১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জয়পুরহাটে ৭৭ প্রকল্প ॥ বরাদ্দ লোপাট


নিজস্ব সংবাদদাতা, জয়পুরহাট, ১ নবেম্বর ॥ জেলার কালাইয়ে টিআর ও কাবিখার টাকা লুটপাটের কারণে উন্নয়ন কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দু’দফায় টিআর ও কাবিখার ৭৭টি প্রকল্পে বরাদ্দের চাল ও গম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস প্রকল্প কমিটির সভাপতিদের কাছ থেকে টন প্রতি তিন হাজার করে টাকা তুলে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। সূত্র জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কালাই উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে টিআর-কাবিখা কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৭৭টি প্রকল্পের বিপরীতে দু’দফায় বরাদ্দ হয় ১৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮০ দশমিক ৮৫ টাকা এবং ১৬৪ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৮৬ দশমিক ৭৯৬৮ মেট্রিক টন গম। প্রকল্পের তালিকা পিআইও’র কার্যালয়ে দাখিলের পরপরই কাজ শুরুর আগেই টন প্রতি চাল মাত্র ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় এবং টন প্রতি গম মাত্র ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকায় পিআইও’র মনোনীত ডিও কেনাবেচার সিন্ডিকেট চক্রের কাছে প্রকল্প কমিটির সভাপতিদের বিক্রি করতে হয়। ওই টাকার মধ্য থেকে পিআইও অফিসে টন প্রতি দিতে হয় তিন হাজার টাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে, ‘কাবিখা’ কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের বহুতি গোলজারে উলুম মাদ্রাসা মাঠ ভরাট প্রকল্পে ৯ মেট্রিক টন চাল বারাদ্দ দেয়া হলেও মাদ্রাসা মাঠে কোন মাটি কাটা হয়নি। মোসলেমগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় উন্নয়ন ও সৌর বিদ্যুতায়ন প্রকল্পে আট মেট্রিক টন চাল বারাদ্দ দেয়া হলেও কোন কাজ হয়নি। তবে সৌর বিদ্যুতায়নে দায়সারা কিছু কাজ করা হয়েছে। কাদিরপুর বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসা উন্নয়ন ও সৌর বিদ্যুতায়ন প্রকল্পে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও ওই প্রকল্পে কোন কাজই হয়নি। মাত্রাই মডেল কলেজের কমন রুমের বাথরুম ও মাঠ সংস্কার প্রকল্পে ৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও কলেজ মাঠে কোন মাটি কাটা হয়নি। নয়াপাড়া গ্রামের করিমের জমির কাছ থেকে পূর্ব দিকে ছরোয়ারের জমি পর্যন্ত জলডারী সংস্কার প্রকল্পে ৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও স্বল্প দূরত্বের এ প্রকল্পে দায়সারা কিছু কাজ হয়েছে। মোলামগাড়ীহাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট ও সোলার প্যানেল স্থাপন প্রকল্পে ১৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও বিদ্যালয় মাঠ মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়নি। অন্যদিকে, ওই বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে কাজ না করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে দায়সারা কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠান প্রধান আব্দুল বারিক ও সভাপতি ইয়াকুব আলী। কালাই পৌরসভার কালাই টেকনিক্যাল ও মহিলা বিএম কলেজে সৌর বিদ্যুতায়ন প্রকল্পে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এভাবেই দু’দফায় বরাদ্দ দেয়া টিআর-কাবিখা প্রকল্পের ছোট-বড় ৭৭টি প্রকল্পেই ঘটেছে লুটপাটের মহোৎসব। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদ আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নীতিমালা অনুযায়ীই সব প্রকল্পের কাজ হয়েছে। সৌর বিদ্যুতায়ন প্রকল্প বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারী বা সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল কেনার জন্য প্রকল্পের সভাপতিদের আমি বলেছি, এ কথা সত্য। কিন্তু নিজ উদ্যোগে কোন কাজ করিনি।