২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

আইএস সৃষ্টির চেষ্টা


আইএস সৃষ্টির চেষ্টা

গাফফার খান চৌধুরী ॥ হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অভিজিত রায়ের বইয়ের প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা এবং আরেক প্রকাশক ও দুই ব্লগারের ওপর হামলা একসূত্রে গাঁথা। ঘটনা দুইটির সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জড়িত বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর ধারণা। জঙ্গী সংগঠনটির দুইটি পৃথক দল প্রায় একই সময়ে হামলার ঘটনা দুইটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। দুইটি হামলার ধরন এবং ব্যবহৃত অস্ত্রও একই ধরনের। দীপন হত্যাকা-ের ঘটনায় ৭টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তার পর্যালোচনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দীপনের জানাজায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাবিদ, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষকদের অভিযোগ বাংলাদেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় এসব হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। যাতে বিশ্বের পরাক্রমশালী কোন দেশ সহজেই বাংলাদেশের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে। মূলত বাংলাদেশের ওপর বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপ করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। যা একেবারেই পূর্বকল্পিত। ইরাক ও সিরিয়ায় যেভাবে আইএস শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করেছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশীও জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটানোর চেষ্টা চলছে। এর পেছনে স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর মদদ থাকার বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট। ঘটনা দুইটির জের ধরে আজ সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে বই ও শিক্ষা উপকরণের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। এছাড়া ঘটনা দুইটির প্রতিবাদে আজিজ সুপার মার্কেটের সমস্ত দোকান ৩ দিন বন্ধ থাকবে। ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বক্তব্য ॥ শনিবার মোহাম্মদপুরে খুন হওয়া অভিজিত রায়ের বই প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর প্রকাশক ও দুই ব্লগারকে কুপিয়ে জখম এবং প্রায় একই সময়ে রাজধানীর শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটে একই লেখকের বই প্রকাশনা সংস্থা জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পৃথক ঘটনা দুইটির বিষয়ে রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি। হামলাকারী হিসেবে কেউ শনাক্ত হয়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, পৃথক দুইটি ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ আটক হয়নি। হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার দুইটির ছায়া তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, মোহাম্মদপুরের ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কর্মচারী রাসেল ও বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকম অনলাইন পত্রিকার কর্মচারী ওয়াশিকুর রহমান শক্তির জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সে সব তথ্য যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তারা হামলাকারীদের শারীরিক বর্ণনা দিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত তাজা বুলেট ও বুলেটের খোসা ছাড়াও অন্যান্য আলামতের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। একই দিন শাহবাগে হত্যা করা হয় ফয়সল আরেফিন দীপনকে।

তিনি আরও বলেন, সার্বিক পর্যালোচনায় দুইটি ঘটনার ধরন একই বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একাধিক দল ঘটনা দুইটি ঘটায়। হামলার ধরন বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা একই জায়গা থেকে বা একটি ব্যক্তির অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৫-৬ জনকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুইটি ঘটনার নেপথ্যে একই ব্যক্তি বলে মনে হচ্ছে। তিনি সিসি ক্যামেরার ফুটেজের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি। তবে টার্গেট কিলিংয়ের ব্যাপারে এবং ব্লগারদের বিষয়ে তারা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অভিজিত হত্যার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (এফবিআই) যে ১১টি আলামত সংগ্রহ করেছিল, সেগুলোর যাচাই-বাচাইয়ের পরে সে সংক্রান্ত কোন তথ্য তারা তাদের দেয়নি।

দীপনের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্য ॥ রবিবার ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কাজী মোহাম্মদ আবু সামা সাংবাদিকদের বলেন, উপুড় করে কুপিয়ে ফয়সলকে ভারি অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মাথার পেছনে ঘাড়ে তিনটি কোপের চিহ্ন রয়েছে। এর একটি ১১ ইঞ্চি দীর্ঘ ও চার ইঞ্চি গভীর। মাথার সামনে আরেকটি আঘাতের ক্ষত রয়েছে। আঘাতের ধরন অনুযায়ী ৫ মিনিটের মধ্যেই দীপনের মৃত্যু হয়েছে। দীপনের পাকস্থলীতে যে খাবার ছিল, তা এক ঘণ্টা আগে খাওয়া। দুপুরে খাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হয় বলে মনে হচ্ছে।

সব আঘাতের ধরন প্রায় একই রকম। বাড্ডায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান মুহ্ম্মদ খিজির খানকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

দীপনের পিতা ও বিশিষ্টজনদের বক্তব্য ॥ লাশ নেয়ার পর দীপনের পিতা বলেন, কেবল আইনের বিচারে একের পর এক হামলা বা হত্যার সমাধান হবে না। এ সঙ্কট থেকে বাঁচতে আদর্শগত ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তিনি সরকারের কাছে বিচার চাইবেন না বলে শনিবার যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তিনি ক্ষোভ থেকে নয়, নিজের বিবেচনাবোধ থেকে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের ভেতর যদি শুভবুদ্ধির উদয় হয় তাহলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। বিচার দিয়ে আইন-আদালত দিয়ে আমরা শাস্তি দিতে পারি একজনকে। কিন্তু জাতীয় উন্নতি দরকার। তিনি সমাজে, রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে শুভবুদ্ধির জাগরণ চান। ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া ব্লগার হত্যার আলোচিত ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, আদর্শগত ও রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। তারপরে আইনগতভাবে। তা না হলে এটা সমাধান হবে না।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় এসব হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। যাতে বহির্বিশ্বের পরাক্রমশালী কোন দেশ সহজেই বাংলাদেশের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে। মূলত বাংলাদেশের ওপর পরাক্রমশালী কোন দেশের হস্তক্ষেপ করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। যা পরিকল্পিত। ইরাক ও সিরিয়ায় যেভাবে আইএস শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করেছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশীও জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটানোর চেষ্টা চলছে। এর পেছনে স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর মদদ থাকার বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট। কবি মোহাম্মদ রফিক তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এর প্রতিবাদে শামিল হতে পারছেন না। তবে এই হত্যাকারীদের বিচার ও এ গোষ্ঠীর সমূলে বিনাস ছাড়া মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের বলেন, যে হারে নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনা ঘটছে, সে বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত সাড়ে ছয় বছরে চমৎকার কাজ করতে পেরেছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে জঙ্গী তৎপরতা এতটুকু রূপ নিতে পারত না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নীরবতা পালন করার মধ্য দিয়ে তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তার পরও আমরা বলব, আমরা তো আগুন যুদ্ধকে থামাতে পেরেছি। আমরা তো কাউকে ছাড় দিচ্ছি না।

অভিজিত রায়ের পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পদার্থবিদ অধ্যাপক ড. অজয় রায় বলেন, তার ছেলের হত্যাকারীরা গ্রেফতার হলে দীপনকে হয়ত জীবন দিতে হতো না। হত্যাকারীরা গ্রেফতার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকা- আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করেন তিনি।

এমনটাই দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অপরাধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, সমাজ থেকে এ ধরনের অপরাধ দূর করতে সামাজিক আন্দোলন জরুরী। পাশাপাশি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠী ও ব্যক্তির ওপর কড়া নজরদারি প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এ ধরনের অপরাধ সমাজ থেকে কমে যাবে।

স্থানীয়দের বক্তব্য ॥ মোহাম্মদপুরে হামলার ঘটনায় সরাসরি অন্তত ৫ জন ছিল। তবে পুরো ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারে। হত্যাকারীরা ঘটনার পর মোটরসাইকেল করে পশ্চিম দিকের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। রাস্তাটি পশ্চিম দিকে প্রায় এক শ’ গজ যাওয়ার পর উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ভাগ হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে কোন সিসি ক্যামেরা থাকার তথ্য মেলেনি। যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটানো হয় সে বাড়ির পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে থাকা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রাস্তার দৃশ্য ধারণ করার মতো কোন সিসি ক্যামেরা নেই। মোহাম্মদপুরের ঘটনাস্থলের নিচে টিনশেড বাড়ির বাসিন্দা কলেজছাত্রী সুমী বলছিলেন, বাড়িটির দুটি গেট প্রায় সর্বক্ষণ খোলা থাকে। বাড়ির নিচে কোন নিরাপত্তা প্রহরী থাকে না।

আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীর পাশের উৎস প্রকাশনীর সঙ্গে জড়িত একজন কবি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, যে সময় ঘটনাটি ঘটেছে, সে সময় সাধারণত ওই এলাকা খুবই নীরব থাকে। এমন সুযোগটিকে হত্যাকারীরা কাজে লাগাতে পারে। আর বাইর থেকে সাঁটার বন্ধ করে দেয়ার কারণে সহজেই কারও ভেতরে এমন ঘটনা ঘটতে পারার বিষয়টি মাথায় আসেনি। রক্ত যখন গড়িয়ে প্রকাশনী সংস্থাটির সামনের ফ্লোরে চলে আসে তখন মানুষের নজরে পড়ে। দেখা গেছে, জাগৃতি প্রকাশনীটি আজিজ সুপার মার্কেটের পেছনের দিকের শেষ সারিতে অবস্থিত। পূর্ব দিক দিয়ে ঢুকলে শেষ সারির দুটি দোকানের পরেই প্রকাশনী সংস্থাটির অবস্থান। সেই ফ্লোরে কোন সিসি ক্যামেরা নেই।

প্রতিবাদ সমাবেশ ॥ ঘটনা দুটির প্রতিবাদে আজ সারাদেশে আধাবেলা সব বই ও শিক্ষা উপকরণের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। রবিবার বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সব বই ও শিক্ষা উপকরণের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সোমবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

সমিতির সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন বলেন, আধাবেলা দোকান বন্ধ রাখার পাশাপাশি তিন দিন শোক পালন করবেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকাসহ সব জেলায় সমিতির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে। সোমবার কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হবে। সব জেলা কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ ও মৌন মিছিলের মতো কর্মসূচী পালন করা হবে। শ্রাবণ প্রকাশনীর কর্ণধার রবীন আহসান বলেন, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতিসহ সবাই একযোগে এই কর্মসূচী পালন করবে।

এদিকে প্রকাশক দীপন হত্যার ঘটনায় শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের সব দোকানপাট আগামী ৩ দিন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে আজিজ সুপার মার্কেট দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান নাজু বলেন, নিহত দীপন ওই সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এমন ঘোষণার আগে ব্যবসায়ীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে কাঁটাবন ঘুরে আবার আজিজ সুপার মার্কেটে গিয়ে শেষ হয়। সমিতির কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ রকম হত্যাকা- চলতে থাকলে দেশে জীবনের কোন নিরাপত্তা থাকবে না।

শুদ্ধস্বর প্রকাশনীতে তিনজনকে হত্যাচেষ্টা ॥ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়া সি ব্লকের ৮/১৩ নম্বর ৫তলা বাড়ির চতুর্থ তলায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল (৫০), লেখক এবং ব্লগার প্রকৌশলী তারেক রহিম (৪২) ও রণদীপম বসুকে (৪০) ছুরিকাঘাতে ও গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। বই কেনার কথা বলে ৪-৫ যুবক ঢুকে অফিসে থাকা ৫ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। দুই কর্মচারীকে বেঁধে রেখে তিন জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায়। আহতদের চিৎকারে লোকজন জমে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হত্যাকারীরা নিজেরাই তালা লাগিয়ে যায়। যাতে সহজেই তাদের কেউ উদ্ধার করতে না পারে। আহতদের মধ্যে প্রকাশক টুটুল এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা প্রকৌশলী তারেক রহিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মাথায় ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম ও গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তারেক একটি কম্পিউটার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

প্রকাশক দীপন হত্যা ॥ শুদ্ধস্বর প্রকাশনীতে হামলার প্রায় একই সময়ে রাজধানীর শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ১৩১ নম্বর জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে (৪০) ঘাড় ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। হত্যাকারীরা যাওয়ার সময় দোকানের শাটার ফেলে তালা লাগিয়ে যায়। দীপনের মাথাটি কম্পিউটারের কী-বোর্ডের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে ছিল। দীপনের মালিকানাধীন জাগৃতি প্রকাশনী থেকে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে হত্যাকা-ের শিকার হওয়া অভিজিত রায়ের লেখা ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ নামক বইটি প্রকাশিত হয়। দীপন ও অভিজিত স্কুল জীবন থেকেই সহপাঠী ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: