১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নায়ক হতে চেয়ে হয়েছি আমি বাবা


মঞ্চ কাঁপানো অভিনেতার নাম সুলতান আহমেদ জন্ম ১৯৬১ সালের ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ের চাকুয়া গ্রামে। তিনি প্রতিভাবান মঞ্চ অভিনেতা। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এই অভিনেতা ১৯৭৫ সালে গ্রামের চার খুঁটি নাটক দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন।

ভেবেছিলেন, একদিন বড় অভিনেতা হবেন। নাম ভূমিকায় অভিনয় করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি সে নাটকে পেয়েছিলেন বাবার চরিত্র। হতাশ হলেন সুলতান আহমেদ। বড়রা বুঝিয়েছিলেন হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নাটক এমনি এক স্টেশন, যেখানে যে যেতে চায় সেখানে সে যেতে পারে না, যেখানে যেভাবে, যে চরিত্রে যাকে মানায়। ১৯৮১ সালে গফরগাঁও সরকারী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নুরুল হুদার নির্দেশনায় আধুনিক নাটকে পদার্পণ করেন। ১৯৮৪ সালে গফরগাঁও থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন। ৮০টি নাটকে অভিনয় করে নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর মেলে ধরেন তিনি। এরমধ্যে অন্যতম প্রয়াত সেলিম আল-দিনের বাসন, সালাম সাকলাইনের চোর, মামুনুর রশীদের ওরা কদম আলী, আবদুল্লাহ আল মামুনের এখন দুঃসময়, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর কবর ও সামনের পৃথিবী নাটকসহ অনেক আধুনিক নাটকে অভিনয় করে সাড়া জাগিয়েছেন সুলতান আহমেদ। তিনি নাট্যকার অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাট্য প্রশিক্ষণে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

তিনি বলেন, অভিনয়, গান, নৃত্য সাহিত্য বিষয়ে অনেকেই অ-আ শিখে প্রচার পেতে চায়। আমি মনে করি, বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন। আমি তাদের দলে নই। নিজের শেখা অভিনয় থেকে নতুন প্রজন্মের জন্য কিছু করে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি কোনটাই আমার অনুকূলে না থাকার কারণে কিছুই করতে পারিনি। হয়ত নতুন প্রজন্মের মানুষরা আমাকে অভিশাপ দেবে। আজ সমাজ, সংসার নিয়ে বাঁচতে ছোট চাকরি জীবন বেছে নিয়েছি। ব্যক্তিগত জীবনে আমি ব্যাংকার। সময় করে উঠতে পারি না অভিনয় জগতে ফিরে আসার। বুকের ভেতরে আজও চিন চিন ব্যথা অনুভব করি। অভিনয় জীবনে চেয়েছিলাম নায়কের চরিত্র, বাস্তবে আমি দুই সন্তানের বাবার ভূমিকায় অভিনয় করছি। অভিনয় জীবনে এই চরিত্রটিই ছিল প্রথম। অনেক কিছু, অনেক চরিত্র না পাওয়ার বেদনা আজও আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। জীবনের এইটুকু সময়ে অনেক নাটকে অভিনয় করেছি কিন্তু অভিনয় তৃষ্ণা আজও মেটেনি। আজও পৃথিবীর মঞ্চে অভিনয় করে চলেছি।

Ñশেখ আবদুল আওয়াল

গফরগাঁও থেকে