২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের কারণে ভারতের ফুটবলের দৈন্যদশা


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ভারতের ফুটবল এখনও পেশাদার হওয়ার মতো পর্যায়ে যায়নি, বরং ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শর্তের চাপে ফুটবলের ক্ষতি হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী দলগুলোর অনুর্ধ ৭-১০, ১১-১৩, ১৪-১৫, ১৬-১৭ এবং ১৯ দল গঠন করা বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ থাকতে হবে, সহকারী নিতে হবে ‘বি’ লাইসেন্স কোচ-ও। ক্লাব লাইসেন্সিংয়ে চার্চিল ব্রাদার্স, ইউনাইটেড ক্লাবসহ চারটি ভাল দল ‘আই লীগ’ থেকে বাদ পড়েছে। কলকাতা মোহামেডানের মতো দল নেমে গেছে দ্বিতীয় স্তরে। পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান খেললেও তাদের ফুটবল কাঠামো ভারত বা বাংলাদেশের মতো না। উপমহাদেশের ফুটবলের আধিপত্য বাংলাদেশ-ভারত কেন্দ্রিক। তাই উপমহাদেশের ফুটবলকে বাঁচাতে হলে এএফসিকে কিছুটা ছাড় দেয়া উচিত বলে মনে করেন কলকাতা মোহামেডানের কোচ সুব্রত ভট্টাচার্য্য। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে সেমিতে উঠতে না পেরে বিদায় নিয়েছে ভারতের কলকাতা মোহামেডান। ভারতের ফুটবল নিয়ে তার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ হয়। শুধু ভারত নয়, উপমহাদেশের ফুটবল নিয়েই হতাশ তিনি। বাণিজ্যিক ফুটবল আইসিএলকে তিনি ‘মৌসুমী মেলা’ বলে করেন। এই মেলা দিয়ে ভারতের ফুটবলের কোন উন্নতিই হচ্ছে না। ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবল নিয়ে দুই মাস নাচানাচি হয়, খেলা শেষ উধাও! দুই মাসের খেলা দিয়ে কি ফুটবল বাঁচানো সম্ভব? বিপিএল দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কি উন্নতি হয়েছে?’

ক্লাব আর জাতীয় দল এক না। ক্লাব ভাল না করলে জাতীয় দলও ভাল হবে না। জাতীয় দলের স্বার্থে ক্লাবগুলো যেন ভাল করতে পারে ফেডারেশনকে নজর রাখতে হবে। সুব্রতর মন্তব্য, ফেডারেশনের উচিত ক্লাবগুলোকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা। ক্লাবের উচিত বিপণনে জোর দেয়া। কলকাতার ক্লাবগুলো এখন ব্র্যান্ডিংয়ে জোর দিয়ে ম্যাচের দিন জার্সি, কোটপিনসহ কিছু সুভ্যেনীর বিক্রি করছে। কিন্তু এভাবে তো বেশি অর্থ পাওয়া যায় না। আই লীগের দলগুলো ধুঁকছে অর্থ সঙ্কটে। সমস্যা শুধু ভারত না, উপমহাদেশের। কিংফিশার ইস্ট বেঙ্গলের টাইটেল স্পন্সর থাকায় ভাল দল গড়ছে, তারা চলে গেলে কি হয় বলা কঠিন! ম্যাকডোয়েল চলে যাওয়ায় মোহনবাগানের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। পাঁচ বছর আগে ব্যাগ পাইপার মোহামেডানের পৃষ্ঠপোষক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, মাদক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়নি বলে ধুঁকছে! ইত্তেহাদ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা চলছিল, শেষ পর্যন্ত দলকে দ্বিতীয় স্তরে নামিয়ে দেয়ার পর তারাও পিছিয়ে গেছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: