মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সুকুমার রায়ের ছড়া

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫

বুড়ীর বাড়ী

গালভরা হাসিমুখে চালভাজা মুড়ি,

ঝুরঝুরে প’ড়ো ঘরে থুরথুরে বুড়ী।

কাঁথাভরা ঝুলকালি, মাথাভরা ধুলো,

মিট্টে ঘোলা চোখ, পিঠখানা কুলো।

কাঁটা দিয়ে আঁটা ঘর- আঁঠা দিয়ে সেঁটে,

সুতো দিয়ে বেঁধে রাখে থুতু দিয়ে চেটে।

ভর দিতে ভয় হয় ঘর বুঝি পড়ে,

খক্খক্কাশি দিলে ঠক্ঠক্নড়ে।

ডাকে যদি ফেরিওলা হাঁকে যদি গাড়ি,

খসে পড়ে কড়িকাঠ ধসে পড়ে বাড়ী।

বাঁকাচোরা ঘরদোর ফাঁকা ফাঁকা কত,

ঝাঁট, দিলে ঝ’রে পড়ে কাঠকুটো যত।

ছাদগুলো ঝুলে পড়ে বাদ্ভিজে,

একা বুড়ী কাঠি গুজে ঠেকা দেয় নিজে।

মেরামত দিনরাত কেরামত ভারি,

থুরথুরে বুড়ী তার ঝুরঝুরে বাড়ী।

খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),

হয়ে গেলে ‘হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না।

বক কহে কচ্ছপে- ‘বাহবা কি ফুর্তি!

অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।’

টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা

পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে কাঁচা লঙ্কা?

ছাগলের পেটে ছিল না জানি কি ফন্দি,

চাপিল বিছার ঘাড়ে, ধড়ে মুড়ো সন্ধি!

জিরাফের সাধ নাই মাঠে ঘাটে ঘুরিতে,

ফড়িঙের ঢং ধরি, সেও চায় উড়িতে।

গরু বলে, ‘আমারেও ধরিলো কি ও রোগে?

মোর পিছে লাগে কেন হতভাগা মোরগে?’

হাতিমির দশা দেখ, তিমি ভাবে জলে যাই,

হাতি বলে, ‘এই বেলা জঙ্গলে চল ভাই।’

সিংহের শিং নেই, এই তার কষ্ট

হরিণের সাথে মিলে শিং হল পষ্ট।

আড়ি

কিসে কিসে ভাব নেই? ভক্ষক ও ভক্ষ্যে-

বাঘে ছাগে মিল হলে আর নেই রক্ষে।

শেয়ালের সাড়া পেলে কুকুরেরা তৈরি,

সাপে আর নেউলে ত চিরকাল বৈরী!

আদা আর কাঁচকলা মেলে কোনদিন্ সে?

কোকিলের ডাক শুনে কাক জ্বলে হিংসেয়।

তেলে দেওয়া বেগুনের ঝগড়াটা দেখনি?

ছ্যাঁক্ ছ্যাঁক্রাগ যেন খেতে আসে এখনি।

তার চেয়ে বেশি আড়ি আমি পারি কহিতে-

তোমাদের কারো কারো কেতাবের সহিতে।

কাতুকুতু বুড়ো

আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার,

কাতুকুতু বুড়োর কাছে যেওনা খবরদার!

সর্বনেশে বৃদ্ধ সে ভাই যেও না তার বাড়ি-

কাতুকুতুর কুল্ খেয়ে ছিঁড়বে পেটের নাড়ি।

কোথায় বাড়ি কেউ জানে না, কোন্সড়কের মোড়ে,

একলা পেলে জোর ক’রে ভাই গল্প শোনায় প’ড়ে।

বিদ্টে তার গল্পগুলো, না জানি কোন্ দেশী,

শুনলে পরে হাসির চেয়ে কান্না আসে বেশি ।

না আছে তার মুণ্ডু মাথা, না আছে তার মানে,

তবুও তোমায় হাসতে হবে তাকিয়ে বুড়োর পানে।

কেবল যদি গল্প বলে তাও থাকা যায় সয়ে,

গায়ের উপর সুড়সুড়ি দেয় লম্বা পালক লয়ে।

কেবল বলে, ‘হোঃ হোঃ হোঃ, কেষ্টদাসের পিসি-

বেচ্ত খালি কুমড়ো কচু হাঁসের ডিম আর তিসি।

ডিমগুলো সব লম্বা মতন, কুমড়োগুলো বাঁকা,

কচুর গায়ে রঙ-বেরঙের আল্সব আঁকা।

অষ্ট প্রহর গাইত পিসি আওয়াজ ক’রে মিহি,

ম্যাও ম্যাও ম্যাও বাকুম বাকুম ভৌ ভৌ ভৌ চীহি।’

এই না বলে কুটুৎ ক’রে চিমটি কাটে ঘাড়ে,

খ্যাংরা মতন আঙুল দিয়ে খোঁচায় পাঁজর হাড়ে।

তোমায় দিয়ে সুড়সুড়ি সে আপনি লুটোপুটি,

যতক্ষণ না হাসবে তোমার কিচ্ছুতে নাই ছুটি।

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫

৩১/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: