২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আমরণ অনশন


এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আমরণ অনশন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কয়েক দিন ধরে আমরণ অনশন শুরু করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে দুই দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচী শেষে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। কর্মসূচীতে শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেছেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আমরণ অনশন কর্মসূচী চলবে। মরে যাব, তবু দাবি থেকে একচুলও নড়ব না।’ শিক্ষকদের অনেকে বুকে-পিঠে বিভিন্ন সেøাগান লিখে সড়কে শুয়ে আছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নারীও আছেন। শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা কামনা করেছেন।

এর আগে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তিসহ ৩ দফা দাবিতে বুধবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন শুরু করেন শিক্ষকরা। ওই দিনই নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা কয়েক শ’ শিক্ষক অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন। শিক্ষকরা বলছেন, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষক কর্মচারী ১০-১৫ বছর ধরে বিনাবেতনে চাকরি করায় তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। গত ৫ বছর ধরে আন্দোলন চললেও সরকার তাদের দাবি বাস্তবায়ন করছে না।

ৎদাবি আদায়ে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তারা। নিম্ন মাধ্যমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা স্তরের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার দাবিতে শিক্ষকরা অনশন করছেন। কর্মসূচীতে ঢাকার বাইরে থেকে আসা এক শিক্ষক অমল কান্তি দে তার বুকে-পিঠে লিখেছেনÑ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এমপিও দিয়ে জীবন বাঁচান। এমপিওবিহীন ১৫ বছর কী যে কষ্ট, কী যে যন্ত্রণা!’ আন্দোলনরত অন্যান্য শিক্ষকও তাদের দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ কলেজের কম্পিউটার বিভাগের এক শিক্ষক বলছিলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ‘এমপিও না দিলে আমি আর ঘরে ফিরব না, আমরা কেউ ঘরে ফিরব না।’ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ এশারত আলী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি আমাদের দাবি পূরণ করবেন বলে আশা করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচী চলবে। এশারত আলী বলেন, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসার প্রায় ৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ১০-১৫ বছর ধরে বিনাবেতনে চাকরি করে আসছেন। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অর্থ বরাদ্দ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে সরকার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করছে না। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেও আশ্বাস ছাড়া কোন অগ্রগতি জানাতে পারেননি তিনি। কর্মসূচীতে অন্যদের মধ্যে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার কুন্ডু বক্তব্য রাখেন।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ॥ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকের জন্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চতুর্থ ধাপে ঢাকাসহ ১৭ জেলায় লিখিত পরীক্ষা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল দশটায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চতুর্থ ধাপের এ পরীক্ষা ঢাকা জেলা ছাড়াও যশোর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রংপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।