মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মিত হচ্ছে

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৫
  • ফরাসী কোম্পানির সঙ্গে এমওইউ সই অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর

রশিদ মামুন ॥ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ফ্রান্সের কোম্পানি টিকনিপের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুত জ্বালানি সরবরাহ বিশেষ আইনে প্রকল্পটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে কোম্পানিটির সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর করা হবে। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে ১৯৬৮ সালে এই কোম্পানিটি ইআরএলএর তেল পরিশোধনাগার নির্মাণ করে দেয়। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়লেও দেশের একমাত্র সরকারী তেল পরিশোধনাগার ইআরএলের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়নি।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে টেকনিপ ৬০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বাকিটা বাংলাদেশকে সংস্থান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত সার সংক্ষেপ অনুমোদন করেন। জ্বালানি বিভাগ থেকে ইআরএলকে এমওইউ স্বাক্ষরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইআরএল সূত্র বলছে, জ্বালানি তেলের পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হলে প্রতি লিটার জ্বালানি তেল আমদানিতে অন্তত ৬ টাকা সাশ্রয় হবে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর গত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এখন বিপিসি তেল বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করলেও নিজস্ব পরিশোধন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় জ্বালানি তেলের দাম কমার পুরো সুফল ঘরে তুলতে পারছে না। কারণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয় করতে বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়।

ইআরএলের বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন। কিন্তু দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৬০ লাখ টনের ওপরে। চাহিদার অধিকাংশই পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এতে করে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। অথচ দেশে পরিশোধন করতে পারলে প্রতি লিটারে অন্তত ৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে ইআরএল পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। এতে করে একবারে পরিশোধন ক্ষমতা ৩০ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে। যাতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ার কথা। একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি তেলের লাভও অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তরল জ্বালানির উপজাত হিসেবে এলপিজিসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা মেটানোও সম্ভব।

বিগত সরকারের সময় ২০১০ সালে দেশের একমাত্র সরকারী তেল পরিশোধনাগারের ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়। চার বছর অতিবাহিত হলেও বিনিয়োগ, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিতে না পারায় প্রকল্পটি ঝুলে আছে। দরপত্রের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে না পারায় দরপত্র ছাড়াই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ জন্য দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আগ্রহ পত্র চায় ইআরএল।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, পরিশোধন ক্ষমতা বাড়াতে সরকারী-বেসরকারী অংশদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ২০১০ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয় সরকার। ওই সময়ে আগ্রহপত্র চাওয়া হয়। এতে ৩৫টি কোম্পানি অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হয় দেশীয় একটি ব্যবসায়িক গ্রুপ। অর্থায়ন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় পরে ওই দরপ্রস্তাব বাতিল করা হয়।

এখন সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে করে সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জমি দেবে। আর বেসরকারী কোন কোম্পানি বিনিয়োগ করবে, যাতে লভ্যাংশে সরকারের একটি অংশ থাকবে। বেসরকারী কোম্পানিটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর ইউনিটটি পরিচালনার জন্য ইআরএলকে হস্তান্তর করবে।

জ্বালানি বিভাগ বলছে অনেক দেশই রয়েছে যারা তেল পরিশোধন করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানিও করছে। আমরাও দেশে বিশ্বমানের পরিশোধনাগার নির্মাণের মাধ্যমে এই চেষ্টা করতে পারি।

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৫

০২/১১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: