২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

শিরোপা নির্ধারণী রাউন্ড শুরু আজ


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ১৭তম ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) শেষ পর্যায়ে। এবার চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণী ষষ্ঠ রাউন্ড। দেশের চারটি ভেন্যুতে আজ দুই স্তরে মাঠে নামছে আটটি দল। কারণ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গৌরব অর্জনের লড়াই আবার কারও অবনমন ঠেকানোর লড়াই। এবারই প্রথম দুই স্তরে বিভক্ত করে দেশের অন্যতম প্রধান এ প্রথমশ্রেণীর ক্রিকেট আসর আয়োজিত হচ্ছে। প্রথম স্তরের চারটি দলের মধ্যে পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে থাকা দলটি পরবর্তী মৌসুমে দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাবে। আর দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়ন দল উঠে আসবে প্রথম স্তরে। এখন পর্যন্ত ৫ রাউন্ড শেষে প্রথম স্তরে শীর্ষে আছে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে খুলনা বিভাগ, ৪১ ও ৪০ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে দুই ও তিনে থাকা ঢাকা মেট্রোপলিস ও ঢাকা বিভাগের সুযোগ আছে শেষ রাউন্ড জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। ৩০ পয়েন্ট নিয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা রংপুর বিভাগের অবনমন প্রায় নিশ্চিত। আর দ্বিতীয় স্তরে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে বরিশাল বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাও প্রায় নিশ্চিত। কারণ দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগ ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে পিছিয়ে আছে ১৬ পয়েন্টে। গুরুত্বপূর্ণ এ রাউন্ডে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা থাকছেন অনুপস্থিত। কারণ ‘এ’ দলের সঙ্গে আছেন ১৪ জন এবং জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ায় সেখানে আছেন ১৮ ক্রিকেটার।

প্রথম স্তরের শীর্ষে থাকা খুলনার জন্য মোক্ষম সুযোগ দারুণ কিছু করার। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রংপুর এবার একেবারেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। বরং আগামী মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ তৃতীয় স্থানে থাকা ঢাকার চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। সেই রংপুরের মুখোমুখি হবে শীর্ষে থাকা খুলনা। খেলা অবশ্য নিরপেক্ষ ভেন্যু চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। আর খুলনাকে ধরার লড়াইয়ে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই ঢাকা। জিতলে সুযোগ থাকবে দু’দলেরই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। কারণ খুব বেশি এগিয়ে নেই খুলনা। খুলনা ও মেট্রো ৪টি করে ড্র ও একটি করে ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু ঢাকার একটি পরাজয়ই কাল হয়েছে। এ কারণে মেট্রোর চেয়েও পিছিয়ে পড়েছে দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত শীর্ষস্থানে থাকা ঢাকা। প্রথম স্তরে তাই দুটি ম্যাচই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। খুলনা জিতে গেলেই চ্যাম্পিয়ন, তাদের ধরার উপায় নেই। সেক্ষেত্রে দুই ঢাকার মধ্যে ম্যাচটির ফলাফল নির্ধারণ করবে কোন দল রানার্সআপ হবে। আর যদি কোনভাবে খুলনা ড্র করে তাহলেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ থাকবে দুই ঢাকার মধ্যে বিজয়ী দলটির। আর অবনমন ঠেকাতে হলে জয়ের কোন বিকল্প নেই রংপুরের সামনে।

দ্বিতীয় স্তরে তিন রাউন্ড পর্যন্ত শীর্ষস্থানে ছিল রাজশাহী। কিন্তু চতুর্থ রাউন্ডে তাদের টপকে যায় বরিশাল। টানা দুই রাউন্ডে জয় তুলে নিয়েছে তারা। ফলে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যবধানটাও অনেক বাড়িয়েছে তারা রাজশাহীর চেয়ে। ১৬ পয়েন্ট এগিয়ে তারা। এক রাউন্ডে বোনাসসহ সর্বোচ্চ ১৮ পয়েন্ট থাকে। বরিশালকে টপকাতে হলে বা ছুঁতে হলে রাজশাহীকে এ রাউন্ডে জয়ের পাশাপাশি পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। তবে হার-জিত যাই হোক সব দলেরই ভা-ারে প্রতি রাউন্ডে ন্যূনতম ৩ পয়েন্ট যোগ হয়েই থাকে। সেক্ষেত্রে আগেভাগেই নিশ্চিত করে বলা যায় দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়ন হতে চলেছে বরিশাল। শুধু সময়ের অপেক্ষা। শেষ রাউন্ডে আজ তারা বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সবার নিচে থাকা চট্টগ্রামের। ৫ রাউন্ডে মাত্র ৩১ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে থাকা চট্টগ্রামই সবচেয়ে চাপমুক্ত। কারণ তাদের অবনমন হওয়া, চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ হওয়া এসব কিছু নিয়েই কোন দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তবে বরিশালকে হারিয়ে দিতে পারলে রানার্সআপ হওয়ার একটা সুযোগ থাকছে তাদেরও।

দ্বিতীয় স্তরের অপর ম্যাচে মুখোমুখি হবে রাজশাহী-সিলেট। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থাকলেও সেটা ধরে রাখার জন্য কোনভাবেই হারলে চলবে না রাজশাহীর। কারণ ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে সিলেট। তাই এ দু’দলের লড়াই হবে জয় না পেলেও যতটা সম্ভব বোনাস পয়েন্ট অর্জন করে রানার্সআপ হওয়ার প্রচেষ্টা চালানো। শেষ রাউন্ডের এ গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোতে অবশ্য দেশের তারকা ক্রিকেটাররা খেলতে পারবেন না।