মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টা, আটক ২২

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫
  • ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অধীন ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টা করায় জালিয়াত চক্রের ২২ সদস্যকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তাদের আটক করা হয়। এছাড়া শুক্রবার ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতি করার অভিযোগে এক ভর্তিচ্ছুকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ফার্মগেট, নাখালপাড়া, তেজকুনিপাড়া এলাকা থেকে ১২ জন। আর পুরানো ঢাকা থেকে আরও ১০ জনকে আটক করা হয়। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা প্রশ্নপত্র জালিয়াত চক্রের সদস্য। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এ এম আমজাদ বলেন, একটি জালিয়াত চক্র জোবায়ের নামের এক ভর্তিচ্ছুকে প্রশ্নপত্র দেয়ার কথা বলে আট লাখ টাকা নেয়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফার্মগেট এলাকা থেকে জোবায়েরকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বাকিদের আটক করা হয়। এবিষয়ে ডিবি উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মাহফুজুল ইসলাম বলেন, আটককৃতরা শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতো। তারা কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

শুক্রবার ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে হাসিবুল হাসান নামের এক পরীক্ষার্থীকে ডিভাইসসহ আটক করা হয়। পরে ঢাবির প্রক্টর অফিসে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদ- দেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমী মাহবুব পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইন ১৯৮০ সালের ৯(খ) ধারা অনুযায়ী তাকে এ দ- দেন।

শুক্রবার সকালে ক ইউনিটে ১ হাজার ৬৬০টি আসনের জন্য ৭১ হাজার ৩৫০ জন ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের ৭৬টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

জালিয়াতিতে এটিএম কার্ডের মতো ডিভাইসের ব্যবহার ॥ জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পরে সাজা প্রাপ্ত হাসিবুলকে এটিএম কার্ডের মতো দেখতে একটি বিশেষ ডিভাইসসহ হাতে নাতে আটক করা হয়। যে ডিভাসের মাধ্যমে সে পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র দাগানোর চেষ্টা করছিল। এই ডিভাইসের ভেতরে একটি সিম-কার্ড ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আধা কিলোমিটার দূর থেকে যোগাযোগ করা সম্ভব। এছাড়াও শুনতে পারার জন্য ব্যবহার করা হয় সূক্ষ্ম হেডফোন যা কানের ভেতরে রাখা হয় এবং যার সাহায্যে বাহির থেকে উত্তর বলে দেয়া হয়। ডিভাইসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগের ফরহাদ মাহমুদ ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শুভ নামে দুই শিক্ষার্থী দশ হাজার টাকা বিনিময়ে তাকে দেন বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন হাসিবুল। তিনি আরও বলেন, ফরহাদ মাহমুদ হাসিবুলকে প্রাইভেট পড়াতেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। মাহমুদ ও শুভ দুজনের অমর একুশে হলের আবাসিক ছাত্র। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী বলেন, হাসিবুলের দেয়া তথ্যানুযায়ী এই ঘটনায় জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর দুজন শিক্ষার্থী ফরহাদ ও শুভকে আটকের চেষ্টা চলছে।

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫

৩১/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: