মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

শক্তিশালী হচ্ছে মার্কিন ডলার

প্রকাশিত : ১ নভেম্বর ২০১৫
  • টাকার মান কমছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রায় নয় মাস ৭৭ টাকা ৮০ পয়সায় স্থির থাকার পর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মার্কিন মুদ্রা ডলার একটু ‘নড়াচড়া’ শুরু করে। এখন প্রতিদিনই কমছে টাকার মান।

গত সপ্তাহের শেষ দিন আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে এক মার্কিন ডলারের জন্য ৭৭ টাকা ৮৩ পয়সা খরচ করতে হয়েছিল। এই সপ্তাহের শেষ দিন প্রতি ডলারের জন্য ২০ পয়সা বেশি গুনতে হয়েছে। এই সপ্তাহের চারদিনের প্রতিদিন ৫ পয়সা করে কমেছে টাকার মান। তার মানে শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। কার্ব মার্কেটে ডলারের দর উঠেছে ৮২ টাকা পর্যন্ত। রফতানি আয় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা পড়ায় বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে ডলারের দাম বাড়ার কারণ দেখাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ এ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান। টাকা দুর্বল হওয়ার এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।

তবে টাকার মান কমার এই প্রবণতা রেমিটেন্স ও রফতানি বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত। তিনি বলেন, বাজার থেকে ডলার কিনে এক ধরনের হস্তক্ষেপ করে এতদিন ডলার-টাকার বিনিময় হার স্থির রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কেউ আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে না। দাম আরও বাড়তে পারেÑ সে আশায় সবাই ডলার আটকে রাখছে। আর সে কারণেই দাম বাড়ছে। হঠাৎ করে ডলারের চাহিদা কেন বেড়েছেÑ এ প্রশ্নের উত্তরে বিআইডিএসের এই গবেষক বলেন, আমদানি বেড়েছে। সরকারের বড় বড় প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির এলসি খোলা হচ্ছে। এছাড়া ডলার ছাড়া অন্যান্য দেশের মুদ্রার মান পড়ে যাওয়ায় রফতানি আয়ও কম আসছে। রেমিটেন্স প্রবাহেও ধীরগতি। সবকিছু মিলিয়েই বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

তবে এতে উদ্বেগের কোন কারণ দেখছেন না জায়েদ বখত। তিনি বলছেন, প্রচুর রিজার্ভ আছে। কোন অসুবিধা হবে না; বরং রফতানি আয় ও রেমিটেন্সের জন্য ভাল হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত বৃহস্পতিবারই ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে প্রথমবারের মতো। এ ব্যাপারে জায়েদ বখত মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে রেমিটেন্স ও রফতানি আয়ের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে ডলারের বিপরীতে টাকা দুর্বল হওয়া দরকার। উল্লেখ্য, চলতি অক্টোবর মাসের ২৩ দিনে (১ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত) ৮২ কোটি ১৭ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। তার আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ৩৯৩ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা ছিল গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ কম।

ডলার শক্তিশালী হওয়ায় আগে প্রবাস থেকে পাঠানো মুদ্রা ভাঙিয়ে যে টাকা পাওয়া যেত, এখন তার চেয়ে বেশি পাওয়া যাবে। আবার পণ্য রফতানি করে পাওয়া ডলারের বাংলাদেশী টাকায় মূল্যমানও হবে বেশি। টাকা শক্তিশালী থাকা অবস্থায় রফতানিকারকদের তুলনায় আমদানিকারকরা বেশি লাভবান হচ্ছিলেন। কারণ টাকার মূল্যে হিসাব করলে সব পণ্যের আমদানি খরচ কম পড়ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ সালে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তখন এক ডলার কিনতে ৮৫ টাকা লাগত। গত তিন বছরে সেই ডলারের দর পড়তে পড়তে গত বছরের আগস্টে ৭৭ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে এসেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি ডলার ৭৭ টাকা ৮০ পয়সায় স্থির ছিল।

রফতানি বাড়াতে সম্প্রতি চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না চীনা মুদ্রা ইউয়ানের বিনিময়মূল্য বেশ খানিকটা কমিয়েছে। বাংলাদেশে অর্থনীতিবিদরা রফতানি ও রেমিটেন্স বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে টাকার মান কমানোর পরামর্শ দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সাড়া দেয়নি। এখন সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দুই সপ্তাহ ধরে বাজার থেকে কোন ডলারও কিনছে না তারা। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট ১৭৫ কোটি (১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন) ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সবমিলিয়ে ৩৪০ কোটি (৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার আগের বছরে (২০১৩-১৪) কেনা হয় ৫১৫ কোটি ডলার। ২০০৩ সালে বাংলাদেশে ভাসমান মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা (ফ্লোটিং) চালু হয়। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে টাকা-ডলারের বিনিময় হারে হস্তক্ষেপ করেছে। তার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার-টাকার বিনিময় হার ঠিক করে দিত। সে দরেই ডলার লেনদেন হতো।

প্রকাশিত : ১ নভেম্বর ২০১৫

০১/১১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অর্থ বাণিজ্য



শীর্ষ সংবাদ: