২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শারজায় সিরিজ ফয়সালার লড়াই


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মরুর বুকে জমে উঠেছে পাকি-ইংলিশ ক্রিকেট দ্বৈরথ। রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার পর আবুধাবির প্রথম টেস্ট ড্র হয়। দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ১-০তে লিড পাকিস্তানের। দুবাইয়ের ম্যাচটিও ছিল অবিশ্বাস্য রকমের নাটকীয়তায় ভরা। ১৭৮ রানে মিসবাহ-উল হকের দল জিতেছে বটে, তবে ড্রও হতে পারত, পঞ্চম দিন শেষ বেলায় ৬ ওভার বাকি থাকতে হার মানে ইংলিশরা। ম্যাচের পর অধিনায়ক এ্যালিস্টার কুক বলেন, ‘ক্রিকেট আসলেই গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। ভাগ্য সহায় হলে দুটি ম্যাচেই আমরা জিততে পারতাম!’ ফয়সালার টেস্ট সামনে রেখে তাই চাপের মুখে ইংলিশরা। ড্র করে সিরিজ বাঁচাতে হলে শারজায় আজ থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় ও শেষ টেস্টে জিততেই হবে তাতের। অন্যদিকে ড্র হলেও সিরিজ পাকিস্তানের। তবে জয় ছাড়া ভিন্ন কিছু ভাবছেন না পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক।

একদিকে সিরিজ বাঁচাতে ইংলিশদের মরণপণ লড়াই, অন্যদিকে উজ্জীবিত পাকিস্তানের লক্ষ্য ২-০, সাফল্যের সঙ্গে শেষ হাসি হাসা। শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা বারোটায়। পাকিস্তানের শোয়েব মালিক, আসাদ শফিক এবং ইংল্যান্ড অধিনায়ক এ্যালিস্টার কুক, সেনসেশনাল জো রুটের দুরন্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে চারদিনেই আবুধাবি টেস্ট ড্র’র পথ পেয়ে যায়। ফলে প্রথম টেস্টে ফলাফল প্রত্যাশা করেনি কেউ। দীর্ঘদিন পর ফেরা মালিকের ম্যারাথান ডাবল সেঞ্চুরি (২৪৫) ও শফিকের সেঞ্চুরির (১০৭) সৌজন্যে ৮ উইকেটে ৫২৩ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। ডাবল সেঞ্চুরির জবাবে ডাবল সেঞ্চুরি, কুকের ২৬৩ রানের দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরি, রুট (৮৫), ইয়ান বেল (৬৩) ও বেন স্টোকসের (৫৭) তিন হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৫৯৮ রানে ইনিংস ঘোষণার করে ইংলিশরা।

ক্রিকেটে নবিশও তখন ড্র দেখছিলেন। কিন্তু পঞ্চম দিনে পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ফলাফলের পথ বের হয়ে আসে। বোলারদের নৈপুণ্যে উল্টো জয়ের স্বপ্ন দেখে ইংল্যান্ড! দিনের একেবারে শেষ মুহূর্তে আলোর স্বল্পতায় আম্পায়াররা বেল তুলে নিলে জয়বঞ্চিত হয় ইংলিশরা। দুবাইয়ের দ্বিতীয় টেস্টে বড় জয়ে এগিয়ে গেলেও এই ম্যাচটিও ছিল নাটকীয়তাপূর্ণ। অলআউট হলেও অধিনায়ক মিসবাহর সেঞ্চুরির (১০২) ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৭৮ রানের চ্যালেঞ্জিং পুজি পায় পাকিস্তান। ইংল্যান্ডকে ২৪২Ñএ গুটিয়ে দিয়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে পাকিরা। ইউনুস খানের সেঞ্চুরির (১১৮) সৌজন্যে ৬ উইকেটে ৩৫৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে কার্যত জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় পাকিস্তান। ৪৯১ রানের অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে ১৯৩ রানে ৭ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তখনই ইংলিশ লোয়ার-অর্ডার মিসবাহকে চিন্তায় ফেলে দেয়।

অবিশ্বাস্যভাবে প্রায় ৩০ ওভার খেলে ফেলেন আদিল রশিদ (৬১) ও স্টুয়ার্ট ব্রডরা (৩০)! ম্যাচের ৬ ওভার বাকি থাকতে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। নাটকীয়তার পর শেষ হাসি হাসে পাকিস্তানই। এগিয়ে থাকা পাকিরা তাই আত্মবিশ্বাসী। অধিনায়ক মিসবাহ যেমন বলেন, ‘সিরিজের লিড আমাদের চালকের আসনে বসিয়েছে। শারজায় তাই চাপ কম থাকবে। যদিও জয় বা ড্র হলেই চালবে, তবে আমরা জয় ছাড়া কিছু ভাবছি না। লক্ষ্য ২-০তে সিরিজ জিতে নেয়া।’ ইনজুরির জন্য প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি প্রধান স্পিনার ইয়াসির শাহ। দ্বিতীয় টেস্টে দারুণভাবে ফিরে এসেছেন তিনি। সম্প্রতি দলটির সাফল্যের অন্যতম রূপকার তিনি। মাত্র ১১ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৬৯ উইকেট নিয়ে অবিশ্বাস্য রকমের সফল ২৯ বছর বয়সী এই লেগস্পিনার। পেস আক্রমণে দারুণ ফর্মে দ্বিতীয় টেস্টের নায়ক ওয়াহাব রিয়াজ। ব্যাট হাতে মিসবাহ, ইউনুস, মালিক, শফিক, সরফরাজকে নিয়ে দলটির ব্যাটিং লাইন খুবই সমৃদ্ধ। যদিও ইনজুরির জন্য এই ম্যাচে তারা পাচ্ছে না পেসার ইমরান খানকে। পরিবর্তে রাহাত আলিকে দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে শারজায় জিতে সিরিজ ড্র করতে মরিয়া ইংল্যান্ড অধিনায়ক কুক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে দ্বিতীয় টেস্ট হেরে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। প্রথম টেস্টে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয়েছে। দ্বিতীয়টিও বাঁচাতে পারতাম। শারজায় আগের দুই ম্যাচের ভুল শুধরে মাঠে নামব। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ম্যাচ জিতে সিরিজ ড্র করা।’ ইনজুরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মার্ক উডকে পাচ্ছে না ইংলিশরা।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: