২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আরও সংবাদ


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সম্প্রতি বোমা ফাটিয়েছেন বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার। এক সাক্ষাতকারে ভোটের আগেই বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ার খবর ফাঁস করে দিয়েছেন তিনি। তবে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০১৮ বিশ্বকাপের সবকিছু ঠিক থাকলেও ২০২২ সালের যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ পরবর্তীতে চলে যায় কাতারে। আর এটা ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির কারণেই হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছিলেন ব্লাটার। এ বিষয়ে সাক্ষাতকারে ব্লাটার বলেছিলেন, ‘সবকিছু সঠিকভাবেই এগুচ্ছিল। কিন্তু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট (সাবেক) সারকোজি আর কাতারের যুবরাজ যিনি এখন দেশটির আমিরও। তারা একটা বৈঠকে আসার পর সব বদলে গেল। এই দুজনের সঙ্গে মিশেল প্লাতিনির একটা বৈঠক হলো। সেই বৈঠকের পরই প্লাতিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বদলে কাতারকে ২০২২ বিশ্বকাপ দিলে ভাল হয়। এরপরই বদলে যায় সবচিত্রনাট্য। যে ভোটাভুটিতে কাতার যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪-৮ ব্যবধানে হারিয়েছে তাতে আসলে যুক্তরাষ্ট্রের জেতার কথা ছিল ১২-১০ ব্যবধানে।’ কিন্তু বৃহস্পতিবারই ফিফায় নিজের প্রভাবের কথা অস্বীকার করেছেন নিকোলাস সারকোজি। বিএফএমটিভি চ্যানেলে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থানরত সারকোজি এসব কথাকে অস্বীকার করে বলেন, ‘আসলে এ রকম লক্ষ্য আমার কখনই ছিল না।’

এবার জিম্বাবুইয়ে চ্যালেঞ্জ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে চরম ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। জিম্বাবুইয়ে সফরের আগে মূলত ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলতেই দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিল ‘এ’ দল। কিন্তু সেখানে অচেনা ও দুর্বল দলের কাছেই হেরে গেছে। আইরিন ভিলেজার্সের কাছে দুই ওয়ানডে ও একটি তিনদিনের ম্যাচ হারের পাশাপাশি আশানুরূপ কোন খেলাও উপহার দিতে পারেনি তারা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বৃহস্পতিবার গয়াটেং স্ট্রাইকার্সকে হারাতে পেরেছে শুভাগত হোম চৌধুরীর দল। এবার আসল চ্যালেঞ্জ তাদের জন্য। জিম্বাবুইয়ে পৌঁছেছে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এ সফরে তিনটি একদিনের ও দুটি চারদিনের ম্যাচ খেলবে তারা জিম্বাবুইয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে। ২ নবেম্বর প্রথম ওয়ানডে দিয়ে জিম্বাবুইয়ে সফর শুরু হবে ‘এ’ দলের।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকা ‘এ’ দলটির মধ্যে বেশ কয়েকটা পরিবর্তন এসেছে। দেশে ফিরে এসেছেন সাব্বির রহমান রুম্মান, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, আল আমিন হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বী ও জুবায়ের হোসেন লিখন। কারণ ঘরের মাটিতে জিম্বাবুইয়ে জাতীয় দলের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ খেলার জন্য ঘোষিত জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে আছেন তারা। আর জিম্বাবুইয়ে সফরের জন্য বাংলাদেশ ‘এ’ দলে যোগ হয়েছেন তাসামুল হক, নুরুল হাসান সোহান, নাঈম ইসলাম, দেওয়ান সাব্বির ও মুক্তার আলী। তাই এবার আগের চেয়ে শক্তিমত্তায় কিছুটা দুর্বল দল নিয়েই জিম্বাবুইয়ে সফরে গেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। দলের নেতৃত্বে শুভাগতই আছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অখ্যাত দল আইরিন ভিলেজার্সের বিপক্ষে চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও ব্যাটিং-বোলিংয়ে আহামরি কিছুই করতে পারেনি তারা। দুই ওয়ানডে এবং একমাত্র তিনদিনের ম্যাচে চরম ভরাডুবি হয়েছে। সাফল্য এসেছে সফরের শেষ ম্যাচে। একমাত্র সেই সাফল্য নিয়েই এবার জিম্বাবুইয়ে এসেছে দলটি। জিম্বাবুইয়ে সফরের দলে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন শুভাগত ছাড়াও নাঈম, রনি তালুকদার, মোহাম্মদ শহীদ, মোহাম্মদ মিঠুন ও তাইজুল ইসলাম। বাকিরা তরুণ উদীয়মান তারকা।

শচীন আহামরি নন!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ দুই যুগের ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে করেছেন রানের পর রান, হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি। দেড় শ’ কোটি ভারতবাসীর কাছে তিনি ক্রিকেটের দেবতা। ১শ’ সেঞ্চুরিসহ রয়েছে অনেক অনেক রেকর্ড, যা ভাঙ্গার কথা অনেকে কল্পনাও করেন না। অথচ সেই শচীন টেন্ডুলকরকে ‘আহামরি নন’ বললেন আরেক মহীরুহ কপিল দেব! বিশেষ করে দীর্ঘ পরিসরের টেস্টে দীর্ঘ ইনিংস খেলা এবং মেজাজি ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে শচীনের পারদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। গ্রেট শচীনকে নিয়ে কপিলের এমন মন্তব্যে ভারতীয়রা নিশ্চই খুশি হবেন না।

কপিল বলেন,‘ টেস্টই ক্রিকেটের সত্যিকারের খেলা। সেখানে কিভাবে ডাবল বা ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে হয়, শচীন তা জানতেন না!’ কেন পারতেন না তার একটা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ‘ক্রিকেটের পেলে’ খ্যাত সাবেক ভারত অধিনায়ক, ‘বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য শচীনের অবশ্যই ছিল। কিন্তু সেটি করতে গেলে কৌশলগত দিক থেকে ঝুঁকি নিতে হতো। শচীন কৌশলের দিক দিয়ে নিখুঁত হতে গিয়ে সেই ঝুঁকিটা কখনই নিত না। আমার মনে হয়, ব্যাট হাতে মাঠে নেমে ও কেবল সেঞ্চুরির কথাই বেশি ভাবত! ওর লক্ষ্য ছিল নিখুঁত ও পরিশুদ্ধ ব্যাটসম্যান হওয়া। ভিভ রিচার্ডসের মতো বিধ্বংসী মেজাজটা ওর মধ্যে কখনই ছিল না! ওর সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারলে অবশ্যই বলতাম, খেলাটাকে নিজের মতো করে উপভোগ কর, বীরেন্দর শেবাগের মতো ব্যাট চালাও। তাতে তুমি বরং আরও বেশি ভাল ক্রিকেটারই হবে।’ দুবাইয়ে বিচ ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে শচীনকে নিয়ে এমন নেতিবাচক মন্তব্য করেন কপিল। অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন, পাকিস্তানের ওয়াসিম আকারাম ও ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথামের মতো সাবেক গ্রেট ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অবশ্য শচীনকে ছোট করতে চান না, উল্লেখ করে কপিল আরও যোগ করেন, ‘কেউ আমাকে ভুল বুঝবেন না। শচীনের প্রতিভা নিয়ে আমার এক বিন্দুও প্রশ্ন নেই। কিন্তু আমি মনে করি সে তার প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। সবসময়ই কেবল মনে হয়েছে, সে যা করেছে তার চেয়ে আরও বেশি কিছু করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সে জানত না কিভাবে ডাবল-ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে হয়।’ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শচীনকে নিয়ে সমালোচনা খুব কমই হয়েছে। ব্যাট হাতে অনন্য সব রেকর্ডের মালিক তিনি। পরিসংখ্যান তার হয়ে কথা বলে। ২০০ টেস্টে অংশ নিয়ে ৫১ সেঞ্চুরির সাহায্যে করেছেন ১৫,৯২১ রান, ৪৬৩ ওয়ানডেতে ১৮,৪২৬ রান, সেঞ্চুরি ৪৯টিÑ উভয় ক্ষেত্রে যা বিশ্ব রেকর্ড। দুই ভার্সন মিলিয়ে ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র ১শ’ সেঞ্চুরির মালিক শচীন। টেস্টে ব্যক্তিগকত সর্বোচ্চ ২৪৮, ওয়ানডেতে অপরাজিত ২০০।