মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

শিবিরের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড আমাকে বিচলিত করে ॥ পদত্যাগী নেতা

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৫
  • পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দল ছাড়ার ঘোষণা

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ ‘ধরে ধরে ধরে না, শিবির ধরলে ছাড়ে না’। জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন সময়ের মিছিলে এমন সেøাগান হর-হামেশা শোনা যায়। তাদের এ সেøাগানের বাস্তবতা মিলেছে। ভুল করে শিবিরে যুক্ত হয়েও এখন অনেকে তাদের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারছে না। অনেকে পদত্যাগ করলেও শিবির তাদের ছাড়ছে না। এরই মধ্যে বাধ্য হয়ে এক নেতা শিবির থেকে পদত্যাগ করলেও তার নাম বিভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ওই নেতা রবিবার রাজশাহীর স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছেপে শিবির ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। রাজশাহী নগরীর বড় বনগ্রাম বাগানপাড়া এলাকার দুরুল হুদার ছেলে সবুজ আলী পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে শিবির থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। শিবিরের ওই নেতা বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেন, কয়েকজন বন্ধুর কু-পরামর্শে তিনি শিবিরে যোগ দেন। এর কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরে তাকে জানানো হয় তাকে ওয়ার্ড শিবিরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এরপর থেকেই তাকে ধ্বংসাত্মক কাজে নিয়োজিত করার চেষ্টা করা হয়। ‘পদত্যাগ’ করা ওই নেতা উল্লেখ করেন, ছাত্রশিবিরের ধ্বাংসাত্মক কর্মকা- আমাকে বিচলিত করে এবং আমি অল্প সময়ে আমার ভুল বুঝতে পারি। এছাড়া শিবিরে যুক্ত হওয়ায় লেখাপড়ার মারাত্মক প্রভাব পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন ১৪ মাস আগে ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সকল প্রকার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি। তবে শিবির এখনও তার নাম উল্লেখ করছে। তিনি কোন জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয় দাবি করে শিবিরের সঙ্গে কোন ধরনের সম্পর্ক না রাখার জন্য সকল ছাত্রছাত্রীদের প্রতিও আহ্বান জানান। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিবির এখন নানা কৌশলে গোপনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তাদের সংগঠনে যুক্ত করার জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছে। অনেক কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে দলে টেনে তাদের দিয়ে ধ্বংসাত্মক কাজ করাচ্ছে। অনেকে শিবির ছাড়তে চাইলেও তাদের ছাড়ছে না শিবির। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৫ জানুয়ারির পর থেকে দেশব্যাপী নাশকতার সঙ্গে যুক্ত জামায়াত-শিবিরকে প্রশাসনিকভাবে মোকাবেলায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে তাদের কার্যক্রম। এখন আর প্রকাশ্যে না থাকলেও গোপনে গোপনে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী নাশকতা ও হিংসাত্মক কাজে যুক্ত হয়ে জনরোষের মুখে পড়ে। ফলে গোপনে চলে যায় তাদের কার্যক্রম। এখন সমাজে ‘ভাল’ সাজার জন্য বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম হাতে নিয়ে এগুনোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কর্মী সংগ্রহ করতে টার্গেট করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। তাদের ভুলিয়ে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। একাধিক গোয়েন্দা সূত্রমতে শিবির এখন গোপনে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ^বিদ্যালয়ে আস্তানা গড়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে সবার আগে কর্মী সংগ্রহ শুরু করেছে।

শিবিরের একটি সূত্র জানায়, প্রশাসনিক চাপের মুখে তারা অনেকটাই কোণঠাসা। মাঠে নামতে পারছে না। এ কারণে নতুন কর্মী সংগ্রহ শুরু করেছে। এরই মধ্যে অনেক কর্মী তারা দলে ভিড়িয়েছে। কেউ একবার ভুল করে দলে ভিড়লে আর বেরুতে পারছে না। এখন সহজেই দলে পদও পাওয়া যাচ্ছে। দলে যুক্ত হলেই পদ দিয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তাদের। অনেককে হিংসাত্মক কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভুল বুঝতে পেরে অনেকে সরে দাঁড়ালেও শিবির তাদের ছাড়ছে না। বিজ্ঞাপন দিয়ে দলত্যাগী শিবির নেতা সবুজ আলী উল্লেখ করেন, তাদের (শিবিরের) হিংসাত্মক কাজে বিচলিত হয়ে তিনি শিবির ত্যাগ করেছেন। তার মতো অনেকে এখন শিবির ত্যাগ করতে চাইলেও পারছেন না। এসব ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শিবিরের মহানগর ও জেলা পর্যায়ের কোন নেতাকে পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন জানান, যে কোন হিংসাত্মক ও নাশকতামূলক কাজের বিরুদ্ধে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। কোন হিংসাত্মক কর্মকা-ের পরিকল্পনার খবরে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

ছোট হোক কিংবা বড় কোন ধংসাত্মক কাজেই পুলিশ কাউকে প্রশ্রয় দেবে না।

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৫

০২/১১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: