২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

স্থিতি অস্থিতি আশঙ্কা ও জেগে ওঠা


অস্থিতিশীল করার কায়দাটা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের জন্ম হবার পর থেকে যারা এ কাজ করে বা করতে ইচ্ছুক তাদের কাছে অনেকবার হেরেছি আমরা। একেকবারে হারিয়ে ফেলা সহায় সম্পদ আর মানুষেরা এখনও অনিবার্য, এখনও আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি। বিএনপির রাজনীতি যখন তুঙ্গে, যখন তাদের জনপ্রিয়তা নামের কাঁচের স্বর্গকে তারা মজবুত ও চিরস্থায়ী মনে করত তখন থেকেই এরা সক্রিয়। জানি না কেন বা কি কারণে স্বাধীনতার সুফল ভোগকারীরাই এদের নেপথ্যে সক্রিয়। পাকিস্তান ভেঙ্গে যাবার বেদনা, ভারত ও হিন্দু বিদ্বেষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা পুঁজি করে দীর্ঘকাল চলে আসা দলটি এখন ঘোর বিপাকে। ওয়ান ইলেভেন নামের যে দমকা হাওয়ায় তার দীপ নিভে গেছে তাকে আমি কখনোই ঘোর সমালোচনার মুখে ফেলি না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলকে টার্গেট করে মাঠে নামলেও শেষমেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে মেনেই ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল তারা। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের উত্থান পর্বের শুরু সেখানে। আজ আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, গণতন্ত্রের পাশাপাশি উন্নয়ন ও তারেক জিয়ার মতো অশিক্ষিত একগুঁয়ে নেতা নামধারীর প্রবাসী হওয়ার যে চিত্র দেখছি আওয়ামী লীগের পক্ষে তা করা সহজ কিছু ছিল না।

খবরে দেখলাম সারাদেশে ত্রাস ও ভীতির সঞ্চার করার লক্ষ্যে তারা নাশকতার পরিকল্পনা এঁটেছিল। বিমানবন্দরগুলোকে টার্গেট করেছিল। একটা ছোট ঘটনার কথা উল্লেখ করি। আমার এক প্রিয়জন সম্প্রতি দেশ ঘুরে এসে জানিয়েছেন, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কলকাতা উড়াল দেয়ার সময় আশ্চর্যজনক এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, পোশাকে ব্যাজে কায়দায় পুরো আর্মির মতো দেখতে কেউ একজন তাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল, বাড়তি লাগেজ বহন করার। উচ্চপদে আসীন এক কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে একটি কি দুটি ব্যাগ বাড়তি বহন করার অনুরোধ শুনে প্রবাসী বন্ধুটি ঘাবড়ে যান। কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধি আর ভাগ্যের সহায়তায় এই আপদ থেকে মুক্তি মেলে তার। তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে বিদেশী পাসপোর্ট দেখিয়ে বলেন : যে দেশের পাসপোর্ট ও নাগরিকতা আছে, তাদের অনুমতি ভিন্ন এমন কোন কাজ করা বেআইনী। লোকটি নাকি আর কথা বাড়ায়নি। থ্যাঙ্কু দিয়ে সরে পড়েছিল। ব্যাপারটা সহজ কিছু নয়। কোন বাহিনীর কোন শীর্ষ কর্মকর্তা তো দূরের কথা নিম্ন কর্তার জন্যও এমন অনুরোধ নজিরবিহীন। তার কোন দরকার পড়ে না দেশে। তারপরও নাম বা পদবী ভাঙ্গিয়ে এমন অনুরোধের পেছনে কি স্বার্থ বা অভিসন্ধি থাকতে পারে তা অনুমান করা কঠিন কিছু নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে এরা তা করছে বা ঢুকতে পারছে? কিছুদিন আগে চট্টগ্রামগামী ছোট উড়োজাহাজে টিকেট বা বোর্ডিং বা কার্ডহীন যাত্রীর খবর দেখেছি আমরা। সময়মতো ধরা না পড়লে বা শনাক্ত করতে না পারলে কী ঘটত ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। চক্রান্ত যেমন সক্রিয় তেমনি ঢিলেঢালা আমাদের নজরদারি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে এক শ্রেণীর মানুষ খালি কথা বলেন। বড় দল বলে এ দলের ভেতর ঢুকে পড়া বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ আখের গোছানোর ধান্দায় নেতানেত্রীর মন পছন্দ গরম নরম কথা বলাতেই ব্যস্ত থাকেন, আর একদল ভাবে যা পেয়েছি তা চিরস্থায়ী। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত ধর্মীয় সংগঠন আর পাকপন্থী বদলে যাওয়া বাঙালী থাকে ওঁৎ পেতে। বলাবাহুল্য, এরাই এখন চক্রান্তের নতুন নতুন জাল বিস্তার করছে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও আমরা নিরাপত্তার অভাব দেখতে পাচ্ছি। যেটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। বিদেশে এদের দমন ও নিষ্ক্রিয় করাটা অনেক বেশি সহজ হবার পরও সুষ্ঠু তৎপরতার অভাবে তা হয় না। লন্ডনে তথ্যমন্ত্রী, বিচারপতির ওপর হামলা হবার পরও সুরাহা হয়নি, দূতাবাসগুলোর কাজ বা তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাদের কাজ কি নিরীহ স্বদেশীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নো ভিসা জাতীয় সিল ছাপ্পড় মারা? দু’একটা জাতীয় দিবসে মুজিবকোট চাপিয়ে কে কত বড় আওয়ামীপন্থী তার জানান দেয়া? না তাদের কাজ নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধীদের চিহ্নিত করে যেসব দেশের সরকারের কাছে বিচার চাওয়া? এমন হতে পারে, শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলে নিজেদের গদি ঠিক রাখার কারণেই তারা চুপ থাকেন, কিন্তু সরকার তো তা হতে দিতে পারে না। এটা মনে রাখা বাঞ্ছনীয় আজকাল প্লট বা ছক কিন্তু দেশে হয় না। প্লেয়িং ফিল্ডটা দেশ হলেও কোচ, যন্ত্রপাতি, খুনী বা পরিকল্পনা হয় অন্য কোথাও। ফলে এ দিকটায় নজর দেয়া জরুরী।