১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

প্রশ্ন ফাঁসের বিতর্ক ছাড়াই প্রথমদিনের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা


প্রশ্ন ফাঁসের বিতর্ক ছাড়াই প্রথমদিনের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সারাদেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। প্রশ্ন ফাঁসের বিতর্ক ছাড়াই প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবশে শেষ করেছে ২৩ লাখ শিক্ষার্থী। প্রথম দিন সাধারণ আট বোর্ডের জেএসসিতে বাংলা প্রথমপত্র এবং মাদ্রাসার জেডিসির কুরআন মাজীদ ও তাজবিদ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নিবন্ধন করেও প্রথম দিন পরীক্ষাকেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিল ৪১ হাজার ৮০৯ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে।

রবিবার সকালে রাজধানীতে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, ফাঁসের নামে প্রতারণা ও নকল মুক্ত করতে সরকার সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছে। সারাদেশে নির্বিঘেœ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে ঝরেপড়া রোধ ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি জাতীয় পর্যায়ের শ্রেণী উত্তীর্ণের পরীক্ষা। এ নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ছেলেমেয়েদের কোচিং সেন্টারে পাঠানোরও দরকার নেই। এ পরীক্ষার মাধ্যমে সব শিক্ষার্থী সমান সুবিধা পেয়ে থাকে, কারণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এখানে বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এবার শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা এবারও অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। এছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তারা শ্রুতি লেখক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রালপলসি) পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধিসহ শিক্ষক, অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। কোচিং সেন্টারগুলো প্রশ্ন ফাঁস করতে তাকিয়ে থাকে। আরেকটা কাজ তারা করেÑ তা হলো সাজেশন, এগুলো বেআইনী। প্রশ্ন ফাঁসের জন্য আইনকে আরও কঠোর করা হবে উল্লেখ করে বলেন, আইন নিয়েও সমস্যা আছে, ১৯৮৪ সালে যে আইন তৈরি করা হয়েছে, তা সংশোধন করে সাজা কমানো হয়েছে। আইনটাকে আরও কড়াকড়িভাবে প্রয়োগের চেষ্টা করব, ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ব্যবহার করা যায় কিনা দেখব। ফাঁস হয়েছে বলে প্রচার করলেও সাজা হবে। শিক্ষকরা পরীক্ষার হল থেকে এমসিকিউ প্রশ্ন ফাঁস করেন, এ বিষয়ে উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা খুবই অন্যায়। এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছি। ভিজিলেন্স টিমকে বলে দিয়েছি, এ ধরনের কার্যকলাপে জড়িতদের ধরা হবে।

এদিকে প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষে মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার প্রথম দিন সারাদশে নয় শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিল ৪১ হাজার ৮০৯ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ১২ হাজার ৯২ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডের দুই হাজার ৩৯১ জন, রাজশাহী বোর্ডের তিন হাজার ৮৭২ জন, বরিশাল বোর্ডের দুই হাজার ৯৫১ জন, সিলেট বোর্ডের দুই হাজার ২৫১ জন, দিনাজপুর বোর্ডের তিন হাজার ৬২৫ জন, কুমিল্লা বোর্ডের তিন হাজার ৮০৮ জন যশোর বোর্ডের চার হাজার ৫৮ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের ছয় হাজার ৬৬১ জন।

এবার এই দুই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৩ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলবে ১৮ নবেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে দুই লাখ ৩৫ হাজার ২৪১ জন। গত বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাদ্রাসার জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২০ লাখ ৯০ হাজার ৬৯২ জন।

জেএসসিতে আজ ২ নবেম্বর বাংলা দ্বিতীয়পত্র ও আগামীকাল ইংরেজী প্রথমপত্র এবং জেডিসিতে আজ আকাইদ ও ফিকহ এবং আগামীকাল বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে আমাদের চট্টগ্রাম অফিস থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে রবিবার সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেএসসি ও জুনিয়র জেডিসি পরীক্ষা। শিশুদের এ পরীক্ষায় ছিল কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি। কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে ৫টি জেলায় জেএসসি পরীক্ষায় এবার অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৫৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৭৬ হাজার ১৫৫ জন ছাত্র এবং ৯৪ হাজার ২৪৩ ছাত্রী। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ২০৪টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৭৬ জন।

মাধ্যমিক পর্যায়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এ পরীক্ষাকে ঘিরে ছাত্রছাত্রীদের অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয়টি যেমন ছিল, তেমনিভাবে তাদের বাবা-মা এবং অভিভাবকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উৎসাহ। পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত একঘণ্টা আগেই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরা চলে যান পরীক্ষাকেন্দ্রে। আসন নম্বর খুঁজে নিয়ে সন্তানদের বসিয়ে দিয়ে তারা অপেক্ষায় থাকেন কেন্দ্রের বাইরে। এরপর পরীক্ষা শেষে সন্তানদের নিয়ে ফিরে যান বাড়িতে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। তবে বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্র বেশ কঠিন হয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে। এ অভিযোগটি অনেকটা স্বীকারও করে নিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান জনকণ্ঠকে জানান, সর্বত্র সুন্দরভাবে পরীক্ষা হয়েছে। শিক্ষাবোর্ডের ১০টি ভিজিলেন্স টিম এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত ভিজিলেন্স টিমগুলো বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। কোথাও কোন ধরনের গোলযোগ হয়নি। প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটায় এবার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে বোর্ডের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য এ প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে এমন অভিযোগ তিনিও পেয়েছেন বলে জানান।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: