মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর জোরালো প্রমাণ

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৫
  • আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় ইয়েল ইউনিভার্সিটি

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের চালানো গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের লয়েনস্টেইন ক্লিনিকের প্রতিবেদনটির পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। আল জাজিরা ও মানবাধিকার গ্রুপ ফর্টিফাই রাইটসের দেয়া নথি ও সাক্ষ্যসহ মিয়ানমার থেকে পাওয়া উপাত্তগুলোর সত্যতা নিরুপণে আট মাস ব্যয় করেছে লয়েনস্টেইন ক্লিনিক।

ক্লিনিক তার প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় বলেছে, রোহিঙ্গাদের ওপর যে মাত্রায় নৃশংসতা হয়েছে এবং তাদের নিয়ে দেশটির রাজনীতিকরা যে ভাষায় কথা বলেছে, তা বিবেচনা করে আমরা মনে করি দেশটিতে যে, গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে, সে বিষয়টি কোনভাবেই এড়ানো যায় না। আল জাজিরার পাওয়া বিশেষ নথিতে দেখা গেছে, মিয়ানমার সরকার তার স্বার্থের জন্য মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা উস্কে দেয়ার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সূত্রপাত করে, মুসলিমদের সস্পর্কে মিয়ানমারবাসীর মনে ভয়ের উদ্রেক করতে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ব্যবহার করেছে এবং কট্টরপন্থী বৌদ্ধ গ্রুপগুলোর সমর্থন পেতে তাদের অর্থের প্রস্তাব দিয়েছে। আল জাজিরার পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও গোপন দলিলে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সেনা সমর্থিত ক্ষমতাসীন দল ইউনিয়ন সলিডারিটি এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) মুসলিমদের একঘরে এবং রোহিঙ্গাদের লক্ষ্যে পরিণত করার চেষ্টা করে। দেশটিতে ২৫ বছর পর আগামী ৮ নবেম্বর প্রতিযোগিতা পূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ও সরকারকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে আল জাজিরা কয়েকবার অনুরোধ করলেও তারা কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আইনী ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘জেনোসাইড এজেন্ডা’ নামে নতুন তদন্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সরকারের এজেন্টরা মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা বাধাতে জড়িত ছিল। একটি সরকারী সেনা নথিতে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ব্যবহার দেখা গেছে। বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, মিয়ানমারকে মুসলিমরা গ্রাস করে ফেলবে বলে দেশবাসীর মনে ভয়ের উদ্রেক করে। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের প্রফেসর ও ইন্টারন্যাশনাল স্টেট ক্রাইম ইনিশিয়েটিভের (আইএসসিআই) পরিচালক পেনি গ্রিন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন সরকারের নিজের পরিণতির জন্য ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রস্তুত করেন এবং এটি হলো বার্মার ভেতরে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে একঘরে, পৃথক ও হ্রাস করা। এটি একটি গণহত্যার প্রক্রিয়ার অংশ।

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৫

০২/১১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: