২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বড়ভাই


বড়ভাইয়ের ওপরে আছেন আরও বড়ভাই। তারও উর্ধে থাকেন অনেক বড়ভাই এবং সবার ওপরে ‘ভাইয়া’ সত্য, তাহার উপরে কেহ নাই। এই ভাইয়ার অধীনস্থ অনেক ‘বড়ভাই’ হেন কাজ নেই, যা করতে পারে না। ভাইয়ার নির্দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকার ও রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রাখতেই বিদেশী হত্যার টার্গেট করা হয়। হত্যার পর দৃষ্টি অন্যদিকে ধাবিত করার জন্য পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইএসের ঘাড়ে তা চাপানোর জন্য সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ নামে একটি ওয়েবসাইটে দায় স্বীকারও করা হয়। এভাবে হত্যাকারীরা নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা চালালেও সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যাচ্ছে না। বড়ভাইদের নির্দেশে ভাড়াটে খুনীরা ঢাকা ও রংপুরে দু’জন বিদেশীকে হত্যা এবং পরবর্তীকালে হোসেনী দালানে গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশব্যাপী বোমাহামলা, আগুন সন্ত্রাস, পেট্রোলবোমা হামলাসহ নাশকতা চালানো হয়েছে, তাদের যোগসাজশেই বিদেশী হত্যা করা হয়। আর এই হত্যাকা- সরাসরি তদারকির দায়িত্ব পালন করে ‘বড়ভাই’রা। বিএনপি-জামায়াত জোট নেত্রীর নির্দেশে ও পরিচালনায় গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে যে নাশকতা চালানো হয় তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এখনও অটুট রয়েছে। দু’জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি বিঘিœত করার লক্ষ্যে তারা যে পন্থা বেছে নিয়েছে, তাতে স্বাভাবিক রাজনীতির পথ ছেড়ে সন্ত্রাসের পথকেই মোক্ষ হিসেবে ধরে তারা হত্যার পর হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ যখন স্থিতিশীল, অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে, তখন অস্থিতিশীল, অরাজক অবস্থা সৃষ্টির জন্য মানুষ হত্যার পথ বেছে নেয়ার পেছনে কার্যকারণ তো পুরনো। যুদ্ধাপরাধী রক্ষা, দুর্নীতির মামলা থেকে উদ্ধার, সর্বোপরি যে কোনভাবে সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল। স্বাভাবিক রাজনীতির পথ ছেড়ে তারা চোরোগোপ্তা হামলা, সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করছে। আর এসব হচ্ছে ভাইয়ার নির্দেশে। তিনিই হলেন নাটের গুরু। বিদেশে বসে যে নির্দেশ তিনি অতীতে দিয়ে আসছেন, সেই নির্দেশ কার্যকর করতে দেশে বড়ভাইদের সশস্ত্র তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইতালীয় নাগরিক হত্যায় আটক চারজনের ভাষ্যে ‘বড়ভাই’দের নির্দেশে এ হত্যাকা- ঘটানোর কথা উঠে এসেছে। রংপুর ও ঢাকার হত্যাকা-ে অভিন্ন মিল পাওয়া গেছে। যা প্রমাণ করে ঘটনা দুটি একই সূত্রে গাঁথা। বিদেশী হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাখার জন্য দলীয় হাইকমান্ড তথা ভাইয়ার নির্দেশই যে ছিল মুখ্য, তা অচিরেই প্রকাশ পাবে। বিলাতে বসে জঙ্গীদের নেত্রী ও পৃষ্ঠপোষক বেগম জিয়া ও তার দুর্র্র্নীতিগ্রস্ত হিসেবে খ্যাত পুত্র তারেক রহমান যে সব কলকাঠি নাড়াচ্ছেন, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। দেশে তিন মাস স্বদেশী দেড় শতাধিক মানুষকে পুড়িয়ে মারার পরও যখন লক্ষ্য হাসিল হচ্ছিল না, তখন বিদেশে বসে বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিদেশী হত্যায় এবং ধর্মীয় উৎসবে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করে তোলার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। এ খাতে তারা অর্থ, অস্ত্র দুটোই ব্যবহার করছে।

শুধু বড়ভাইদের নয়, তাদের নেতা কথিত ভাইয়াকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা দেশ ও জাতির স্বার্থে জরুরী হয়ে পড়েছে। ক্ষমাহীন এই সব অপরাধ নির্মূলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়া এখনকার প্রধান দায়িত্ব।