১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গণজাগরণের আল্টিমেটাম, আধাবেলা হরতাল কাল


স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক হত্যা এবং শুদ্ধস্বরের কর্ণধারসহ তিনজনকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। দেয়া হয়েছে নানা ধরনের আল্টিমেটাম। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও ক্ষোভে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। শুভাকাক্সক্ষীরা কোনক্রমেই মেনে নিতে পারছে না দীপনের মতো একজন প্রকাশক হত্যা। তাদের প্রকাশিত প্রতিটি শব্দই অগ্নিস্ফুলিঙ্গে রূপান্তরিত হচ্ছে। ঝড়ছে আক্ষেপের সুর। এদিকে পর পর দুটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশক ছাড়াও কবি ও লেখক হত্য চেষ্টায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খুনী ও হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে সরকার ব্যর্থ হলে মঙ্গলবার সারাদেশে আধাবেলা হরতাল পালন করবে বলেও জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। জড়িতদের নির্ধারিত সময়ে গ্রেফতারে সমর্থ্য হলে কর্মসূচীতে পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

গণজাগরণ মঞ্চের হরতাল আহ্বান ॥ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশক দীপন হত্যাকারী এবং শুদ্ধস্বরের প্রকাশকসহ তিনজনের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে সরকার ব্যর্থ হলে মঙ্গলবার সারাদেশে হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। রবিবার শাহবাগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ এ ঘোষণা দেন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। একই সঙ্গে ২ নবেম্বরকে শোক দিবস পালনের আহ্বানও জানান তিনি।

বিক্ষোভ সমাবেশে ইমরান বলেন, প্রকাশক ও মুক্তচিন্তার লেখকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং এতে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সারাদেশে অর্ধদিবস হরতাল পালন করবে গণজাগরণ মঞ্চ। তবে, প্রশাসন যদি হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে পারে, সেক্ষেত্রে আমাদের কর্মসূচী পুনর্বিবেচনা করব।

তিনি বলেন, সোমবার (২ নবেম্বর) শোক দিবসও পালন করবে গণজাগরণ মঞ্চ। এদিন সকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল স্থানে কালো ব্যাজ ধারণ করা হবে। সন্ধ্যায় পরের দিনের হরতালের সমর্থনে মশাল মিছিল করবে মঞ্চের কর্মীরা।

সামবেশে সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের মুখপাত্র। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, ভাস্কর রাসা, অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত, শিক্ষাবিদ এ এন রাশেদা, নারী নেত্রী রোকেয়া কবীর, খুশি কবীর, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তার প্রমুখ। মঞ্চের কর্মসূচীতে সংহতি জানায় বাসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন প্রভৃতি সংগঠনও। সমাবেশের পর উপস্থিত সকলেই সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।

আজিজ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ॥ এদিকে ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন আজিজ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। রবিবার দুপুরে আজিজ মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে টিএসসি ও কাটাবন এলাকায় মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে দীপন হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেট দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান নাজু বলেন, প্রকাশক দীপন হত্যার প্রতিবাদে রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত আজিজ মার্কেটের সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

সমিতির কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আমরা সকল ব্যবসায়ী রাস্তায় নেমে এসেছি। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বলতে চাই-ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব হত্যাকা-ের বিচার চাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে দীপন হত্যাকরীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নিন্দা ও প্রতিবাদ ॥ লেখক ও প্রকাশক হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১। সংগঠনের পক্ষে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্যে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকা- চালিয়ে যাচ্ছে।

এসব ঘৃণ্য খুনীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে আরও বলা হয়, ফোরাম বিশ্বাস করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে কোন জঙ্গী, অসহিষ্ণু মতবাদের স্থান হতে পারে না। বিবৃতিতে একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন সকল মুক্তমনা মানুষকে প্রগতি ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের ॥ প্রগতিশীল প্রকাশক ও ব্লগারদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত হামলা এবং প্রকাশক দীপন হত্যার প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। রবিবার মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাস্তা অতিক্রম করে মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা সকল ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

ইসলামী ব্যাংকের সহায়তায় ব্লগার খুন হচ্ছে ॥ ব্লগারস ক্লাব নামের একটি সংগঠন গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে দাবি করেছে, ধর্ম ব্যবসাকে পুঁজিকারী ইসলামী ব্যাংকের সহায়তায় ব্লগারদের ওপর এ নৃশংস ঘটনা ঘটে চলছে। বার্তায় বলা হয়, জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ ও ব্লগার হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে ব্লগারস ক্লাব সারাদেশে সহিংসতাবিরোধী কর্মসূচী পালন করবে।

বিভিন্ন সংগঠনের বিবৃতি ॥ এছাড়াও কমপক্ষে দশটি সংগঠন দীপন হত্যার প্রতিবাদে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি এক বিবৃতিতে জানায়, মুক্তচিন্তা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিভূ প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে পরিকল্পিত হত্যার নিন্দা জানাই। দোষীদের শাস্তির দাবি ও মৌলবাদী জঙ্গিত্বের আস্ফালন সম্পর্কে সমগ্র দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বানও জানানো হয় বিবৃতিতে।

নাগরিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটিও এক বিবৃতিতে দুঃখজনক এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট পৃথক পৃথক বিবৃতিতে দ্রুত সময়ে প্রকাশক, ব্লগার ও কবির ওপর হামলা এবং প্রকাশক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারে আহ্বান জানান। এদিকে সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও শনিবারে ঘটনার পর থেকে উত্তাল হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: