২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কর্ণফুলী ড্রেজিং ২৬ মাস বন্ধ


হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ কর্ণফুলীর নাব্য রক্ষায় শুরু হওয়া ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অসমাপ্ত রেখে মালয়েশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সেই যে কেটে পড়েছে আর ফেরার লক্ষণ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ খাতে সর্বমোট ১৬৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এর বিপরীতে কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে তা নির্ণয়ে যৌথ পরিমাপে রাজি নয় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘মালয়েশিয়া মেরিটাইম এ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশন।’ এ পরিস্থিতিতে প্রায় ২৬ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ বাতিল করেছে বন্দর। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে আদালতে। এর ফলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সিংহদ্বারখ্যাত এই বন্দরের অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের পরিসমাপ্তি পড়েছে দীর্ঘ সূত্রতায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী ড্রেজিংয়ের জন্য মালয়েশিয়া মেরিটাইম এ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ২২৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার। চুক্তির আওতায় কর্মযজ্ঞের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার মিটার দীর্ঘ তীর সংরক্ষণ, ৪শ’ মিটার জেটি নির্মাণ এবং ২শ’ থেকে আড়াইশ মিটার প্রস্থের নদী থেকে ৩৬ লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন। ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর কাজ শুরু হয় ওই বছরের ১২ মে। প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা ছিল ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। কিন্তু মেয়াদের দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ পড়ে আছে অসমাপ্ত অবস্থায়। শুধু তাই নয়, এ কাজটি শেষ পর্যন্ত সমাপ্তির মুখ দেখবে কিনা তা নিয়েও দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা ।

বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সর্বনি¤œ ২২৯ কোটি টাকা দর প্রদান করে কাজটি পায় মালয়েশিয়া মেরিটাইম। টেন্ডারে দ্বিতীয় সর্বনি¤œ ৩৪৪ কোটি টাকা দর প্রদান করেছিল বঙ্গ এ্যান্ড রফিক আহমেদ কনস্ট্রাকশন (জেভি)। সে হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতার সঙ্গে মালয়েশিয়া মেরিটাইমের দেয়া দরের পার্থক্য ৭৫ কোটি টাকা কম। এছাড়া চায়না হারবার ৪৯৯ কোটি টাকা এবং সিনো হাইড্রো ৬১৪ কোটি টাকা দর প্রদান করে। বর্তমানে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অথচ, চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে নিয়ে গেছে ১৬৫ কোটি টাকা।

হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মালয়েশিয়া মেরিটাইম এ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশনকে সর্বশেষ পেমেন্ট দেয়া হয়েছিল ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে। এরপর প্রতিষ্ঠানটি কাজে ঢিল দেয়। তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক প্রমাণিত না হওয়ায় ২০১৪ সালের জুলাই মাসে কোম্পানিকে বাদ দেয়া হয়। এতে সংক্ষুব্ধ এ প্রতিষ্ঠান আদালতে দুটি মামলা দায়ের করে। এরমধ্যে একটি তাদের বিলের টাকার জন্য, অপরটি টার্মিনেশনের বিরুদ্ধে। এছাড়া একটি আর্বিট্রেশন অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মামলার প্রেক্ষিতে আদালত চুক্তি বাতিলের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করে। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সে স্থগিতাদেশ বাতিল হয়। ফলে এখন নতুন কোন ঠিকাদার নিয়োগ করে বাকি কাজ সম্পন্ন করতে বাধা নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষ বাকি কাজটুকু কয়েকটি ভাগে ভাগ করে সম্পন্ন করার চিন্তা ভাবনাও করছে।

তবে এক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটতে পারে এমন অভিমতও রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেম্বার (এডমিন এ্যান্ড প্লানিং) মোঃ জাফর আলম এ প্রসঙ্গে জানান, চুক্তি বাতিল করার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ দাবি করে আর্বিট্রেশনে গেছে। এখন আর্বিট্রেশন কোর্টে নির্ধারিত হবে এতে কে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপাতত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন হবে।