২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

নীলফামারীতে গরুর ক্ষুরা রোগে দিশেহারা কৃষক


স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ গরুর মুখ দিয়ে অনবরত লালা ঝরছে। মুখে ও পায়ে ঘা, দাঁতের মাড়ি নরম হয়ে দাঁত নরবড়ে হয়েছে। গরু খাদ্য গ্রহণ করতে না পারায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে অনেকের গরু মারা যাচ্ছে। এমন লক্ষণকে কৃষক বলছে ক্ষুরারোগ (এফএমডি)। সদর উপজেলায় বিচ্ছিন্নভাবে আকস্মিক এ ক্ষুরারোগের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। প্রাণিসম্পদ দফতর বলছে, ওই রোগ প্রতিরোধে যে টিকার প্রয়োজন তা চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।

জানা গেছে, পৌরসভার হাড়োয়া সরকারপাড়া, দেবীরডাঙ্গা, টুপামারী ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া, খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের গাইবান্ধা মসজিদপাড়া, ঢাকাইয়াপাড়া, পাটকামুরী, কাজিয়ার মোড়, রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ি, পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের দিঘলটারী, ইটাখোলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে পাঁচ শতাধিক গরু ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে। রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে এসব গ্রামের কৃষকরা জানায়।

খোকসাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান প্রধান বলেন, ‘আমার একটি গরু আক্রান্ত হয়েছে।‘ কৃষকদের অভিযোগ, ওই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় উপযুক্ত সময়ে গরুর টিকা প্রদান। প্রাণিসম্পদ দফতরে যোগাযোগ করে আমরা ক্ষুরারোগের টিকা সরবরাহ পাইনি। এখন অফিসে গেলে এক বোতল ওষুধ পানিতে মিশিয়ে দিয়ে সেটা খাওয়াতে বলছে। বেশি সমস্যা হলে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলছেন কর্তৃপক্ষ।’

হাড়োয়া সরকারপাড়ার কৃষক খিরধর রায় জানান, তার পাঁচটি গরু আক্রান্ত হয়েছে ক্ষুরারোগে। এরমধ্যে একটি গাভী গত বুধবার নীলফামারী হাটে বিক্রি করতে গেলে সেটির মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, ‘ক্ষুরারোগে আক্রান্ত গরু সেরে উঠলেও সহজে সবল হয়ে ওঠে না।’

একই গ্রামের নুরে আলম বলেন, আমার বাড়িতে সাতটি গরুই ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে। গরুর চিকিৎসা করেও সুস্থ হয়ে উঠছে না। গত বছর একই সময়ে আমার একটি গাভী ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এবারও গরু মরবে বলে তার আশঙ্কা। এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান বলেন, সরকারীভাবে টিকা সরবারহ কম হওয়ায় কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে টিকা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কিছু জায়গায় ওই রোগ দেখা দিয়েছে। কোন কৃষক খবর দিলে আমরা সেখানে গিয়ে ক্যাম্প করে টিকা দিচ্ছি।