১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এবার প্রকাশক হত্যা!


রাজধানীতে শনিবার দিন-দুপুরে লালমাটিয়া ও আজিজ সুপার মার্কেটের দুটি প্রকাশনা সংস্থার অফিসে ভয়াবহ নৃশংস হামলা চালিয়ে একজনকে জবাই করে হত্যা এবং তিনজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করেছে। লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে ঢুকে তিনজনকে হত্যা চেষ্টার পরপরই খবর পাওয়া যায় যে, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের কার্যালয়ে নিজ কক্ষে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন জাগৃতি প্রকাশনীর তরুণ স্বত্বাধিকারী ফয়সাল আরেফিন দীপন। অন্যদিকে শুদ্ধস্বরের স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ চৌধুরী ওরফে টুটুল এবং তার দুজন বন্ধু কবি ও ব্লগার তারেক রহিম এবং রণদীপম বসু গুরুতর আহত হন। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, শুদ্ধস্বর ও জাগৃতি প্রকাশনী গত ফেব্রুয়ারিতে জঙ্গীদের হাতে বাংলা একাডেমি চত্বরে নিহত বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিত রায়ের বইয়ের প্রকাশক। এ থেকে সহজেই ধারণা করে নেয়া যায় যে, মুক্তমনা ও মুক্তচিন্তার লেখক অভিজিত রায়ের বই প্রকাশ করার কারণেই সংশ্লিষ্টরা হামলার শিকার হয়েছেন। রাতে এই হামলার দায় স্বীকার করে টুইটার এ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিও দিয়েছে আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ শাখা আনসার আল ইসলাম। ওই বার্তায় ইসলাম বিদ্বেষীদের হুঁশিয়ারি করে আরও বলা হয়েছে যে, যারাই লেখনী-কথা-কাজের মাধ্যমে আল্লাহ, তার রাসুল ও তার দ্বীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এমন সকল মুরতাদ ও ইসলামের শত্রুরাই মুজাহিদিনদের পরবর্তী টার্গেট হবে। এই দাবি থেকেই দুর্বৃত্তদের হত্যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের তা-ই ধারণা।

গত তিন বছরে ১০ জন ব্লগারকে প্রায় একই কায়দায় নৃশংসভাবে খুন করেছে জঙ্গী সন্ত্রাসীরা। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী এর কোনই কূল-কিনারা করতে পারেনি। চার্জশীট তো দূরের কথা! দু’একটি ক্ষেত্রে সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রণয়নসহ দু’চারজনকে গ্রেফতারের খবর থাকলেও তদন্ত কাজে অগ্রগতির কোন খবর নেই। ধৃত আসামিদের কেউ কেউ এমনকি জামিন নিয়ে বেরিয়ে গেছে বলেও জানা যায়।

সম্প্রতি ঢাকা ও রংপুরে দু’জন বিদেশী নাগরিক হত্যা, ঢাকায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খান হত্যা, পাবনার ঈশ্বরদীতে একজন ধর্মযাজককে হত্যার চেষ্টা, ২৩ অক্টোবর পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলায় দু’জন নিহত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই শাহবাগ ও লালমাটিয়ার ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতাকেই ঠেলে দিয়েছে প্রশ্নের মুখে। বিভিন্ন পর্যায়ে গোয়েন্দা কার্যক্রমসহ সরকারের নানামুখী সতর্কতা এবং তৎপরতাও শেষ পর্যন্ত মাঠে মারা যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়। প্রায় সব ঘটনাতেই যেহেতু সন্ত্রাসী জঙ্গী গোষ্ঠীর তৎপরতার সুস্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে, সেহেতু সাকা চৌধুরী, মুজাহিদের ফাঁসির রায়ের রিভিউ এবং নিজামীর আপীলের শুনানিকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে আরও অশান্ত হয়ে উঠবে না এমন কথা বলা যায় না। সময় থাকতে সরকারকে আরও সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। জঙ্গী দমনসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে আর সময় ক্ষেপণের অবকাশ নেই। দীপন হত্যার তীব্র নিন্দা, নিহতের পরিবার ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে সব লেখক, ব্লগার ও প্রকাশক হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের সম্মুখীন করা হোক।