১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

নিভৃতচারী শিল্পী ফিরোজের আক্ষেপ


কেমন আছেন? বলতেই দু’চোখের কোণা বেয়ে বুকে জমাট বাঁধা পানি বেরিয়ে এলো। আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়লেন। অভিমানী শিল্পী ফিরোজ আহমেদের মুখ দিয়ে কোন কথা বের হয় না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আক্ষেপ করে বলতে থাকেন তার বর্ণাঢ্য জীবনের সোনালি স্মৃতির কথা। মুজিব তোমার হত্যার বিচার হবে। আমরা তো আজ তৈরি সবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এ গান গেয়ে রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেনÑ জাগরণী গানের প্রতিবাদে আমার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। এরপর চার মাস পালিয়েছিলাম। মানুষ যখন বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়ার সাহস পায়নি, তখন আমি বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে শুরু করি, আজও বলছি, বলব। আমার কলিজায় শুধুই বঙ্গবন্ধু। অথচ আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায়, তখন আমি নিগৃহীত। দলের কোথাও আমার স্থান নেই। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোন সাংস্কৃতিক সংগঠনেও আমার জায়গা নেই। কোন কমিটিতে নেই। কেন এমনটি হলো? উত্তরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। আমাদের সময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ছিল। সেই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছি। বর্তমানে এসব উবে গেছে। আমি সৎ আছি, ভাল আছি। হাসি খুশিতে চলি, পরিষ্কার জামা পরি। মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৩নং সেক্টরের গেরিলা উপদেষ্টা প্রয়াত এ্যাডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চুর সান্নিধ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে যখন পাকবাহিনী আসে তখন তাদের অবস্থান জানতে আমাকে পাঠান। পাকবাহিনী আমার বাড়ি পুড়িয়েছে। আজও কোন সাহায্য পাইনি। আমি কোন সাহায্য চাইও না। আমি শুধু সম্মান ও ভালবাসা চাই। তাও পায়নি। ১৯৭২ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন বাংলাদেশে আসেন, ২শ’ শিল্পী নিয়ে আমি গান গেয়েছি। প্রশ্ন রাখেন আজ কেন আমি অবহেলিত? দেশের কল্যাণে এবং মানুষের জন্য যা করেছি, তার সঠিক মূল্যায়ন পাইনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম কণ্ঠশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। যুদ্ধের সময় দেশের পূর্বভাগে মুক্তির গান গেয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করেছি। গণসংঙ্গীত, রাগপ্রধান, নজরুলগীতি, আধুনিক বাংলাগান, লোকসঙ্গীত, দেশেরগান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিলুপ্ত লোকজ গানের গবেষকও তিনি। মলয়া সঙ্গীত, ছাদ পিটানো, আধ্যাত্মিক গান, নৌকাবাইচ, আঞ্চলিক গান, ভাটি অঞ্চলের গানের ধারক-গায়ক এ শিল্পী। এক সময়ের মাঠ কাঁপানো এ শিল্পী বলেন, আমি অবহেলিত, বঞ্চিত। সারাটা জীবন সাধারণ মানুষের গান গেয়েছি। ভাষানীর সঙ্গে সন্তোষ সম্মেলনে যোগ দেই।

-রিয়াজউদ্দিন জামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে