২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সমরজিতের হারানো দিনের গান


সমরজিতের হারানো দিনের গান

গৌতম পাণ্ডে ॥ ‘আমি এতোযে তোমায় ভালবেসেছি’, ‘বধুয়া আমার চোখে জল এনেছে হায় বিনাকারণে’, ‘যত ভাবি ভুলে যাব মনো মানে না’ ‘যদি কাগজে লেখ নাম সে নাম ছিড়ে যাবে’সহ বিভিন্ন গানে মিলনায়তনের পরিবেশ যেন ফিরে গিয়েছিল সঙ্গীতের স্বর্ণালি দিনে। বেশিরভাগ মধ্য ও বৃদ্ধবয়সী শ্রোতা গানের অনুরণনে ফিরে গিয়েছিলেন যৌবনের সোনালি অধ্যায়ে। কোন কোন শ্রোতাকে তাই অনুরোধ করতে শোনা যায় মান্নাদের ‘অভিমানে চলে যেওনা’, ‘বারে বারে শুধু আঘাত করিয়া যাও’, ‘তুমি কি সেই আগের মতোই আছো’সহ হৃদয়ছোঁয়া নানান গানের। শিল্পী সমরজিৎ রায় শ্রোতাদের নিরাশ করেননি। গেয়ে চলেছেন একের পর এক গান। সব মিলিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল সঙ্গীতে সরব। শ্রোতার উপস্থিতি এতই বেশি ছিল যে অনেককে মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে গান শুনতে দেখা যায়। শিল্পী সমরজিৎ বয়সে তরুণ হলেও সঙ্গীতের সকল ধারায় পারঙ্গম। বাংলাদেশের কক্সবাজারের চকোরিয়ায় জন্ম নেয়া এই শিল্পী নিউ দিল্লীর গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয় থেকে হিন্দুস্তানী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে বিশেষ ডিগ্রী নেয়ার পাশাপাশি আইসিসিআর স্কলারশিপও অর্জন করেন। গানে তাঁর হাতেখড়ি চট্টগ্রামের শিল্পী নির্মলেন্দু চৌধুরীর কাছে। ভারতের পদ্মশ্রী প-িত মধুপ মুদগল ও প-িত অজয় চক্রবর্তীর শিষ্য সমরজিৎ এখন দিল্লীর গান্ধর্ভ মহাবিদ্যালয়ের সঙ্গীতের শিক্ষক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন ও শিল্পী সমরজিতের সঙ্গীত জীবনের পরিচয় তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের এ্যাটাশে রঞ্জন ম-ল। গান গাওয়ার আগে শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বিনম্র চিত্তে শিল্পী সমরজিৎ বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে গান করেছি কিন্তু সরাসরি শ্রোতাদের গান শোনাবার সুযোগ এই প্রেথম। খুবই ভাল লাগছে এখানে গাইতে পেরে, কেননা এখানে এসে প্রচুর বাংলা গান গাইতে পারছি। আমি দিল্লীতে থাকি, সেখানে বাংলা গান গাওয়ার সুযোগ কম পাই।

শুরুতেই তিনি গাইলেন সুবীর সেনের জনপ্রিয় গান ‘সারা দিন তোমায় ভেবে হলো না আমার কোনো কাজ’। দ্বিতীয় পরিবেশনায় ছিল মানবেন্দ্রর কালজয়ী গান ‘আমি এতোযে তোমায় ভালবেসেছি’। পরে গেয়ে শোনান অনুপ জলোটার ‘বঁধুয়া আমার চোখে জল এনেছে হায়’ ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘যত ভাবি ভুলে যাবো মন মানে না’। এরপর গাইলেন শিল্পী সমরজিতের এ্যালবাম থেকে নিজের সুরে অনুপ জলোটার গাওয়া গান ‘চলে যেতে বলো চলো যাবো, ভুলে যেতে বলো ভুলে যাবো’।

শ্রোতাদের অনুরোধ আর নিজের পছন্দ মিলে তিনি একে এক গাইলেন-সে যেন আসে না আমার দ্বারে তারে বলে দিও (হেমন্ত), কত কি যে সয়ে যেতে হয় (অখিল বন্ধু ঘোষ), অলির কথা শুনে বকুল হাসে (হেমন্ত), যদি কাগজে লিখ নাম সে নাম ছিড়ে যাবে (মান্নাদে), না থাকো যতো না কাছাকাছি, ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে (মান্নাদে), অভিমানে চলে যেওনা (মান্নাদে), আমি সাগরের বেলা তুমি দুরন্ত ঢেউ, আমি আজ আকাশের মতো একলা (মান্নাদে), খুব জানতে ইচ্ছে করে (মান্নাদে), সুন্দরী গো দোহাই দোহাই মান করো না (মান্নাদে), না তুম হ্যাসে (হেমন্ত), হিন্দি ও বাংলা মিশিয়ে হেমন্তের ‘এই রাত তোমার আমার’, হ্যায় মরজায়েঙ্গী (গজল), ওঠসে ঝুম মেরা, পায়েলিয়া মোরি (খেয়াল)সহ কিছু হারানো দিনের বাংলা ও হিন্দি গান।