মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে স্থবিরতা

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫
  • গুঞ্জন- আরওনেতা দল ছাড়ছেন

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ লন্ডনে অবস্থান করে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান কি করছেন তা জানেন না বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও। ফলে আরও অন্ধকারে রয়েছেন জেলা ও তৃণমূলের নেতারা। দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে কিনা তা নিয়ে রয়েছে নানা সমীকরণ। আবার এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই দল থেকে পদত্যাগ করেছেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা শমসের মুবিন চৌধুরী। তিনি দলের আন্তর্জাতিক লিয়াজোঁ রক্ষা করতেন। আরও নেতা দল ছাড়ছেন এমন গুঞ্জন থাকায় তৃণমূলে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও পরিলক্ষিত হচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হাল ছেড়ে দেয়াভাব। এতদিন প্রেসরিলিজ নির্ভর কিছু তৎপরতা পরিলক্ষিত হলেও গণমাধ্যমে প্রেসবিজ্ঞপ্তিও কমে এসেছে। বিএনপির এতটা করুণ অবস্থা ইতোপূর্বে আর কখনও দেখা যায়নি।

চট্টগ্রামে একেবারেই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। আন্দোলন করে সরকার হটানো যাবে এমন আশা এখন আর নেতা-কর্মীদেরও নেই। নির্বাচন বর্জনের পর ক্ষমতার বলয় থেকে ছিটকে পড়া কর্মী-সমর্থকরা গভীর হতাশায় নিমজ্জিত। তারা রয়েছেন লন্ডন থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ফেরার অপেক্ষায়। পাশাপাশি দলের নেতৃত্বে রদবদলের শঙ্কাও কাজ করছে নেতাদের মধ্যে। আবার বেগম জিয়া লন্ডন থেকে ফিরছেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। একটানা এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন মন্দাবস্থায় দলটিকে ইতোপূর্বে আর দেখা যায়নি। ভাঙ্গা হাট ফের জমিয়ে তোলা বেশ কঠিন কাজ। সুতরাং আন্দোলন নয়, বরং চলছে হতাশা কাটিয়ে উঠার সংগ্রাম।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ব্যাপক হাঙ্গামা এবং জ্বালাও-পোড়াও করা বিএনপি যেন এখন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে গত নবেম্বর থেকে ফের শুরু হয়েছিল পেট্রোলবোমা ও নৃশংসতা। আগুনে পুরো দেশ পরিণত হয় বার্ন ইউনিটে। অতঃপর আবারও ঠা-া। আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি-জামায়াত জোট এখন কোন কর্মসূচীতে নেই। দলীয় কার্যালয়গুলো ফাঁকা। সেখানে নিয়মিত হাজিরা দেয়ার মানুষেরও বেশ অভাব।

সমুদ্র বন্দর, জ্বালানি সেক্টর ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কারণে দেশের রাজনীতিতে চট্টগ্রামের গুরুত্ব ঢাকার পরেই। জাতীয় আন্দোলনে বন্দর নগরীর রাজনৈতিক কার্যক্রম বিশেষভাবে মূল্যায়িত হয়ে থাকে। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে এমন ঠা-া অবস্থা এর আগে আর কখনও ছিল তা চট-জলদি বলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী ও বক্তব্য না থাকলে রাজনীতির মাঠ গরম হয় না। যেহেতু একপক্ষ বরফশীতল সেহেতু অপর পক্ষের পাল্টা হুঙ্কারও অনুপস্থিত।

জাতীয় সংসদে না থাকলেও বিএনপি এদেশের রাজনীতিতে বড় দল হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু সেই বিএনপির অবস্থা বড়ই করুণ। স্থানীয় কোন কর্মসূচী নেই, কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচীর প্রভাবও চট্টগ্রামে প্রতিফলিত হতে দেখা যায় না ইদানীং। দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম ও মৃত্যু দিবস এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে বিবদমান নেতাদের শোডাউন-পাল্টা শোডাউন বেশ জমে উঠত। এখন শোডাউন দূরে থাক, ঘোষিত কর্মসূচীগুলো দায়সারাভাবে পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ হতাশায় নিমজ্জিত তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের আর সেভাবে দেখাই মিলছে না।

চট্টগ্রাম নগরীর নূর আহমদ সড়কে অবস্থিত নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে এখন নিস্তব্ধতা। একদা কার্যালয়টি কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে পূর্ণ থাকত। সামনের সড়কেও দেখা যেত প্রচুর আনাগোনা। কখন কি অঘটন ঘটে সেজন্য পুলিশকে থাকতে হতো সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়। ভবনটিকে ঘিরে দিবসের পুরো সময়টুকুতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকত। কিন্তু এখন তার আর প্রয়োজন নেই। কারণ খোদ নেতারাই কার্যালয়মুখী নন। বিএনপিতে হতাশা এমন পর্যায়ে পতিত হয়েছে যে, দলটির পক্ষে আর কার্যকর কোন আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভবÑএই বিশ্বাসটুকুও যেন কর্মী সমর্থকদের মধ্যে নেই। টেলিফোনে নেতাদের পাওয়া যায় না। কর্মীদের অনেকেই হতাশার সঙ্গে বলেন, কী আর হবে আন্দোলন করে? এই সরকার তো বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবার আগে নির্বাচন দেবে না।

চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে এখন নজিরবিহীন স্থবিরতা। আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি যেন একেবারেই হাল ছেড়ে দিয়েছে। প্রেস রিলিজনির্ভর তৎপরতাও এখন আগের মতো নয়। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, নেতারা এখন ঘরে ফিরে যাওয়া কর্মীদের নানাভাবে সাহস দিয়ে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভাঙ্গা হাট এত সহজে ফের জমবে কিনা সেই সংশয় রয়েছে দলের তৃণমূলে। আবার দলের চেয়ারপার্সন লন্ডন থেকে এসে কি নির্দেশনা প্রদান করেন সে অপেক্ষায়ও রয়েছেন নেতারা। বিশেষ করে পদ-পদবি নিয়ে চলছে হিসেব-নিকেশ।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আরেক শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান চট্টগ্রামে বেশ শক্তিশালী বলে ভাবা হয়ে থাকে।

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫

৩১/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



শীর্ষ সংবাদ: