১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সবখানে সবুর খানের ভক্ত?


স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী খান এ সবুরের (সবুর খান) নামে কোন স্থাপনা থাকতে পারবে না বলে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছে। আদেশের দুই মাস অতিবাহিত হলেও খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এ ব্যাপারে নীরব রয়েছে। কেসিসি’র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা আদেশের কপি পাননি। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্ট থেকে অর্ডার পাঠানো হয়েছে খুলনার আদালতে। যদি অর্ডার পাঠানো হয়ে থাকে তাহলে তা সিটি কর্পোরেশনে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে কেন? এ প্রশ্ন যেমন রয়েছে তেমনি আওয়ামী লীগসহ খুলনার অন্যান্য রাজনৈতিক দলই বা কেন স্থাপনা থেকে সবুর খানের নাম অপসারণের ব্যাপারে নিরবতা পালন করছে। তা হলে কি স্বাধীনতা বিরোধী সবুর খানের ভক্ত এখনও সবখানে রয়েছে? এ সব প্রশ্ন খুলনার সচেতন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৩ মে বরেণ্য লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির ও বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, লেখক, গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বাদী হয়ে স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী খান এ সবুরের নাম খুলনার প্রধান সড়ক থেকে প্রত্যাহারের জন্য হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত সবুরের নাম স্থগিতের নির্দেশ প্রদান করেন। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে তৎকালীন সিটি মেয়র কোন উদ্যোগ নেননি। বর্তমান মেয়রও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বরেণ্য এই দুই ব্যক্তি পুনরায় হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের নামে সড়ক, প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা কেন নিষিদ্ধ হবে না এই মর্মে রিট পিটিশন দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত শুনানি শেষে গত ২৫ আগস্ট রায় দিয়েছেন। আদালতের দেয়া রায়ে খুলনা মহানগরীর ‘খান-এ-সবুর’ সড়কের নাম প্রত্যাহার করে আগের ‘যশোর রোড’ নামটি ব্যবহার করতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাহ আজিজুর রহমান’ হলের নামও প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ের পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও খুলনা সিটি কর্পোরেশন সবুর খানের নাম অপসারণে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গত ৩০ আগস্ট একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি খুলনার পক্ষ থেকে সিটি মেয়রের নিকট রায়ের অনুলিপি হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম জানান, স্মারকলিপি প্রদানকালে সিটি মেয়র বলেছিলেন রায়ের কপি পেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। রায়ের কপি না পাওয়ার অজুহাতে কেসিসি কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্ট থেকে আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে। তাহলে কোথায় আটকে আছে আদেশের কপি? আর কেনই বা আটকে আছে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে আদালতের রায়ের পর গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে ছাত্রলীগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি নগরীর জোড়াগেট, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন স্থানের প্রধান সড়কে স্থাপিত সবুর খানের নামফলক ভেঙ্গে ফেলে এবং বিভিন্ন দোকানের সাইনবোর্ড থেকে সবুরের নাম মুছে দেয়। কিছু ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের বাড়ির নেমপ্লেট ও দোকানের সাইনবোর্ড থেকে সবুর খানের নাম মুছে ফেলে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ সবুর খানের নাম অপসারণে এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়নি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ, সিপিবি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যান্য দলের কিছু নেতা ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে এ ব্যাপারে কিছু ভূমিকা রাখলেও দলগতভাবে কোন পদক্ষেপ নেই।