মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

১৫ বছর মেয়াদী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

প্রকাশিত : ১ নভেম্বর ২০১৫
  • সিপিডির সংলাপ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন উন্নয়নবিদরা। তারা বলছেন, এমডিজির তুলনায় এসডিজি বহুগুণ উচ্চাভিলাষী। এসডিজি অর্জনে ব্যয় হবে এমডিজির তিনগুণ অর্থ। তাই অর্থায়নই এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দাতাদের কাছ থেকে বিশেষ কোন প্রতিশ্রুতি না থাকায় অভ্যন্তরীণ খাত থেকেই অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। সরকারী ও বেসরকারী উৎস থেকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এছাড়া দুর্নীতি হ্রাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা, সাংবিধানিক ও স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। আর এজন্য নীতি নির্ধারকদের আন্তরিক সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

শনিবার এসডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে তারা এসব কথা বলেন। ‘ন্যাশনাল লেভেল ইমপ্লিমেন্টেশন চ্যালেঞ্জ অব ২০৩০ এসডিজি এজেন্ডা’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টার অডিটোরিয়ামে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে উপস্থাপনের সময় তিনি এসডিজিকে এমডিজির তুলনায় বহুগুণ উচ্চাভিলাষী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকার তালিকায় এসডিজির ১০টি লক্ষ্য খুব বেশি একীভূত নয়। লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এসডিজি অর্জনে সরকারের প্রধান কাজ হবে বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচীকে জাতীয় পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করা এবং কোন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এসডিজি বাস্তবায়ন হবে- তা নির্ধারণ করা। সেইসঙ্গে সম্পদের প্রাপ্যতা এবং তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরী। এসডিজির পুরো বিষয়টি তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নেতৃত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সপ্তম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনায় এসডিজির অনেক বিষয় আসেনি। এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে আরও দুইটি পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনা পাওয়া যাবে। তখন এসডিজির বাকি ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে দুর্নীতি হ্রাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেলে এবং কর্মক্ষম বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারলে নির্ধারিত সময়ের (২০৩০ সাল) মধ্যেই এসডিজির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলেও মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ১৬টির সফল বাস্তবায়ন নিয়ে আমার কোন সংশয় নেই। কিন্তু ১৩ নম্বর লক্ষ্য (জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা) বাস্তবায়ন এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। উন্নত দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ করে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জলবায়ুর ক্ষতি করছে। এর দায় তাদের নিতে হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় করণীয় সবক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাকের চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আবেদ বলেন, দারিদ্র্যবিমোচন সহজ কাজ নয়, তাই একে হালকাভাবে দেখলে হবে না। এসডিজিকে কেবল জাতিসংঘ বা বিভিন্ন দেশের সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা ভাবলেও ভুল হবে। এসডিজির লক্ষ্যগুলো মূলত ‘সিটিজেন এজেন্ডা’। বাংলাদেশের মতো দেশের প্রত্যেক নাগরিকের প্রত্যাশা দারিদ্র, ক্ষুধা, রোগব্যাধি, অশিক্ষা, জেন্ডার বৈষম্য প্রভৃতি থেকে মুক্তি। কিন্তু এসব থেকে মুক্তির উপায় কী হবে তা তাদের জানা নেই। মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত হলে এসডিজির লক্ষ্য ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার জানতে পারবে। এতে সচেতনতা বাড়বে ও এসডিজি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

এসডিজি অর্জনে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ডি ওয়াটকিনস বলেন, এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু এসডিজির চ্যালেঞ্জ আরও বহুমাত্রিক। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ১০ (বৈষম্য হ্রাস) ও ১৬ নম্বর (শান্তি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা) লক্ষ্য দু’টিকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। এ দুটোর বাস্তবায়নে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের দৃঢ় সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জা আজিজুল ইসলাম, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনজুর আহমেদ, ওয়াটার এইডের কর্মকর্তা ড. খাইরুল আলম, সলিমুল হক প্রমুখ।

প্রকাশিত : ১ নভেম্বর ২০১৫

০১/১১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



শীর্ষ সংবাদ: