মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সিল্ক খাতের উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকার ফান্ড হবে

প্রকাশিত : ১ নভেম্বর ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী দুই বছরের মধ্যে সিল্ক খাতকে ৫শ’ কোটি টাকার সেক্টরে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। তাই এ খাতের উদ্যোক্তাদের এক শ’ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হবে। এছাড়া এই খাতের উন্নয়নের জন্য শীঘ্রই একটি ওয়ার্কিং কমিটি করা হবে বলে জানান এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে ‘বাংলাদেশের সিল্কের রফতানি সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ও দ্য ফ্রেডরিচ নাউমান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডম (এফএনএফ) বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মাতলুব আহমাদ বলেন, এ খাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেশের সুনাম আর ঐহিত্য। বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৭ কোটি টাকার খাত। তবে এর রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। সবাই মিলে কাজ করলে ২০১৭ সালের জুন মাস নাগাদ অর্থাৎ আগামী দুই বছরে মধ্যে সিল্ক খাতকে ৫শ’ কোটি টাকার সেক্টরে পরিণত করা যাবে।

তিনি বলেন, সিল্ক খাতের উন্নয়নের জন্য এক শ’ কোটি টাকার ফান্ডের (ব্যাংক ঋণ) ব্যবস্থা করা হবে। আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান মাতলুব আহমাদ।

সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহ-সভাপতি শফিউল আলম মহিউদ্দিন বলেন, সিল্ক শুধু একটা পণ্য নয়, এটা ‘কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং’ও করে। আর সিল্কের তৈরি পোশাক রফতানি করতে হলে সবার আগে তৃণমূলে সহায়তা বাড়াতে হবে।

বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সিল্ক খাতের উন্নয়নে এই খাতের সঙ্গে জড়িত সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ১১টি বাগান রয়েছে। এগুলো কমপক্ষে ১০ বছরের জন্য উদ্যোক্তাদের মাঝে লিজ দিতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চীফ (বস্ত্র সেল) রুহুল আমিন বলেন, সিল্ককে ‘কুইন’ বলা হয়। এই রানীকে বাঁচাব, নাকি তা শেষ হয়ে যাবে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, সিল্কের প্রোডাকশন থেকে হ্যাঙ্গার পর্যন্ত কোথায় কোথায় কী কী সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করতে হবে। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহায়তা করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে উদ্যোক্তারা বলেন, চীনে উৎপাদিত ‘লুক লাইক সিল্ক’ ও ‘সিনথেটিক সিল্ক’ সিল্কের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রোডাক্ট এ্যান্ড ডিজাইন ডেভেলপমেন্টের কোন বিকল্প নেই। সিল্ক আমদানিতে ট্যাক্স কমালে পণ্য উৎপাদন বাড়বে।

মূল প্রবন্ধে এফএনএফ’র কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ড. নাজমুল হোসাইন বলেন, বিশ্বের প্রায় ৮১ শতাংশ সিল্কের উৎপাদনকারী চীন। ভারত উৎপাদন করে প্রায় ১৭ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশের উৎপাদন মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, যা প্রায় ২৪ মেট্রিক টন। তবে এক উদ্যোক্তা বলেন, মূলত বাংলাদেশের উৎপাদন বছরে আড়াই থেকে তিন মেট্রিক টন।

নাজমুল হোসাইন বলেন, সিল্ক আমদানিকারক দেশের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত ও চীন।

তাই বাংলাদেশের সিল্ক খাতের উন্নয়নের জন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি বাড়ানোরও তাগিদ দেন তিনি। এজন্য বিনিয়োগ বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক নক্সা এবং বিপণন ব্যবস্থা আরও উন্নত করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রকাশিত : ১ নভেম্বর ২০১৫

০১/১১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অর্থ বাণিজ্য



শীর্ষ সংবাদ: