২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হতে পারেন মার্চেন্ডাইজার


দ্রুত বিকাশমান শিল্পের মধ্যে গার্মেন্ট অন্যতম। দেশের অর্থনীতিতে গত কয়েক দশকে এ শিল্পের অবদান অতুলনীয়। গার্মেন্ট শিল্প বাংলাদেশের মোট জাতীয় রফতানি আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আসে পোশাক শিল্প থেকে। এ শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৭০ লাখ মানুষ। অর্থাৎ এ শিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ শিল্পের অনেকগুলো কর্মক্ষেত্র রয়েছে। এর মধ্যে মার্চেন্ডাইজিং অন্যতম। চাইলে আপনিও ক্যারিয়ার গড়ুন এ পেশায়।

মার্চেন্ডাইজার ও মার্চেন্ডাইজিং কী : মার্চেন্ডাইজার পোশাক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। বিদেশী বায়ারদের সঙ্গে মূল্য নির্ধারণ থেকে শুরু করে জাহাজীকরণ পর্যন্ত মূল কাজগুলো মার্চেন্ডাইজাররা করে থাকেন। পোশাক তৈরিতে যত রকম কাপড় ও এক্সেসরিজ যেমনÑ বাটন, জিপার, সুতা, লেবেল, টুইল টেপ, পলি, কার্টন, গামটেপ ইত্যাদি প্রয়োজন, তা দরদাম করে এলসির মাধ্যমে কেনা মার্চেন্ডাইজারের অন্যতম দায়িত্ব। মার্চেন্ডাইজিং পেশায় ন্যূনতম যোগ্যতাসম্পন্ন কোন মার্চেন্ডাইজারের মাসিক বেতন হতে পারে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, যা যোগ্যতা অনুযায়ী এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ শিক্ষিত বেকার। কিন্তু পেশাগত কোন প্রশিক্ষণ না থাকায় তারা বিশেষ কোন পেশায় জড়িত হতে পারছেন না। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পূরণে আমাদের দেশের শিল্প মালিকরা বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে বিদেশীদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা মোটা অঙ্কের বেতনে নিজেকে এ পেশায় বিদেশীদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন অনায়াসে। স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা সমমানের যে কোন ডিগ্রীধারী এ পেশায় প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক ও স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন। অন্যদিকে মার্চেন্ডাইজিং শব্দের অর্থ বণিক বা ব্যবসায়ী। গার্মেন্ট বা বায়িং হাউসগুলোতে রফতানি ও আমদানি কাজে অর্থাৎ আন্তর্জাতিক কেনাবেচায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করাই তাদের কাজ। আরও বিশদভাবে বলতে গেলে বিদেশী বায়ারদের কোন সুনির্দিষ্ট স্টাইলের ওপর প্রাইস অফার করা, প্রাইস এ্যাকসেপ্ট হলে চাহিদা অনুযায়ী কাপড় ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি সরবরাহ করা এবং বায়ারদের অনুমোদন সাপেক্ষে তা যথাসময়ে জাহাজীকরণ করাই মূলত একজন মার্চেন্ডাইজারের কাজ।

কোথায় নেবেন প্রশিক্ষণ: পোশাক শিল্পের পণ্য রফতানির গোড়ার দিকে এদেশে তেমন কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল না। তবে গত ১০ বছরে গার্মেন্ট মালিক সমিতির (বিজিএমইএ) উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বিআইএফটি নামের একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি। দক্ষ মার্চেন্ডাইজার ও গার্মেন্ট টেকনিশিয়ান তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও কিছু মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে এমআইএফটি অন্যতম। এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠেছে বাংলাদেশ মার্চেন্ডাইজারস এ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে। গড়ে উঠেছে ‘এমআইএফটি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন দেশের সেরা ও সিনিয়র মার্চেন্ডাইজাররা। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে আছেন গোলাম মাওলা। তিনি বলেন, মার্চেন্ডাইজিং করার জন্য দক্ষতা দরকার এবং এজন্য প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ। এমআইএফটিতে যা শেখানো হয়, তা খুবই প্র্যাকটিক্যাল ও যুগোপযোগী। তাই এমআইএফটি থেকে এক বছরের ডিপ্লোমা ইন এ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং কোর্স শেষ করে অনেক শিক্ষার্থীই সাফল্যের সঙ্গে চাকরি করছেন।

যোগাযোগ : মেঘ হাউস (চতুর্থ তলা), শাহ্ মখদুম এভিনিউ, বাসা: ২০, সেক্টর: ১১, উত্তরা। ফোন : ০১৭১৬৬৭২৬৬৩।

মাঈন উদ্দিন