২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কার্যক্রম ৪ দিন বন্ধ ॥ কামালপুর স্থলবন্দর


নিজস্ব সংবাদদাতা জামালপুর, ৩১ অক্টোবর ॥ বকশীগঞ্জের কামালপুর স্থলবন্দরে এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ফলে এ স্থলবন্দরে ৪ দিন ধরে সকল প্রকার পণ্যের আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে সীমান্তে আটকা পড়েছে পণ্যবোঝাই শতাধিক ট্রাক। এ নিয়ে স্থলবন্দর এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ভারত থেকে ২৬ হাজার মে.টন পাথর আমদানি করার জন্য ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ীরা সরকারী কোষাগারে অগ্রীম ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব জমা দেয়। নানা কারণে দীর্ঘ ৩ মাস বন্ধ থাকার পর বুধবার ব্যবসায়ীদের এলসি করা প্রায় শত কোটি টাকার মাল ভারত থেকে আসতে শুরু করে। তখন কামালপুর স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা নুরুজ্জামান প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতি এলসিতে ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করে। ঘুষের দাবি পূরণ না করায় কাস্টমস কর্মকর্তা নুরুজ্জামান মালবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের বাধা দেয়। এই নিয়ে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও কাস্টমস কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এর পর থেকেই বন্দরের আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এই দ্বন্দ্বের কারণে ২৭ অক্টোবর থেকে কামালপুর স্থলবন্দরে সকল পণ্যের আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। বেকার হয়ে পড়েছে ৫/৬ হাজার শ্রমিক। ফলে স্থলবন্দর এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বাদী হয়ে কামালপুর স্থলবন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেসার্স মশিউর ট্রেড লিঙ্কস-এর মালিক কামালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মশিউর রহমান লাখপতি, মেসার্স তরুণ এন্টারপ্রাইজের মালিক যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুন্নবী হাল্লাল ও ইমরান এন্টারপ্রাইজের মালিক ইব্রাহীম রহমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে আমদানি রফতানিকারক ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কামালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান জোবায়ের হিটলার জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালির কারণে বন্দরে অচলবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় শত কোটি টাকার মালামাল আটকা পড়ে আছে। ফলে ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান দাবি করেন।

এ ব্যাপারে আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মোকাদ্দেছ রিপন জানান, মামলা মোকদ্দমা করার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। ব্যবসায়ীদের হয়রানি করতেই ওই মামলা দায়ের করা হয়েছে। বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্থলবন্দর এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য গেলে সহস্রাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, বন্দর এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত রাজস্ব কর্মকর্তার খামখেয়ালির জন্য আমদানি-রফতানির কাজ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।