যার বিচার কাজ শুরু হয়। পরবর্তী পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা এবং ঘাতকদের কয়েকজনের দ- কার্যকর হয়। বঙ্গবন্ধুর কয়েক খুনী পলাতক থাকায় সে রায় পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এদিকে জেলহত্যা মামলাটি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। বর্তমান সরকার জাতীয় চার নেতার হত্যার পুনর্বিচার কার্যক্রম শুরু করে ২০১৩ সালে। তবে সাজাপ্রাপ্তরা পলাতক। সরকার জেলহত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দ্রুত বাস্তাবায়ন করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত তথা জঙ্গীবাদ নির্মূল করার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র আরও দৃঢ় করবে সেটাই জাতির প্রত্যাশা।