২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হুমকির মুখে নির্বাচন


মিয়ানমারে বিরোধীদলের একটি নির্বাচনী মিছিলে ছুরি ও তলোয়ার নিয়ে এক ব্যক্তি হামলা চালিয়েছেন। দেশটিতে অনুষ্ঠেয় ঐতিহাসিক নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এই ঘটনা ঘটল।

ইয়াঙ্গুনে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমক্রেসির (এনএলডি) মিছিল লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয় বলে বিবিসি জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও ইয়াহু নিউজের।

হামলার পর এনএলডির একজন প্রার্থী নাইঙ নাগান লিনকে (বর্তমান এমপি) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার মাথায় ও হাতে আঘাত লেগেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আউং সান সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডি এখন মিয়ানমারের প্রধান বিরোধীদল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থাকেতা পৌর এলাকায় এনএলডির মিছিলে বেশ কয়েকজন মানুষ হামলা চালিয়েছে। তাদের কারও কারও হাতে তলোয়ার ছিল। নির্বাচনী মিছিল যেন বের করা না হয় সেজন্য আগে থেকেই হুমকি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই মিছিলটি বের করা হয়। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই ইয়াঙ্গুনে সুচির নেতৃত্বে বড় ধরনের মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। তার দল নির্বাচনে জয়ী হলে সুচি দেশটিতে পরবর্তী সরকারের প্রধান হবেন। তবে পরিবর্তিত সংবিধান অনুযায়ী সুচি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন কিনা তা পরিষ্কার নয়। কারণ তার দুই ছেলেই বিদেশী নাগরিক। আর সংবিধান অনুযায়ী কারও পরিবারের কেউ বিদেশী নাগরিক হলে বা থাকলে তিনি রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান হতে পারবেন না।

আগামী মাসে মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এক তদন্তকারী। কারণ এ নির্বাচনে বহু প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা এবং লাখ লাখ লোককে ভোট দেয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক কমিটিতে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেছেন, লোকজনকে গ্রেফতার ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারী বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগসহ মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের অধিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে ঝুঁকি বাড়িয়েছে। মিয়ানমারে যে পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হবে, তার নিরিখেই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বিচার করা হবে। এছাড়া মিয়ানমারের সব সম্প্রদায়ের লোককে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কতখানি স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বিচার করতে তাও দেখা হবে।

স্বীকার করেছেন যে, দেশটিতে গত চার বছরে মানবাধিকার পরিস্থিতির যে উন্নতি হয়েছে তা অনস্বীকার্য। কিন্তু লোকজনকে ক্রমশ ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর নজরদারির মতো তৎপরতা মানবাধিকারের প্রতি এখনও চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। লি বলেছেন, ৬০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচনের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এদের বেশিরভাগই মুসলিম। অভিবাসী শ্রমিক, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ, শরণার্থী, বিদেশে থাকা মিয়ানমারের নাগরিক, এমনকি যারা সংঘাত ও বন্যাকবলিত এলাকায় বাস করে তারা ভোট দিতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশটির প্রায় সাত লাখ ৬০ হাজার লোককে ভোটাধিকার না দেয়া, যদিও তাদের আগেই সাময়িক নিবন্ধন কার্ড ছিল। এদের মধ্যে রয়েছে চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা। তবে ভোটাধিকার বঞ্চিতদের মধ্যে বেশিরভাগই হলো রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা। ২০১০ ও ২০১২ সালের নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার ছিল। দেশটির বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। ২০১২ সালে রোহিঙ্গা মুসলিম ও জাতিগত রাখাইন বৌদ্ধদের মধ্যে সংঘর্ষে শত শত লোক নিহত হয় এবং প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা জীর্ণশীর্ণ শিবিরগুলোকে চরম মানবেতর অবস্থায় বসবাস করছে। এছাড়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নৌকায় করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে শরণার্থী সঙ্কট শুরু হয়।

মিয়ানমারে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

২৫ বছর পর আগামী ৮ নবেম্বর সেখানে সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে এনএলডি অধিকাংশ আসনে জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি জয়ী হলেও তখনকার সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। সেনাবাহিনী সেই ফল উপেক্ষা করে সুচিকে ১৫ বছর গৃহবন্দী করে রাখে। ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি এ্যান্ড ডেভলাপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিটি) ২০১০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। কারচুপির অভিযোগ এনে ওই নির্বাচন বয়কট করেছিল এনএলডি।