২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চার দেশের মধ্যে পণ্যবাহী যান চলাচল শুরু


কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চার দেশের মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল শুরু হয়। চার দেশের মধ্যে মোটরযান চলাচল চুক্তি অনুযায়ী রবিবার পরীক্ষামূলকভাবে কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলায় পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভারতীয় একটি ট্রাক কলকাতা থেকে আগরতলার উদ্দেশে পণ্য নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পণ্যবাহী ট্রাকটি বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ডে এসে পৌঁছালে উভয় দেশের কাস্টমস, বন্দর ও ব্যবসায়ী নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষামূলক এ যাত্রাকে স্বাগত জানান।

কলকাতা থেকে আগরতলার দূরত্ব এক হাজার ৫৫৯ কিলোমিটার। পণ্য নিয়ে কলকাতা থেকে আগরতলা পৌঁছাতে সময় লাগত তিন দিন। বাংলাদেশের স্থলপথ ব্যবহারে ফলে কলকাতা থেকে আগরতলার দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫৯ কিলোমিটার। এতে এক দিনে ট্রাক পৌঁছে যাবে আগরতলা বন্দরে। ফলে সময়ের পাশাপাশি অর্থও সাশ্রয় হবে ব্যবসায়ীদের। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য বিবিআইএন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির আওতায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের পহেলা জুনে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলার পথে যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হয়।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রবিবার থেকে চার দেশের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল শুরু হলেও আগামী পহেলা জানুয়ারি থেকে এসব দেশের মধ্যে চূড়ান্তভাবে যানবাহন চলাচল শুরু হবে। সে সময় চার দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রীবাহী উভয় যানবাহন চলাচল করবে বলে জানা গেছে।

ট্রানজিট সুবিধার প্রথম চালান ॥ আবুল হোসেন, বেনাপোল থেকে জানান, ট্রানজিট সুবিধার আওতায় ভারতের কলকাতা থেকে প্রথম পণ্য চালানের বাটা সু-কোম্পানির কাঁচামাল ও ভোডা ফোনের ইলেকট্রনিক্সস সরঞ্জামের চালান নিয়ে ভারতীয় একটি ট্রাক রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বেনাপোল বন্দরে এসেছে। এই ট্রাকটি সরাসরি আখাউড়া বন্দর দিয়ে ত্রিপুরার রাজ্যের গোহাটিতে যাবে। সোমবার সকালে ট্রাকটি আখাউড়ায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন ট্রাকের সঙ্গে থাকা প্রতিনিধি দল। এটাই ট্রানজিট সুবিধার প্রথম পণ্য চালান বলে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান। এই পণ্য চালানের সঙ্গে কলকাতার ডিএইচএল গ্লোবাল ফরওয়ার্ডিং কোম্পানির ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলও মাইক্রোবাসে করে যাবেন।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ভারতের ভোডা ফোনের ৭ প্যাকেজ ইলেক্টিকস সরঞ্জাম ও বাটা সু-কোম্পানির ১১৬ প্যাকেজ পণ্য নিয়ে ভারতীয় ট্রাকে করে (ডব্লিউবি-১১বি-৯৫১৯) সকালে কলকাতা থেকে ছেড়ে বিকেলে বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে আসে। এখানে বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ও ভারতের কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট (রফতানি) সুজিত সরকারের উপস্থিতিতে উভয় দেশের কাস্টমস কর্মকর্তারা কাগজপত্র দেখে পণ্য চালানটি পরীক্ষণ করেন। এ সময় কাস্টমস ছাড়াও বিজিবি ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কলকাতার ডিএইচএল গ্লোবাল ফরওয়ার্ডিং কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই পণ্য চালানটি রফতানি ও পরিবহনের দায়িত্বে রয়েছেন। আর পণ্য চালানটি খালাসের দায়িত্বে আছেন লাকী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ট্রাকটি চেকপোস্ট হয়ে বেনাপোল বন্দর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ভারতীয় ওই ট্রাকে ২টি পণ্য চালান থাকলেও ভোডা ফোনের ৭ প্যাকেজের পণ্য চালানটি সরাসরি ট্রানজিট সুবিধা নিয়ে কুমিল্লার আখাউড়া শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের আগরতলা হয়ে গোহাটিতে অবস্থিত ভোডা ফোনের অফিসে যাবে। আর বাটা সু-কোম্পানির ১১৬ প্যাকেজ পণ্য বেনাপোল স্থলবন্দরের শেডে আনলোড করে রাখা হবে। এরপর এখান থেকে ভারতীয় ওই ট্রাকটি সিলগালা করে দিবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। রাতেই আখাউড়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বেনাপোল বন্দর থেকে। বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে আখাউড়া চেকপোস্ট পর্যন্ত নিরাপদে যাতায়াতের জন্য হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ নিরাপত্তায় থাকবে বলে জানান, নাভারন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট বুলবুল আহমেদ।

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভারতীয় ওই ট্রাকে থাকা ২টি পণ্য চালানের মধ্যে ভোডা ফোনের চালানটি সরাসরি আখাউড়া দিয়ে ভারতের আগরতলায় যাবে। আর বাটা সু-কোম্পানির পণ্য চালানটি ঢাকায় যাবে বিধায় বেনাপোল বন্দরে আনলোড হবে। পরে এটা শুল্কায়নের পর ছাড় দেয়া হবে। তিনি আরও জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ট্রানজিট সুবিধার চালানটি আমরা কাগজপত্র ও পণ্য পরীক্ষণ করেই ট্রাকে সিলগালা করে ছাড় দিয়েছি।